২:১২ এএম, ২৪ নভেম্বর ২০১৭, শুক্রবার | | ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

পিয়ংইয়ং যাচ্ছেন লালমনিরহাটের মার্শাল আর্ট কন্যা

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৮:২৩ পিএম | সাদি


আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার কৃষক পরিবারের কন্যা সান্তনা রানী রায় পিয়ংইয়ং -এর উদ্দেশ্যে বুধবার ঢাকা ছাড়ছেন।  তিনি ২০তম তায়কোয়ান্দো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে কোরিয়া যাচ্ছেন।  আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ং -এ ২০তম তায়কোয়ান্দো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। 

উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের হরিদাস গ্রামের কৃষক সুবাস চন্দ্র রায় ও মা যমুনা রানীর মেয়ে সান্তনা রানী রায়।  দরিদ্র কৃষক পরিবারের মেয়ে সান্তনা রানী রায় তিন বোন এক ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়।  রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করে এলএলবি শেষ করছেন। 

লালমনিরহাট জেলার প্রথম নারী খেলোয়ার হিসেবে এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন সান্তনা রানী রায়।  বুধবার রাতে সান্তনা পিয়ংইয়ং -এর উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বেন।  যাবার আগে জেলাবাসীকে সান্তনা রানী রায় বলেন, ২০তম তায়কোয়ান্দো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতায় সুযোগ পেয়ে অর্থের অভাবে হতাশা হয়ে পড়েন।  পরে সবার সহযোগিতায় তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ ফি ও পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা সংগ্রহে সক্ষম হন তিনি। 

সবার সহযোগিতায় তার স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে, তিনি তায়কোয়ান্দো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে যাচ্ছেন।  এজন্য সকলের প্রতি তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

তিনি আরো বলেন, ‘আমি পিয়ংইয়ংয়ে বাংলাদেশের একজন তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগী হিসেবে খেলতে যাচ্ছি।  আমি যেন বাংলাদেশের সম্মান রাখতে পারি এজন্য লালমনিরহাট জেলাসহ দেশের সকলের দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করছি’।  তুষভান্ডার মহিলা কলেজের প্রভাষক আব্দুল লতিব বলেন, সবার সহযোগিতায় সান্তনা রানী রায় উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে ২০তম তায়কোয়ান্দো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে বুধবার ঢাকা ত্যাগ করবেন। 

লালমনিরহাট সাপ্টিবাড়ী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সুদান চন্দ্র রায় বলেন, দারিদ্র কৃষক পরিবারের কন্যা সান্তনা রানী রায়।  ছোট বেলা থেকেই মার্শাল আর্ট (তায়কোয়ান্দো) -এর প্রতি তার দুর্বলতা ছিল।  তাই সে দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই মার্শাল আর্ট (তায়কোয়ান্দো) প্রশিক্ষণ নিয়ে আজ একজন মার্শাল আর্ট কন্যা হিসেবে নিজেকে তৈরি করেছেন। 

স্বপ্ন দেখতো সে কোন একদিন বড় কোন প্রতিযোগিতায় দেশের হয়ে অংশগ্রহণ করবে।  তার স্বপ্ন এবার বাস্তবে রুপ নিতে যাচ্ছে।  সান্তনা রানী তায়কোয়ান্দো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতায় বিজয় ছিনিয়ে এনে জেলাবাসীর মুখ উজ্জ্বল করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। 

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে নেপালের কাঠমন্ডুতে সপ্তম এশিয়ান তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম হন সান্তনা রানী রায়।  ২০১৫ সালে ঢাকায় সপ্তম জাতীয় আইটিএফ তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।