৮:৩৬ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, শনিবার | | ২ মুহররম ১৪৩৯

South Asian College

আতঙ্কে রয়েছে এলাকার নিরীহ সাধারন মানুষ

কুষ্টিয়ায় আ.লীগের সংঘর্ষের ঘটনায় আরও একজনের মৃত্যু

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৬:৫৯ পিএম | সাদি


এসএম জামাল, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের বাখইল গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় আহত আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।  তাঁর নাম শাহানুর রহমান (৪২)।  কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। 

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) তাপস কুমার সরকার বলেন, সংঘর্ষের পর থেকে ওই হাসপাতালে ১২ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন।   মঙ্গলবার রাত পৌনে নয়টার দিকে শাহানুর মারা যান।  তাঁর লাশ ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।  কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম জানান, ওই সংঘর্ষের ঘটনায় মোট তিনজনের মৃত্যু হলো। 

এ ঘটনায় মামলায় এখন পর্যন্ত স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানসহ ৩০ জন কারাগারে আছেন।  গতকাল রাতেও দুজনকে আটক করা হয়েছে।  শাহানুরের মৃত্যুতে যাতে নতুন করে কোনো সংঘর্ষের সৃষ্টি না হয়, সে জন্য এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।  গত বৃহস্পতিবার ঝাউদিয়ার ওই সংঘর্ষে এনামুল হক (৪৫) ও বিল্লাল হোসেন (৪০) নামের দুজন নিহত হন।  সংঘর্ষের ঘটনায় শুক্রবার কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার এসআই কমলেশ দাস বাদী হয়ে হত্যা এবং পুলিশকে মারপিট ও সরকারি কাজে বাধা প্রদানের অপরাধে ১শ’ জন এজাহার নামীয়সহ অজ্ঞাত আরও তিনশ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। 

ওই মামলায় ঝাউদিয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান কেরামত উল্লাহসহ প্রায় ৩০ জনকে পুলিশ আটক করেছে।  তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় অশান্তি বিরাজ করছে।  আতঙ্কে রয়েছে এলাকার নিরীহ সাধারন মানুষ।  ইউনিয়নের আস্তানগর এলাকার এজাহারভুক্ত আসামী মৃত: ইয়াকুব মুন্সীর ছেলে হানিফ মুন্সী, লাল্টু মুন্সী, মৃত: মোবারক ফকিরের ছেলে মোতাহার ফকির, হোসেন মিস্ত্রির ছেলে আজিজ, মৃত: উন্মাদ সকাতীর ছেলে আ: মজিদসহ অন্যান্য আসামীদের আটক না করে নিরীহ জনগনকে আটক করাসহ হয়রানী করছে। 

একটি সুত্র জানায়, আস্তানগর গ্রাম থেকে দুই তিনটি গ্রামের পরে বজরুখ বাখইল গ্রাম।  সেই গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।  অথচ একটি গোষ্টি আস্তানগর গ্রামের সাধারন জনগনকে পুলিশ দিয়ে হয়রানী করেই চলেছে।  সুত্রটি আরও জানায়, এজাহারভুক্ত আসামী হানিফ মুন্সী, লাল্টু মুন্সী, মজিদ সকাতী,সবেদ আলী, সাচ্চু, গফুরসহ তাদের অনুসারীরা এলাকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে এবং সাধারন মানুষকে পুলিশ দিয়ে হয়রানী করে আসছে।  হত্যাকান্ডের আগের দিন আস্তানগর গ্রামের কয়েকটি বাড়ীঘর ভাংচুর করে বলেও জানা যায়।