১১:১৫ এএম, ২২ নভেম্বর ২০১৭, বুধবার | | ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

নান্দাইলে চামড়া ব্যবসায় শোচনীয় অবস্থা, আড়তে স্তুপ বিক্রী নেই

০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১০:৪৭ এএম | রাহুল


মো. শাহজাহান ফকির, নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : ময়নসিংহের নান্দাইল উপজেলায় পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে কোরবানীর পশুর চামড়া ব্যবসায় খুবই শোচনীয় অবস্থা বিরাজমান।  নান্দাইল উপজেলার নান্দাইল চৌরাস্তা চত্বরে, নান্দাইল উপজেলা সদর সহ বিভিন্ন অস্থায়ী চামড়া বাজারে চামড়ার স্তুপ দেখা যাচ্ছে তবে কোন বিক্রী নেই।  কোরবানীর পশুর চামড়ার টাকা গরীব মিসকিনদের মাঝে বিলি করে দেওয়া হয়।  কিন্তু চামড়া বাজারের অবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় চামড়ার তেমন কোন মূল্য না পাওয়া যাচ্ছেনা।  এতে করে গরীব মিসকিনদের খয়রাতির টাকার অংক নেই বলে চলে।  জানাযায় টানা কয়েক বছরের ধারাবাহিক লোকসানের ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চামড়া ব্যবসায়ীরা। 

স্থানীয় এক চামড়া ব্যবসায়ী ফারুক আহম্মেদ বলেন ‘চামড়া ব্যবসার এখন সর্বোচ্চ দূর্দিন চলছে।  চামড়া কিনে প্রায়ই বিপাকে পড়তে হয়।  তাই চামড়া কিনতে তেমন কোন আগ্রহী দেখাচ্ছেনা চামড়া ব্যবসায়ীরা।  তবে অল্প সংখ্যক বেচা-কেনা চললেও তাও খুব কম।  একটু বড় চামড়া আগে ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকায় আমরা কিনতাম এখন সে চামড়া কিনছি ৭০০ বা ৮০০ টাকা দিয়ে।  আর আগে একটু ছোট চামড়া ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা দিয়ে কিনতাম যেটা এখন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় কিনছি।  আর ছাগলের চামড়া আগে ২০০ বা ২৫০ টাকা দিয়ে কিনতাম এখন সেই চামড়া কিনছি ২০ বা ২৫ টাকা মাত্র।  আর চামড়া কিনে লবন দিয়ে দীর্ঘ দিন রেখে আমাদের দোকান ভাড়াসহ সব মিলিয়ে যে খরচ হয় সেটা উঠাতে পাড়িনা অনেক সময়।  তাই চামড়া কিনতে এখন আর তেমন আগ্রহী নয় কেউ’। 

অপরদিকে এক চামড়া বিক্রেতা মো. নাজমুল হাসান ভূইয়া বলেন যেহেতু চামড়া বাজারে চরম শোচনীয় অবস্থা তাই ১৫০০ টাকা দামের চামড়া বাধ্যতামূলক ৭০০ টাকায় বিক্রী করে দিলাম।  কারন তা নিয়েতো বসে থাকা যাবে না।  তবে সরকারের কাছে দাবী যেহেতু চামড়া শিল্পে বাংলাদেশ একটি ভালো স্থান দখল করেছিলো তাই এর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত। 
   
নান্দাইল চৌরাস্তা বাজারে চামড়া ব্যবসায়ি বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘আগে কোথাও গরু জবাই করলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া নিয়ে আসতাম, এতে সাধারণ মানুষ খুব খুশি হতো আর চামড়ার বাজারও ছিল ভালো।  বর্তমনা চামড়া ব্যবসা দূরাবস্থা হওয়ায় আমাদের একজন শ্রমিকের মজুরি ৫০০ টাকা, ঘর ভাড়া, চামড়ায় লবন দেওয়া সহ যে খরচ হবে তা কিভাবে পোষাব ? মোট কথা চামড়া ব্যবসা একেবারে নাই বললেই চলে।  জানিনা কি কারনে এরকম একটি পরিণত শিল্প একরকম শেষ হয়ে গেল।  এদিকে সরকারের নজর দেওয়া দরকার।  না হলে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের চামড়া শিল্প একেবারে শেষ হয়ে যাবে’। 

অপরদিকে সুশীল সমাজের লোকজন বলছেন, কম দামে কোরবানি পশুর চামড়া কিনতে ট্যানারি মালিকরা বিভিন্ন কারসাজির আশ্রয় নিচ্ছে।  কাঁচা চামড়ার দাম কমাতে তৎপর হয়ে উঠেছে এ শিল্পের শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র।   আড়ত মালিক, পাইকার ও ফড়িয়াসহ সবাই জিম্মি ট্যানারি মালিকদের কাছে।  কারণ চামড়া শেষ অবধি এদের কাছে বিক্রির জন্য আনতে হবে।  শুধু ট্যানারি মালিকদের চরম গাফিলতি ও মনোপলি ব্যবসার কারণে চামড়া শিল্প সম্প্রসারণ হতে পারছে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।