১:৪১ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৭, শনিবার | | ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

বাড়ি -বাড়ি বলে স্বামী চলে গেলেন না ফেরার দেশে

নবীগঞ্জে ইউপি সদস্য ব্রীজের নিচে এক যুগ যাবত বসবাস

২৭ আগস্ট ২০১৭, ০৩:২০ পিএম | রাহুল


মিজানুর রহমান সোহেল, নবীগঞ্জঃ  হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রীজের নিচে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিনের পর দিন মাসের পর মাস বছরের পর বছর  স্বপরিবারে বসবাস  করে আসছেন স্থানীয় ভূমিহীন ও ওই ইউনিয়নের সংরক্ষিত জনপ্রতিনিধি রহিমা খাতুন।  এখন তার আক্ষেপ সরকারের পক্ষ থেকে শুধু নামে মাত্র জায়গা দেয়া হলো।  কিন্তু আজো ওই জায়গা বুঝে বাড়ি ঘর নির্মান করে বসবাস করতে পারেননি তিনি । 

এভাবেই বলছিলেন, নবীগঞ্জে আত্মপ্রত্যয়ী সংগ্রামী সাহসী জনপ্রতিনিধি রহিমা খাতুন।  রহিমা খাতুন আক্ষেপ করে বলেন, বিগত দিনে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তার জীবন সংগ্রাম নিয়ে  সংবাদ প্রচার হওয়ার পর নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার তার খোঁজ খবর নেন ।  এবং তাকে সরকার পক্ষ থেকে কয়েক শতক ভুমি দেয়া হবে বলে জানান। 

কয়েক দিন পর আবারো নির্বাহি কর্মকর্তার কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন সরকারের পক্ষ থেকে তাকে (তার স্বামীর নামে) ১২ শতাংশ ভুমি রেজিষ্টারী করে দেয়া হয়েছে।  কিন্তু ওই খবর শোনার পর থেকে অনেক দিন নবীগঞ্জ সাবরেজিষ্ট্রার অফিসে যোগাযোগ করেও ভুমির কোন কাগজ পত্র পেলেন না তিনি।  এদিকে,  জনপ্রতিনিধি রহিমা মেম্বারের স্বামী  মোঃ মকদ্দুস মিয়া গত দু’মাস পুর্বে অসুস্থ হয়ে মারা যান।  স্বামীর মৃত্যুতে জীবন যুদ্ধে পরাজিত রহিমা খাতুন এখন ভেঁঙ্গে পড়েছেন। 

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন,  ব্রীজের নিচে পানির ওপরেই ভাসতে ভাসতে অসুস্থ স্বামীর মৃত্যু হলো। তার স্বামীর বড় স্বপ্ন ছিল সরকারের কাছ থেকে পাওয়া ওই ভুমিতে একটি ঘর করে কিছু দিন শান্তিতে ঘুমাবেন।  কিন্তু এই ঘুম ব্রীজের নীচে পানির উপরে ঘুমাতে হলো। 

রহিমা খাতুন আরো জানান, তাকে যে স্থানে ভুমি দেওয়া হয়েছে , তিনি লোকমুখে জানতে পেরেছেন ওই ভুমির পার্শ্ববর্তী ক্ষমতাধর বাড়ির মালিক তাকে দেয়া ভুমি তাদের বলে বাঁধা প্রদান করছে।  আর এতেই আটকা পরেছে ভুমি  পাওয়ার কাজ।  উল্লেখ্য, নবীগঞ্জের আউশকান্দি ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের মৃত মকদুছ মিয়ার স্ত্রী রহিমা খাতুনের দুই পুত্র ও এক কন্যা রয়েছে পুত্র ও কন্যা বড় হওয়ার পুর্বে বিভিন্ন রোগ ব্যধীতে অসুস্থ হয়ে পড়েন  স্বামী মকদুস। 

তিনিই পরিবারের একমাত্র উপার্জন ব্যক্তি ছিলেন।  অসুস্থ স্বামী ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ে নিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে দিশেহারা রহিমা অসীম সাহস আর দৃঢ়প্রত্যয়ে নেমে পড়েন ঘঠকের কাজে।  মাসে দু-একটা বিয়ে সাদিতে চলতো তার চার সদস্যের সংসার।  দু-এক বেলা তার কপালে ভাত জুঠলেও জুটেনি মাথা গোঁজার জায়গা বাড়ি-ঘর।  রহিমা খাতুনের স্বামীর বাড়িঘর না থাকায় ঢাকা- সিলেট মহাসড়কের আউশকান্দি ইউনিয়নের অতি নিকটে পশ্চিম পার্শ্বেও একটি ব্রিজের নিচে তিনি বসবাস করে আসছেন প্রায় এক যুগ যাবত।  দিন -রাত হাজার হাজার যানবাহন চলাচলা করছে রহিমা ও তার পরিবারের মাথার ওপর দিয়ে। 

এভাবে এক যুগ যাবত ব্রিজের নিচেই বসবাস করে আসছিলেন।  এর মধ্যে বয়স থেকেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে আসতেই নেমে পড়েন জীবনযুদ্ধে স্বামী-সন্তানসহ।  শুরু থেকেই কোন  উপায় না পেয়ে নেমে পড়েন ঘঠকালিতে।  এ থেকে দেখা সাক্ষাৎ হতো এলাকার শিক্ষিত মহিলাদের সাথে।  গ্রাম এলাকার লোকজনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ আর বিভিন্ন গ্রামের মহিলা ও পুরুষের অনুপ্রেরণায় বিগত ইউনিয়ন পরিষদের  নির্বাচনে  সংরক্ষিত সদস্য পদে  সিদ্ধান্ত নেন তিনি।  এবং ওই নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হন তিনি। ।  আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনে বিজয়ী হলেও জীবনযুদ্ধে আজো পরাজিত সংরক্ষিত ইউপি সদস্য রহিমা।   চলতি বছরের ১২ই মার্চ নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ারের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি ওই দিন এ প্রতিনিধিকে বলেছিলেন, বিষয়টি আগে কেউ তাকে জানায়নি। 

তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় দেখে বিষয়টির খোজঁ খবর নিয়ে সংরক্ষিত সদস্য রহিমা বেগমকে পূনর্বাসন করার উদ্যোগ নিয়েছেন।  অতঃপর তাকে আউশকান্দি ইউনিয়নের একটি মৌজার অধীনে থাকা সরকারের খাস ভুমির ১২ শতাংশ ভূমি দেয়া হয়েছে।  এবং এই ১২ শতক ভূমি খুব শীঘ্রই রহিমা খাতুনকে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেয়া হবে বলে জানান।  এব্যাপারে ইউএনও তাজিনা সারোয়ারের সাথে গতকাল রোববার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রহিমা খাতুনকে খাস ভূমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।  বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছেনা কেন ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,ওই জায়গার উপর দুই একটা অভিযোগ এসেছে এবং ওই এলাকার নতুন ভলিয়ম বহি আমাদের কাছে এখনো আসেনি।  এবং সব বিষয় নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করা হয়েছে । 

তিনি আরো বলেন, আশা করি ঈদের পর ইউপি সদস্য রহিমা খাতুনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভুমি বুঝিয়ে দেয়া হবে।