২:৪৫ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | | ২৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৮

South Asian College

১ বছরের মধ্যে নগরের মানুষ পরিবর্তন দেখবেন: সিটি মেয়র

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১০:৫৩ পিএম | সাদি


এসএনএন২৪.কম : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেছেন, চলতি অর্থবছরটি আমার জন্য চ্যালেঞ্জের।  ইতোমধ্যে আমি অনেক জনগুরুত্ব এবং দৃশ্যমান উন্নয়নমূলক কাজে হাত দিয়েছি।  যে সব কাজ বাস্তবায়ন করা কঠিন এবং সাহসের।  আশা করছি, আগামী এক বছরের মধ্যে নগরের মানুষ দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখবেন। 

‘চট্টগ্রাম মহানগরের প্রাকৃতিক খাল হতে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ ও নিয়মিত মনিটরিংয়ে গঠিত টাস্কফোর্সের কর্মপরিধি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিপত্র যথাযথ অনুসরণ, সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয় এবং সিটি কর্পোরেশনের অধিক্ষেত্র ভূমি/ ইমারতের বার্ষিক মূল্য নির্ধারণ’ বিষয়ে নগরবাসীকে অবহিতকরণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি আজ এসব কথা বলেন। 

সিটি মেয়র বলেন, আগামী এক বছর আমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।  ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে হকার উচ্ছেদ।  দু’টি বড় ফেডারেশনের নেতৃত্বে নগরে প্রায় ৯ হাজার হকার আছে।  দীর্ঘদিন ধরে তারা ফুটপাত-সড়কে বসে ব্যবসা করে আসছে।  ফলে সড়কে দেখা দিয়েছে বিশৃঙ্খলা।  হকারদের নিয়ে আমি দু’টি বড় জনসভা এবং অন্তত ৩০টি বৈঠক করেছি।  তারা আমাদের প্রস্তাবে সম্মত হয়ে নিয়ম মতে ব্যবসা শুরু করছে।  ইতোমধ্যে নগরের কোতোয়ালি মোড়, নিউমার্কেট মোড়, স্টেশন রোড ও জবিলী রোড হকারমুক্ত হয়েছে। 

নান্দনিক ফুটপাত তৈরি প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, নিউমার্কেট মোড়, কোতোয়ালি, প্রতর্ত্তক মোড়, আউটার স্টেডিয়াম সড়ক এবং জুবিলী রোডে হবে দৃষ্টিনন্দন ফুটপাত।  দেওয়া হবে আইডিকার্ড ও অভিন্ন ডিজাইনের ছাতা, দৃষ্টিনন্দন টাইলস, করা হবে মার্কিং।  এসব কাজের ইতোমধ্যে দরপত্র আহবান করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, ব্যাক্তি মেয়র স্থায়ী নয়।  কিন্তু নগরটা স্থায়ী।  যতদিন পৃথিবী থাকবে ততদিন এই নগর থাকবে।  নগরের বাসিন্দারা থাকবে।  তাই আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য, নান্দনিক ও বিশ্বমানের একটি নগর প্রতিষ্ঠাই আমার লক্ষ্য।  নগরের খাল থেকে অবৈধ উচ্ছেদ প্রসঙ্গে নগর পিতা বলেন, অনেক দিনের পুরোনো একটি জটিল সমস্যা এটি।  ফলে একদিনে তা উচ্ছেদ সম্ভব নয়।  তবে আমরা টাস্কফোর্সের বৈঠকে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে খুব শীঘ্রই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নামব।  এ ব্যাপারে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা প্রভাব খাটানো কোন কিছুই চলবে না। 

তিনি বলেন, খাল দখল নিয়ে আমিও (সিটি কর্পোরেশন) অপরাধী।  আমার নিজের মধ্যেও অপরাধবোধ কাজ করে।  কারণ সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন জায়গায় খাল, নালা-নর্দমা দখল করে স্থাপনা তৈরি করেছে।  ফলে সংস্থা হিবাসে চসিকও অপরাধ করছে।  তবে, আমরা টাস্কফোর্সের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যে সংস্থাই যে স্থাপনাই করুক, আইন মেনে সব স্থাপনাই উচ্ছেদ করা হবে।  কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।  অবৈধ সব স্থাপনাই উচ্ছেদ করা হবে। 

সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয় প্রসঙ্গে আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, চসিকসহ দেশের সব মেয়রই সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ে সিটি কর্পোরেশনে নেতৃত্ব দেওয়ার দাবি করে আসছেন।  কারণ, একমাত্র এ সংস্থারই আছে জনপ্রতিনিধি।  তাই সিটি কর্পোরেশনের জবাবদিহিও বেশি।  প্রধানমন্ত্রী এখন সেই সুযোগ দিয়েছেন।  তাই আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সমন্বয়ের কাজ করব।