২:০১ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার | | ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

বাংলাদেশ-আরকান সংহতি পরিষদের দাবি

রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরকে নাগরিকত্ব সনদ ছাড়াই ফেরত নেয়া হোক

০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১২:৪৪ পিএম | ফখরুল


এসএনএন২৪.কম: অংসান সূচির দাবি অনুযায়ী যেসব রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন তাদের মধ্যে যাদের কাছে মিয়ানমারের নাগরিকত্ব/ আইডি কার্ড আছে তাদেরকে পুনরায় আরাকানে ফেরত যাওয়ার অনুমতি দেয়া হবে তার এই শর্তযুক্ত বক্তব্যটি বিশ্ববাসীর সাথে সম্পূর্ণ ধাপ্পাবাজী ছাড়া আর কিছুই নয়। 

কারণ অংসান সূচির বর্তমান ক্ষমতাসীন দলে আরাকান থেকে নির্বাচিত তার দলীয় ৭ জন মুসলিম রোহিঙ্গা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তার বর্তমান সরকারের সাথে কার্যরত আছেন।  তাহলে প্রশ্ন হলো আরাকান এলাকা থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ভোটে নির্বাচিত এই ৭ জন সংসদ সদস্য কাদের ভোটে নির্বাচনে জয়যুক্ত হয়েছেন? ঐ ৭ জন সংসদ সদস্যকে যারা ভোট দিয়েছেন তারা অবশ্যই মিয়ানমারের বৈধ ভোটার এবং বৈধ নাগরিক। 

এটা অংসান সূচিকে মেনে নিতে হবে।  বাস্তবতা হলো রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী দ্বারা যে ৭ জন পুলিশ হত্যার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বিগত অক্টোবর ২০১৬ সালের সংঘটিত মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক আরাকানের মুসলমানদের উপর হামলা করে হাজার হাজার মুসলিম নরনারী হত্যা ও লক্ষ লক্ষ মুসলমানকে আরাকান থেকে বিতাড়িত করে বাংলাদেশে পুশ ইন করে শরণার্থী বানানো হয়েছে। 

অনুরুপভাবে এবারও রাস্ট্রীয় পরিকল্পনায় এবং বার্মিজ সেনা গোয়েন্দা বাহিনীর মুসলিম জনগোষ্ঠী সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করে সম্পূর্ণ বার্মা রাজ্যকে মুসলিম শূন্য ও একটি বৌদ্ধ ধর্মীয় মৌলবাদী রাষ্ট্র বানানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এবারও গত ২৪ আগস্ট ২০১৭ তারিখে কফি আনানের নেতৃত্বে আরাকানের মুসলিমদের নাগরিকত্ব প্রদানের সুপারিশসহ রিপোর্ট প্রকাশের দিনই রাতের গভীরে কিছু চেকপোস্টে মুখোশ পরিহিত বার্মিজ সেনাবাহিনীর লোকেরা নিজেরাই হামলা চালিয়ে কিছু নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যকে হত্যা করে। 

পরে তারপরের দিন থেকে নিরাপত্তা চৌকিতে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক হামলা করে সেনা সদস্য হত্যার মিথ্যা অজুহাত সৃষ্টি করে তার প্রতিশোধ কল্পে ২৫ আগস্ট গভীর রাত থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাজার হাজার সদস্য এবং বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা আরাকানের সকল মুসলিম গ্রাম/ জনপদ ঘেরাও করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে ২৫ মার্চ কালো রাতের মত সমস্ত রোহিঙ্গা পল­ীতে একযোগে হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ১০ হাজার মুসলিম নারী পুরুষকে হত্যা করেছে এবং প্রায় ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। 

রোহিঙ্গা শরণার্থীরা জান বাঁচানোর তাগিদে তারা চলে আসার সময় তাদের নাগরিকত্ব সনদ ও ভোটার আইডিকার্ডসহ জায়গা জমির কোন ডকুমেন্ট তারা সংগে আনতে পারেননি।  তদুপরি রোহিঙ্গাদের সমস্ত বাড়ী ঘর ও গ্রাম অফিস আদালত স্কুল মসজিদ জ্বালিয়ে দেয়ায় তাদের নাগরিকত্বের কাগজপত্র ও আইডি কার্ড বা কোন ডকুমেন্ট এখন আর তাদের কাছে রক্ষিত নাই।  এ কথাটা অংসান সূচি ভাল করেই জানেন বলে বিশ্ববাসীকে ধোঁকা দেয়ার জন্য নাগরিকত্বের সনদ বা আইডি কার্ড থাকলে তাদেরকে আরাকানে ফেরত নেয়া হবে বলে এই অযৌক্তিক ও অমানবিক শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। 

তাই বক্তাগণ বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রিত তালিকাভূক্ত শরণার্থীদেরকে বিনা শর্তে নাগরিকত্ব দিয়ে আরাকানে ফেরত নেয়ার জোর দাবী জানান এবং জাতিসংঘ শান্তি রক্ষি বাহিনী স্থায়ী ভাবে নিযুক্ত করে তাদের পূর্বেকার জমিজমা স্থাবর অস্থাবার সম্পত্তি ফেরত প্রদানের দাবী জানান এবং তাদেরকে জাতিসংঘ ও বিশ্ব সাহায্য সংস্থা কর্তৃক উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবী জানান।  ৮ সেপ্টম্বর সকাল ১০ টায় চট্টগ্রামস্থ সংগঠনের কার্যালয়ে “আরাকান সংকট ভূতাত্তি¡ক স্ট্র্যটেজি ও বাংলাদেশের করণীয় শীর্ষক” আলোচনা সভা সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ মুছা কলিমুল­াহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। 

এতে আলোচনা অংশগ্রহণ করেন সিনিয়র আইনজীবি আবদুস সাত্তার, ডিএমপির সাবেক পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফরিদ আহমদ চৌধুরী, সিএমপির সাবেক ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গির আলম, হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা আল­ামা মুফতি হারুন ইজহার চৌধুরী, কবি মাহমুদুল হাসান নিজামী, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, সাংবাদিক ওসমান গণি, সাংবাদিক মিজানুর রহমান চৌধুরী, এডভোকেট নিজাম উদ্দিন, মাওলানা রফিকুল ইসলাম, মাওলানা কামরুল ইসলাম, এডভোকেট মো. কায়ছার, কে এম আলী হাসান, কবি মো. ফরিদ মিল­াত, মো. সাব্বির আহমদ, সিরাজুল মাওলা প্রমুখ। 

বক্তারা রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার জন্য বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং বেসরকারী ব্যক্তি ও সংগঠনের ত্রাণ সামগ্রী রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে সহজভাবে পৌছানোর জন্য কক্সবাজার উখিয়া টেকনাফের সরকারী কর্মকর্তাদেরকে নির্দেশ দানের জন্য সরকারের প্রতি দাবী জানান।