১:৫৯ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার | | ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

রাঙামাটিতে পাহাড় ধস বন্ধ করে দেয়ার পরও ২ আশ্রয় কেন্দ্রে তিরাশি পরিবার

০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৭:১৩ পিএম | রাহুল


এম.কামাল উদ্দিন,রাঙামাটি :   বন্ধ করে দেয়ার পরও রাঙাটিতে পাহাড় ধসের ঘটনায় খোলা ২ আশ্রয় কেন্দ্রে পড়ে রয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ৮৩ পরিবারের ২৪৯ জন মানুষ।  তাদের যাওয়ার কোথাও নেই।  তাই না খেয়েও আশ্রয় কেন্দ্রে পড়ে রয়েছেন বহু পরিবারের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ।  নেই পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা। 

১৩ জুন প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসের ঘটনায় সর্বশেষ চালু রাখা শহরের ৬ আশ্রয় কেন্দ্র বৃহস্পতিবার সরকারিভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়।  কিন্তু কোথাও যাওয়ার রাস্তা না থাকায়  না খেয়ে পড়ে আছেন আশ্রয় কেন্দ্রে।  শুক্রবার বিকালে শহরের রাঙ্গাপানি মোনঘর ভাবনা কেন্দ্র এবং জিমনেসিয়াম কেন্দ্রে গিয়ে এসব হাতাশার কথা ব্যক্ত করেন সর্বশেষ পড়ে থাকা মানুষ।  এ সময় তারা জানান, তখনও রাঙ্গাপানি মোনঘর ভাবনা কেন্দ্রে রয়েছেন ৬০ পরিবারের ২১০ জন এবং জিমনেসিয়াম কেন্দ্রে রয়েছেন ২৩ পরিবারের ৩৯ জন।  তবে অন্য ৪ আশ্রয় কেন্দ্র থেকে সবাই চলে গেছে বলে জানা যায়। 

মোনঘর ভাবনা কেন্দ্রের কালাময় চাকমা ও জিমনেসিয়াম কেন্দ্রের জগদীশ চাকমা বলেন, আমাদের বাড়িঘর সব ভেঙে গেছে।  হারিয়েছি সব সহায়সম্বল।  এতদিন সরকারের আশায় দিন গুনছিলাম।  শেষ পর্যন্ত পুনর্বাসনের কোনো নিশ্চয়তা ছাড়াই আমাদেরকে মাত্র ১০০০ টাকা এবং ২০ কেজি চাল দিয়ে আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বিদায় নিতে বলা হয়েছে।  এগুলো নিয়ে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াব।  আমাদের তো যাওয়ার কোথাও নেই।  নেই কোনো সহায়সম্বল।  না খেয়ে যতদিন পারি তো বাঁচব।  পরে মরণ সময় হলে মরব।  এ ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই।  এভাবে মনে দারুণ হতাশা আর চোখে জল নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন এসব সর্বহারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। 

তারা আরও বলেন, প্রশাসন থেকে আশ্রয় কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়ায় যারা কেন্দ্র ছাড়েননি তাদের জন্য শুক্রবার সকাল থেকে আর কোনো খাবার নেই কেন্দ্রে সর্বশেষ অবস্থান করা এসব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ।  তারা সর্বশেষ সরকারের কাছে দৃষ্টি আকর্ষণ করে আকুতি জানিয়ে বলেন, যদি ১৫ হাজার টাকা এবং কিছু ঢেউটিন দেয়া হলে বিধ্বস্ত ভিটায় গিয়ে মাথাগোঁজার ঠাঁইটুকু করতে পারবেন।  এটুকু হলেই আশ্রয় কেন্দ্র ছাড়তে পারতেন তারা।   

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু শাহেদ চৌধুরী বলেন, আশ্রয় কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়ার বিষয়টি তাদেরকে অনেক আগে থেকেই বলে দেয়া হয়েছে।  আশ্রয় কেন্দ্র চালানোর জন্য সরকারি কোনো বরাদ্দ নেই।  তাই পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী-ই বৃহস্পতিবার সর্বশেষ চালু থাকা ৬ আশ্রয় কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।  এরপরও যারা রয়ে গেছে তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।