৫:৪৯ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার | | ২৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৮

South Asian College

প্রায় ১১ একর খাস জমি খারিজ

নওগাঁর পত্মীতলায় ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৮:২৩ পিএম | সাদি


আব্দুল মান্নান, নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর পত্মীতলা উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে প্রায় ১১ একর খাস জমি ব্যক্তি মালিকদের নামে রেকর্ডভুক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।  এ ব্যাপারে স্থানীয় মোহাম্মদ আলী নামে এলাকার ভূমিহীন মানুষদের পক্ষে গত ২৫ জুলাই ভূমি সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। 

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে ভূমি আপিল বোর্ড (২-৫৫/৯৮ নম্বর মামলা) পোরশা উপজেলার নিতপুরের বাসিন্দা মৃত যমুনা প্রসাদ ভগদ নামের এক ব্যক্তির ১ হাজার ১০০ বিঘা জমি খাস খতিয়ানভুক্ত ঘোষণা করে।  এসব খাস জমি পোরশা, সাপাহার ও পত্মীতলা উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় অবস্থিত।  পত্মীতলা উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মহেষপুর মৌজার আর.এস ৬১৩ নম্বর খতিয়ানের ১০ একর ৭৪ শতক (৩২ বিঘা ৮ শতক) জমি স্থানীয় ভূমিহীন ২৬ জন ব্যক্তি লিজ নেওয়ার জন্য ২০০৫ সালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) এর কাছে আবেদন করেন। 

লিজ না পেলেও ওই ভূমিহীন ব্যক্তিরা ২০০৫ সাল থেকে জমিগুলো ভোগ দখল করে খেয়ে আসছিলেন।  কিন্তু ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি পত্মীতলা উপজেলার মহেষপুর গ্রামের আশরাফ আলী ও আব্দুস সালাম, তকিপুর গ্রামের শরিফুল ইসলাম ও আব্দুল জব্বার, উষ্টি গ্রামের সুরেন কুমার এবং  সাপাহার উপজেলার করলডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল কাদের ওই সব জমি তাঁদের রেকর্ডভুক্ত জমি বলে ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করে দেয়। 

কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আতাউর রহমান মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে ওই ১০ একর ৭৪ শতক জমি ছয়জন ব্যক্তির নামে খারিজ করে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। 

অভিযোগকারী মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘খাস জমি খতিয়ানভুক্ত জমি হওয়ায় ২০০৫ সালে জমিগুলো লিজ নেওয়ার জন্য এলাকার ২৬ জন ভূমিহীন মানুষ ইউএনওর কাছে আবেদন করি।  জমিগুলো আমাদের নামে লিজ না দিলেও বিভিন্ন পরিমাণে দখল করে আমরা কৃষি আবাদ করে আসছিলাম।  কিন্তু হঠাৎ করে গত বছর রেকর্ডভুক্ত জমি বলে কিছু প্রভাবশালী লোক ওই সব জমি থেকে আমাদের উচ্ছেদ করে দেয়।  পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা ঘুষ নিয়ে ব্যাক্তি মালিকের নামে ওই সব খাস জমি খারিজ করে দিয়েছেন। ’

এ বিষয়ে মঙ্গলবার মুঠোফোনে কথা বলা হলে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।  ওউ জমি নিতপুরের যমুনা প্রসাদ ভকত এর নামে আরএস খতিয়ান নং ৬১৩ মূলে তার ওয়ারিশগণ বিক্রি করে।  সেই দলিল দেখে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই এবং সরেজমিন তদন্ত করে ওইসব জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে খারিজ করা হয়েছে।  কোনো খাস জমি মালিকানায় রেকর্ডভুক্ত করা হইনি। 

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযোগকারী মোহাম্মদ আলী শুধু আমার বিরুদ্ধে নয়, এর আগে অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের হয়রানি করার জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন।  তদন্ত করে যার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।  অভিযোগ করাই উনার কাজ। ’

পত্মীতলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল করিম বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।  তদন্ত শেষে এর প্রতিবেদন অতি শিঘ্রই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ’

এ ব্যাপারে নওগাঁর জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান জানান, অভিযুক্ত ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আতাউর রহমানকে বদলী করা হয়েছে এবং খারিজ বাতিল করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  তিনি আরও বলেন, আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।  তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

Abu-Dhabi


21-February

keya