৫:৪৯ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার | | ২৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৮

South Asian College

রায়গঞ্জের ৪ শ শিক্ষক-কর্মচারীদের মানবেতর জীবন যাপন

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৩:২৩ পিএম | ফখরুল


এম,আবদুল্লাহ্ সরকার- সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রসায় শিক্ষা দানে নিয়োজিত মানুষগড়ার প্রায় ৪শ  শিক্ষক-কর্মচাররীরা দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবন-যাপন করে আসছেন।  পরিবার নিয়ে চলছে অসহায়ত্ব।  সন্তানের লেখা পড়াও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে অনেকের। 

রায়গঞ্জ উপজেলা শিক্ষক সমিতি ও মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ থেকে জানা যায়, উপজেলার ৫৪টি স্কুল ৩৯টি মাদ্রাসা,৭টি টেকনিক্যাল  এবং ১০টি ডিগ্রী পর্যায়ের কলেজের প্রায় ১৫শ শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছে রায়গঞ্জে।  এইসব প্রতিষ্ঠানের মধ্য প্রায় ২৫ টি স্কুল, মাদ্রাসা ও টেকনিক্যাল কলেজ  এখনও এমপিও ভুক্ত না হওয়ায় প্রায় ৪শ শিক্ষক-কর্মচারী পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।  অর্থাভাবে তাদের পরিজন নিয়ে বেঁেচ থাকারমত আর কোন সহায় সম্বল অবশিষ্ট নেই।  হচ্ছে হবে করেই একঝলক স্বপ্ন নিয়ে দিনের পর দিন বেঁচে থাকার স্বপ্ন ছিল চোঁখে।  এক যুগেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্টান ও শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত না হওয়ায়  সেই স্বপ্ন এখন ঘন কুয়াশায় আচ্ছাদিত হয়ে পড়েছে।  নতুন কোন শিক্ষা প্রতিষ্টান এমপিও না হওয়ার ঘোষনায় ব্যথিত করেছে এই অঞ্চলের শিক্ষক সমাজকে।  এখন কি হবে এদের ? কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে এই বয়সে ? এই চিন্তায় অস্থির সকলে। 
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস জানায় ,উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে স্থানীয় উদ্যোগে সরকারী বিধি পূরণ সাপেক্ষে বিভিন্ন সময় ২৫টি মাধ্যমিক, নিম্ন মাধ্যমিক মাদ্রাসা  প্রতিষ্ঠিত হয়।  অনুমোদিত ম্যানেজিং কমিটি বৈধভাবে শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ দিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর একাডেমিক স্বীকৃতি লাভের আবেদন করার পর পরিদর্শন করে নীতিমালা অনুযায়ী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক একাডেমিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়।  প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে প্রধান শিক্ষক, সুপার, প্রিন্সিপালসহ শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং কর্মচারীরা তাদের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।  কিন্তু আজও তাদের ভাগ্যে জোটেনি সরকারী কোন অনুদান। 
অনুসন্ধানে দেখা যায়, অলিদহ নিম্মমাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়, দেউলমুড়া জিআর বালিকা বিদ্যালয়, করতোয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়,  বাশুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়, ডি.এস.বি উচ্চ বিদ্যালয়, আটঘড়িয়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, চকগোবিন্দপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মোমেনা মোশারফ বিজ্ঞান স্কুল,জঞ্জালীপাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খিরতলা নিম্মমাধ্যমিক বিদ্যালয়, দৈবজ্ঞগাতী টেকনিক্যাল স্কুল এ্যান্ড কলেজ, দেউলমুরা টেকঃ স্কুল এ্যান্ড কলেজ, বাজমতৈল টেকঃ স্কুল এ্যান্ড কলেজ,নিমগাছী টেকঃ স্কুল এ্যান্ড কলেজগুলো একাডেমিক স্বীকৃতি লাভ করে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকারা দীর্ঘ ১২-১৪ বৎসর যাবত অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পাঠদান করে আসছেন। 

এছাড়াও বি.এম ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা,  আমশাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বুলাকিপুর দাখিল মাদ্রাসা, হাসিল দাখিল মাদ্রাসা, গোপালপুর দাখিল মাদ্রাসা, এরান্দহ টেকনিক্যাল মাদ্রাসা, সলঙ্গা মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, কয়ড়া দাখিল মাদ্রাসা, ধামাইনগর দাখিল মাদ্রাসা, মিরের দেউলমুড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষকরাও ধারাবাহিক স্বীকৃতি পাওয়ার পর প্রতিটি বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা  এমপিও ভুক্ত করণের জন্য সংশি¬ষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে।  ভুক্তভোগীরা জানান,দীর্ঘদিন চাকুরী করে বেতন না পেয়ে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীরা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। 

দেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জনের পরও বছরের পর বছর বেতন না পেয়ে অনেক শিক্ষক কর্মচারীরা মুদিখানার দোকান দিয়ে বসেছেন।  এভাবে অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে টিকিয়ে রেখেছেন নিজেদের ভবিষ্যৎ।  কেউবা প্রাইভেট পড়িয়ে সংসার চালাচ্ছেন।  কেউ চাকরি জীবন শেষ করেছেন বিনা বেতনে।  কেউ মারা গেছেন ইতিমধ্যে।  আর পরিবার পরিজন নিয়ে যারা বেঁচে আছেন তাদের সাংসারিক জীবন অচল হয়ে পড়েছে।  এই বয়সে তারা কোথায় যাবেন কি করবেন সেই ভাবনা ভৃক্তভোগী শিক্ষক কর্মচারীদের কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।  

এ ব্যাপারে সলঙ্গা মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার বলেন, একাধিকবার ১০০% রেজাল্ট করার পরও এমপিও ভুক্ত হচ্ছে না উপজেলার এই মহিলা মাদ্রাসাটি।  ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী অনেকেই নিজেদের পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করেন।  এমনকি নিজের স্ত্রী-সন্তানের চাহিদা অনুযায়ী ভরণ-পোষণ করতেও পারছেন না অনেকে। 

জঞ্জালীপাড়া নিম্মমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ.মতিন বলেন,উপায়ন্তর না পেয়ে অনেক শিক্ষক মুদি দোকান দিয়ে বসেছে অনেকেই।   তবুও স্বপ্ন দেখছে ১৩ জন শিক্ষক-কর্মচারী।  জানিনা তাদের কি হবে ? 

এ ব্যাপারে রায়গঞ্জ-তাড়াশের জাতীয় সংসদ সদস্য মম আমজাদ হোসেন মিলন বলেন, সরকার শিক্ষার ব্যাপারে অতি সচেতন।  শিক্ষা বান্ধব এই সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে বিষয়টি রয়েছে।  আশা করছি সারাদেশের মত রায়গঞ্জ উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্টানগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষ  এমপিও ভুক্ত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। 






Abu-Dhabi


21-February

keya