১:৩২ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৭, শনিবার | | ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

বন্যায় সাঘাটায় ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৫:৪৩ পিএম | সাদি


এম. মনিরুজ্জামান বুলেন, সাঘাটা গাইবান্ধা : সাম্প্রতিক বয়ে যাওয়া বন্যায় সাঘাটা উপজেলায় ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট হয়েছে।  বর্তমানে এলাকার জমি থেকে বন্যার পানি নেমে গেলেও জলমগ্ন থাকার কারণে জমির রোপা আমন, আখ, আমনের বীজতলা ও শাকসবজিসহ সব ধরণের ফসল পঁচে বিনষ্ট হয়েছে।  ফসল হারিয়ে এখন এই উপজেলার কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। 

সাঘাটা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলার ১০ ইউনিয়নে ১১ হাজার ৭শ’ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ও ৬শ’ হেক্টর জমিতে আখ, বীজতলা ও শাকসবজির আবাদ করা হয়েছিল।  এর মধ্যে আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে অতি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে যমুনা ও আলাই নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে হলদিয়া, জুমারবাড়ী, কামালেরপাড়া, ঘুড়িদহ, বোনারপাড়া, পদুমশহর, ভরতখালী, সাঘাটা ও কচুয়া এই ৯ ইউনিয়নের সব ক’টি এলাকা প্লাবিত হয়ে জমির ফসল পানির নিচে ১০/১২ দিন ধরে নিমজ্জিত থাকে। 

এতে কমপক্ষে ১০ হাজার হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল পঁচে নষ্ট হয়েছে বলে এলাকার কৃষকরা জানিয়েছেন। 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার রেজওয়ানুল ইসলাম জানান, বন্যায় ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ এখনও সঠিকভাবে নিরুপণ করা হয়নি।  ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ সম্ভাব্য নিরুপণ করতে আরও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে।  তিনি বলেন, পানিতে নিমজ্জিত হওয়া ফসলের ৮৫ ভাগ বিনষ্ট হয়েছে।  খামার পবনতাইড় গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, প্রথম দফায় বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে চরা দামে বাজার থেকে চারা ক্রয় করে ৩ বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ করেছিলাম।  রোপন করার ৩ দিনের মধ্যে আবারো বন্যা এসে সব ধান ক্ষেত বিনষ্ট করেছে। 

ময়মন্তপুর গ্রামের আদর্শ কৃষক আমজাদ হোসেন জানান, ৪ বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ করেছিলাম।  বন্যায় সব বিনষ্ট করেছে।  পরিবারের লোকজন ও গরু-ছাগল এখন কি খেয়ে বাঁচবে এর কোন উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।  স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করেন, বন্যা পরবর্তী সময়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা এলাকায় আসেননি।  এমনকি তাদেরকে এলাকায় খুঁজে পাওয়া যায় না।