৬:৫৬ পিএম, ২৩ নভেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | | ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে : রিজভী

০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৪:২৮ পিএম | রাহুল


এসএনএন২৪.কমঃ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম অতিশয় চড়া, এর ওপর আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। ’

আজ বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। 

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘গত দেড় বছরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে ৮০ শতাংশের বেশি।  কিন্তু দেশে এখন পর্যন্ত কমানো হয়নি।  এমনকি সরকার কমানোর কথা ভাবছেও না।  ফলে দাম কমার সুবিধা থেকে দেশ বঞ্চিত হচ্ছে।  বর্তমানে দেশে প্রতি লিটার অকটেনের উৎপাদন খরচ ৫০ টাকারও কম।  সরকার বিক্রি করছে ৯৯ টাকা।  পেট্রলের উৎপাদন ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যেও ব্যবধান প্রায় একই রকম।  সরকার দেশে ডিজেল বিক্রি করছে ৬৮ টাকা লিটার।  অথচ ডিজেলের আমদানি মূল্য পড়ছে প্রতি লিটার ৪০ টাকার কম।  বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস তেল সরকার বিক্রি করছে প্রতি লিটার ৬২ টাকা।  ক্রয়মূল্য বর্তমানে ২৫ টাকার মতো। ’

রিজভী আরো বলেন, ‘বিদ্যুতের সঙ্গে সবকিছু সম্পর্কিত।  ২০১০ থেকে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় বছরে পাইকারি পর্যায়ে ছয়বার এবং খুচরা পর্যায়ে সাতবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে।  বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পেলে সবচেয়ে বিপাকে পড়বে সীমিত আয়ের মানুষ।  শিল্প খাতেও পড়বে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাব।  এমনিতে সরকারের লুটপাট আর ভয়াবহ দুঃশাসনে দেশে কোনো বিনিয়োগ নেই।  এমন সময় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা মানেই বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করবে।  এতে গোটা অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়বে।  আবার শিল্পে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলে বাড়বে দ্রব্যমূল্যও।  নিত্যপণ্যসহ সবকিছুর দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা।  এর মাশুলও দিতে হবে সাধারণ ভোক্তাদের।  এমনিতেই মূল্যস্ফীতি অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকায় মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের আকার স্ফীত থেকে স্ফীততর হচ্ছে।  এর ফলে নির্দিষ্ট আয় ও পেশার মানুষের কষ্ট ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে।  এরপর আবার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ব্যয়ভার স্ফীত করার মাধ্যমে দুর্ভোগের মাত্রা বাড়িয়ে দেবে।  কৃষি খাতেও এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। ’
 
রুহুল কবির বলেন, ‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হচ্ছে কুইক রেন্টালের বিদ্যুৎ।  রেন্টাল-কুইক রেন্টাল হচ্ছে আমাদের অর্থনীতির জন্য অভিশাপ।  এসব প্রকল্পের পেছনে জড়িত ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের আত্মীয়স্বজন।  তাদের লুটপাটের আরো বেশি সুযোগ করে দিতেই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।  বিদ্যুৎ-জ্বালানি এখন লুটের খাত।  সরকার তার পছন্দের লোকদের দিয়ে রেন্টাল-কুইক রেন্টাল প্রজেক্ট করিয়েছে। ’