১১:১৫ এএম, ২২ নভেম্বর ২০১৭, বুধবার | | ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

শিপলু হত্যায় ওসির ১০ বছরের কারাদন্ড উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুল সহ ৬ জন খালাস

৩১ আগস্ট ২০১৭, ০৩:২৫ পিএম | রাহুল


হাবিব সরোয়ার আজাদ, নিজস্ব প্রতিনিধি, সিলেট :  সুনামগঞ্জের তাহিরপুর জয়নাল আবেদীন কলেজ শাখার ছাত্রলীগ সভাপতি ওয়াহিজদুজ্জামান শিপলু হত্যা মামলায় বৃহস্পতিবার নির্ধারিত রায়ের দিন বিজ্ঞ আদালত থানার তৎকালীন ওসি শরিফ উদ্দিনকে ১০ বছরের কারাদন্ড প্রদান করেছেন।  এছাড়াও ওই মামলায়  সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল ও এক এসআই সহ বাকী ৬ আসামীঅকে বেকসুর খালাস প্রদান করেছেন। ’ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক বাবু প্রণয় কুমার দাশ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে এ আলোচিত  মামলার রায় প্রদান করেন। ’

আদালত ও মামলার সুত্রে জানা গেছে , বিজ্ঞ আদালতের রায়ে ছাত্রলীগ সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান শিপলু হত্যা মামলায় খালাস প্রাপ্ত আসীমাদের মধ্যে উপজেলার পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল ছাড়াও অন্যরা হলেন তাহিরপুর থানার তৎকালীন এসআই রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপি নেতা জুনাব আলী, ছাত্রদল সভাপতি মেহেদী হাসান উজ্জল, সাবেক ছাত্রদল কর্মী শাহিন, শাহজাহান। ’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি ড. খায়রুল কবীর রুমেন বৃহস্পতিবার দুপুরে রায় প্রদান করার বিষযটি নিশ্চিত করেছেন। ’
ফিরে দেখা: ২০১২ সালের ২০ মার্চ রাত ০৩টার দিকে চারদলীয় জোঠ সরকারের শাসনামলে উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলামকে ভাটি তাহিরপুরের বাসায় তাহিরপুর থানার তৎকালীন ওসি শরিফ উদ্দিনের নেতৃত্বে তৎকালীন থানার এসআই রফিক সহ পুলিশ গ্রেফতার করতে যায়। ’

এক পর্যায়ে গ্রেফতারের বাঁধা দিলে পুলিশ শফিকুলের বাড়িতে থাকা বড়বোনের ছেলে তাহিরপুর জয়নাল আবেদীন কলেজের তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান শিপলুকে গুলি করে হত্যা করে। ’

এ ব্যাপারে থানায় মামলা না নিলে নিহতের মা আমিরুন্নেছা বেগম বাদী হয়ে ২০০২ সালের ২৩ মার্চ ঘটনার তিন দিন পর সুনামগঞ্জ ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে থানার তৎকালীন ওসি শরিফ উদ্দিন, এসআই রফিক ও তৎকালীন সময়ে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল ও সাধারন সম্পাদক মেহেদী হাসান উজ্জল, উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক জুনাব আলী, ছাত্রদল কর্মী শাহিন, শাহজাহান সহ সাত জনকে অভিযুক্ত করে  জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।  ওই মামলায় জুডিসিয়াল তদন্ত শেষে বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট ওই সাত জনের বিরুদ্ধেই আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। ’গত  রোববার ওই হত্যা মামলার বেলা সাড়ে ১০ টা থেকে দুপুর পৌণে ০২টা পর্য্যন্ত সুনামগঞ্জ সহকারি জজ আদালতে যুক্তিতর্ক শেষে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক বাবু প্রণয় কুমার দাস আসামীদের জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেছিলেন।  ’

রায়ের প্রতিক্রিয়া: বাদী পক্ষের মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন মামলার রায় নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে বললেন,শিপলু  হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আসামীদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণাদি বিজ্ঞ আদালতে আমরা সঠিক ভাবে প্রমাণ করার পরও শুধু মাত্র বিজ্ঞ আদালত তৎকালীন ওসি ১০ বছরের কারাদন্ড প্রদান করে অন্যান্য আসামীদের খালাস প্রদান করায় রায় নিয়ে মামলার বাদীনী সন্তুষ্ট হতে পারেনি , যে কারনে ন্যায় বিচার প্রাপ্তির জন্য এ মামলার পুন:বিচারের জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।  ’

আসামী পক্ষের মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন মঞ্জুর চৌধুরী  বৃহস্পতিবার নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বললেন, একজন আসামী খালাস না পাওয়ায় রায় নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি।  ওই মামলায় ৬ আসামী খালাস পেলেও তৎকালীন থানার ওসির ১০ বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত কিন্তু ওসি ওই রাতে তো গুলি করেননি জান –মাল ও সরকারি হাতিয়ার রক্ষার্থে ও হামলা ঠেকাতে গিয়ে পুলিশের তিন কনষ্টেবল গুলি করতে বাধ্য হয়েছিলো, সেখানে ওসিকে সাজা প্রদানের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধই থেকে গেছে, এ নিয়ে ন্যায় বিচার প্রাপ্তির স্বার্থে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ’