২:৩৪ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | | ২৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৮

South Asian College

কাতারে বাংলাদেশী পেশাজীবিদের কদর থাকলেও উদ্যোগের অভাব

২৬ আগস্ট ২০১৭, ১১:৪০ এএম | ফখরুল


মোঃ এনাম হোসেন,কাতার: মাথাপিছু জিডিপি ও ক্রয়ক্ষমতায় বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী দেশ কাতার।  ২০০৩ সালেও মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির মোট জনসংখ্যা ছিল সাত লাখের নিচে।  জনসংখ্যা বেড়ে ২৫ লাখে পৌঁছলেও এর সিংহভাগই প্রবাসী।  এর বড় অংশ আবার বাংলাদেশী।  ২ লাখ ৮০ হাজার নাগরিক নিয়ে বাংলাদেশীরাই এখন কাতারের চতুর্থ বৃহত্তম জনগোষ্ঠী। 

দেশটির উন্নয়ন পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যান মন্ত্রণালয়ের (এমডিপিএস) হিসাবে, ৮৭টি দেশের নাগরিকদের বসবাস রয়েছে কাতারে।  জনসংখ্যার দিক দিয়ে কাতারে প্রথম অবস্থান ভারতীয়দের।  দেশটিতে অবস্থানকারী ভারতীয়র সংখ্যা সাড়ে ছয় লাখ, যা সেখানকার মোট জনসংখ্যার ২৫ শতাংশ।  এর পরই রয়েছে নেপাল। 

কাতারের মোট জনসংখ্যার ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ বা সাড়ে তিন লাখ নেপালি।  কাতারে বাংলাদেশী রয়েছেন দেশটির মোট জনসংখ্যার ১০ দশমিক ৮ শতাংশ।  আর কাতারের স্থানীয় জনগণ মোট বসবাসকারীর মাত্র ১২ দশমিক ১ শতাংশ, সংখ্যায় যা ৩ লাখ ১৩ হাজার। 

খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ ও ভিশন ২০৩০ ঘিরে নানা উন্নয়নমূলক কাজ করছে কাতার।  এ কর্মযজ্ঞ চলছে অভিবাসী শ্রমিকদের দিয়ে।  এ কারণে গত ১০ বছরে বিপুল সংখ্যক বিদেশী শ্রমিক কাতারে গেছেন।  এ সুযোগ কাজে লাগিয়েছে বাংলাদেশও।  দেশটিতে অভিবাসী বৃদ্ধির হারে প্রথম অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশী নাগরিকরা। 

পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৩ সালে দেশটিতে বাংলাদেশী নাগরিকের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৭ হাজার।  ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮০ হাজারে।  অর্থাত্ তিন বছরেই কাতারে বাংলাদেশী নাগরিক বেড়েছে ১০৪ শতাংশ। 

আগামীতে এ সংখ্যা আরো বাড়বে বলে মনে করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) জাবেদ আহমেদ।  সম্প্রতি এক সাক্ষাতে তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরেই কাতারে নানা ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে।  সামনে আরো বড় নির্মাণ প্রকল্প নেবে দেশটি।  এসব কাজের জন্য তাদের নির্মাণ খাতে বিপুল জনশক্তি প্রয়োজন হচ্ছে। 

বিষয়টি আগেই উপলব্ধি করে সে অনুযায়ী পরিকল্পনা নিয়েছিল মন্ত্রণালয়।  মন্ত্রণালয়ের অধীনে যেসব কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে, সেগুলোয় নির্মাণ খাতের বিভিন্ন কাজের প্রশিক্ষণে জোর দেয়া হয়েছিল।  এসব কেন্দ্র থেকে গত কয়েক বছরে আমরা নির্মাণ খাতের অনেক দক্ষ শ্রমিক পেয়েছি; বিভিন্ন সময় যাদের কাতারে পাঠানো হয়েছে। 

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ থেকে বিদেশগামী শ্রমিকের ২২ শতাংশের গন্তব্য ছিল কাতার।  ২০১৬ সালে বিএমইটি থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বৈধভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি দিয়েছেন মোট ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১ জন বাংলাদেশী।  এর মধ্যে কাতারেই গেছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৩৮২ জন।  আর চলতি বছরের এ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে কাতারে গেছেন ৫১ হাজার ৮৪৯ জন শ্রমিক।  ২০১৫ সালে দেশটিতে পাড়ি দিয়েছিলেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৬৫ জন বাংলাদেশী শ্রমিক। 

বাংলাদেশী জনশক্তির গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হওয়ার পাশাপাশি রেমিট্যান্সেরও বড় উত্স কাতার।  ২০১৬ সালে দেশের প্রবাসী আয়ের ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ আসে কাতার থেকে।  ওই বছর বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশীরা দেশে পাঠান ১ হাজার ৩৬০ কোটি ৯৭ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ।  এর মধ্যে কাতার প্রবাসীরা পাঠান ৫১ কোটি ৫২ লাখ ডলারের বেশি।  তবে চলতি বছরের প্রথম চার মাসে মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৫ শতাংশ এসেছে কাতার থেকে।  ২০১৭ সালের জানুয়ারি-এপ্রিল সময়ে ৪১১ কোটি ৫৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্সের মধ্যে কাতার থেকে এসেছে ১৮ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। 

বড় অবদান সত্ত্বেও কাতারে বাংলাদেশীরা এক রকম অভিভাবক ছাড়াই বসবাস করছেন বলে জানান অভিবাসীরা।  দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে বসবাস করছেন বাংলাদেশী নাগরিক কামরুল ইসলাম চৌধুরী মারুশা ও ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন।  তাদের সাথে  যোগাযোগ করা হলে তারা এই প্রতিবেদককে বলেন, কাতারের শ্রমবাজার বাংলাদেশীদের তুলনায় ভারত, পাকিস্তান ও ফিলিপাইনের জন্য অনেক বেশি সুবিধাজনক।  যেমন ফিলিপাইন দূতাবাস দেশটির শ্রমিকদের জন্য একটি শ্রম কার্যালয় খুলেছে।  কার্যালয়টি খুবই দক্ষ ও পেশাজীবী মনোভাব নিয়ে কাতারে কাজ করছে।  আর বাংলাদেশী শ্রমিকরা কাতারে বসবাস করছেন দূতাবাসের কোনো সহযোগিতা ছাড়াই। 

কাতারে বাংলাদেশী অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকাংশই নির্মাণ খাতের হলেও পেশাজীবী কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনাও চলছে।