১:২২ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৭, শনিবার | | ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

দিন দিন বিলিন হয়ে নদীর গর্ভে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম

০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৫:০০ পিএম | সাদি


মিজানুর রহমান সোহেল, নবীগঞ্জ : সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার আলোচিত কুশিয়ারা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গঁনে বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্টান,ধর্মীয় উপাসনালয়ের মধ্যে মসজিদ, মন্দির বনজ ও ফলদ সম্পদ, কৃষকদের চাষাবাদের উপযোগী হাজারো একর ভুমিসহ আরো মুল্যমান সম্পদ  দিন দিন বিলিন হয়ে কুশিয়ার নদীর গর্ভে যাচ্ছে ।  এবং গ্রামের পর গ্রাম  হারিয়ে বিলিন হতে চলেছে এলাকার দৃশ্যপট। 

নদীর ভাঁঙ্গনের কারণে  এলাকার অনেক বিত্তশালীরা গ্রামের মায়া ত্যাগ করে কেহ নবীগঞ্জ, মৌলভীবাজার , শ্রীমঙ্গল ও সিলেট শহরে বসবাস করছেন যুগের পর যুগ।  আবার অনেকেই জন্মভুমি ছেড়ে পরিবার-পরিজ্বন নিয়ে প্রবাসে অবস্থান করছেন।  জন্মভুমির মায়ায় আবদ্ধ হয়ে অনেকেই পরিবার- পরিজ্বন নিয়ে পার্শ্ববর্তী আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন।  আবার অনেকেই নদীর তীরবর্তী গ্রামে অন্যর বাড়িতে মানবেতর জীবন যাপন করতে দেখা যাচ্ছে।   তারপর পর আলোচিত কুশিয়ারা  নদীর ধ্বংসলীলা রোধকল্পে প্রয়োজনীয়  পদক্ষেপ কয়েক যুগে ও গৃহীত হয়নি। 

দেখা গেছে ওই নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলো শুস্ক মৌসুমে নদীর নাব্যতা ক্ষয়, ঘর-বাড়ি,বনজসম্পদ, চাষাবাদযোগ্য ভূমি ও বসতবাড়ি ভাঙ্গন সমস্যা, বন্যার তান্ডবলীলায় ফসলহানি, নদীতে চর জাগা, নৌযান চলাচল বিপর্যস্ত, মৎস সম্পদের অভাব, কুশিয়ারার তীর সংরক্ষনে উদাসীনতা ও স্থানীয় জীবনযাত্রার নিন্মমান সেই ব্রিটিশ শাসন থেকে আজো অব্যাহত আছে।  কুশিয়ারা নদীর হিংস্র থাবায় ক্ষতিগ্রস্থ ও গৃহহীন হয়েছেন হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার গালিমপুর, মাধবপুর, কোমারকাদা, মথুরাপুর,ও আহমদপুর গ্রাম,এবং জগন্নাথপুর উপজেলার আটঘর,নোয়াগাঁও রাণীগঞ্জ ও বানিয়াচুং উপজেলার মধ্যে প্রায় পাচঁ ভাগের এক ভাগ জনগোষ্টী। 

এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন বিভিন্ন পেশার লোকজন, চাষাবাদযোগ্য জমি, বাসগৃহ বনজসম্প্দ হারানোর বেদনায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার বিভিন্ন শ্রেনী পেশা লোকজনদে মধ্যেমনের আর্তনাদ প্রকাশ করছেন।  এসব এলাকায় নদী ভাঙ্গনের ফলে মৌলিক অধিকার নিশ্চয়তা  চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। 

এর ফলে ওই এলাকায় বিশেষ করে বেকারত্ব ,অশিক্ষা, দারিদ্রতা আশন্কাজনক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কুশিয়ারা নদীর ধ্বংসলীলা বন্ধ করতে শাহ আশ্রব আলী নামের লোক পানি সম্প্দ মন্ত্রনালয়ের সচিব বরাবর আবেদন করেন।  কিন্তু পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের উন্নয়ন শাখা চেয়ারম্যান বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (ঢাকা) বরাবর পদক্ষেপ গ্রহনের নির্দেশ থাকলে ও আজো আলোর মুখ দেখেনি। 

সব দিক মিলিয়ে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক এলাকার কুশিয়ারা নদীর ক্ষতি ও ভাঙ্গন রোধে পানিসম্পদ মন্ত্রনালয় কোন পদক্ষেপ গ্রহন করলে স্থানীয়দের জীবন যাত্রার মান ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে।  এবং এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ জনগনদের রক্ষা পাবে ভাঁঙ্গন থেকে বসতবাড়ি।  নতুবা দিনের দিন পর আরো ওই নদীর কবলে নতুন নতুন গ্রাম ও জনপদ বিলিন হয়ে হারিয়ে যাবে এলাকার দৃশ্যপট।  ব্যাপক ক্ষতি হবে সরকার বাহাদুরের।