১১:৩৬ পিএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, রোববার | | ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

সুনামগঞ্জের বাগলী ও কলাগাঁও সীমান্তের চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বিজিবি

১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৭:২৯ এএম | রাহুল


জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:  সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বীরেন্দ্র নগর বিজিবি ক্যাম্পের বাগলী,সুন্দরবন ও চাঁরাগাঁও বিজিবি ক্যাম্পের কলাগাঁও সীমান্তের চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বিজিবি। 

উপজেলার বাগলী ও কলাগাঁও সীমান্ত এলাকাবাসী জানায়,আজ ভোররাতে চাঁরাগাঁও বিজিবি ক্যাম্পের ১১৯৫নং সীমান্ত পিলারের কলাগাঁও ছড়ার পশ্চিমপাড় দিয়ে ভারত থেকে ৩০০বস্তা (১৫টন) কয়লা পাচাঁর করেছে জঙ্গলবাড়ি গ্রামের চিহ্নিত চোরাচালানী,হুন্ডি পাচাঁর মামলার জেলখাটা আসামী আইনাল মিয়া ও তার ভাতিজা ইয়াবা পাচাঁর মামলার জেলখাটা আসামী আজিজুল মিয়া। 

এর আগে গতকাল ১৩.০৯.১৭ইং বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় একই পয়েন্ট দিয়ে চোরাচালানী আইনাল মিয়া ও আজিজুল মিয়া ২৫০বস্তা (সাড়ে ১২টন) কয়লা পাচাঁর করলেও বিজিবি তাদের আটক করেনি।  ভারত থেকে ২ রাবে পাচাঁরকৃত সাড়ে ২৭টন চোরাই কয়লার মূল্য প্রায় ৩লক্ষ টাকা। 

এছাড়াও এই দুই চোরাচালানী কলাগাঁও ছড়াসহ বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ভারত থেকে গরু,ইয়াবা,হুন্ডি,মদ ও গাঁজা পাচাঁর করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। 

অন্যদিকে গতকাল ১৩.০৯.১৭ইং বুধবার ভোররাতে বীরেন্দ্র নগর বিজিবি ক্যাম্পের বাগলী এলসি পয়েন্ট এলাকা দিয়ে চোরাচালানী মস্তোফা মিয়া হরফে মস্তো মিয়া ও তার সহযোগী লিটন মিয়া গং ভারত থেকে ৪হাজার ৪শত বস্তা (২২০টন) কয়লা পাচাঁর করে বাগলী এলসি পয়েন্টের হালিমের দোকানের পিচনে ১২০টন ও তার পশ্চিম দিকে অবস্থিত বুড়ার দোকানের পিচনে ১০০টন কয়লা মজুদ করে রাখে। 

পরবর্তীতে চোরাই কয়লা বিজিবির সামনে দিয়ে অন্যত্র সড়িয়ে ফেলও এব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি বিজিবি।  এর আগে গত ১২.০৯.১৭ইং মঙ্গলবার সকাল ৫টা থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত চোরাচালানী মস্তো মিয়া গং ৪২টি ইঞ্জিনের নৌকা বোঝাই করে প্রায় ৫শত টন চুনাপাথর বীরেন্দ্রনগর বিজিবি ক্যাম্পের সামনে অবস্থিত রংগাছড়া নদী দিয়ে ওপেন পাচাঁর করলেও এব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি বিজিবি।  পাচাঁরকৃত চুনাপাথরের মূল্য অনুমান ১২লক্ষ টাকা। 

এব্যাপারে চাঁরাগাঁও ও বাগলী শুল্কষ্টেশনের বৈধ কয়লা ও চুনাপাথর ব্যবসায়ী সাফিল উদ্দিন,আশরাফ আলী,রজব আলী,জামাল মিয়া,হোসেন আলী,কাঞ্চন মিয়া,রফিকুল ইসলামসহ আরো অনেকেই জানান,সরকারের লক্ষলক্ষ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে উপজেলার বীরেন্দ্রনগর সীমান্তের বাগলী ও সুন্দরবন এলাকা দিয়ে উপজেলার উত্তরশ্রীপুর ইউনিয়নের রংগাছড়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে চোরাচালানী মোস্তফা মিয়া হরফে মস্তো মিয়া গং এর নেতৃত্বে প্রতিদিন ওপেন চুনাপাথর ও কয়লাসহ মদ,গাজা পাচাঁর করা হচ্ছে। 

প্রতিটন চুনাপাথার পাচাঁর করার জন্য বীরেন্দ্র নগর বিজিবি ক্যাম্পের নামে ২০০টাকা,কোম্পানী কমান্ডারের নামে ১০০টাকা,সাংবাদিকদের নামে ১০০টাকা,থানার নামে ১৫০টাকা,সিও সোর্স পরিচয়ধারী ২জনের নামে ১০০টাকা,কাস্টমসের নামে ১০০টাকাসহ মোট ১হাজার টাকা ও পাচাঁরকৃত ১টন কয়লা থেকে বিজিবি ক্যাম্পের নামে ৫০০টাকা,কোম্পানী কমান্ডারের নামে ১০০টাকা,থানার নামে ৩০০টাকা,সাংবাদিকদের নামে ১০০টাকা,কাস্টমস এর নামে ২০০টাকাসহ মোট ২হাজার টাকা চাঁদা নিচ্ছে চোরাচালানী ও বিজিবি ক্যাম্পের সোর্স পরিচয়ধারী চোরাচালানী মস্তো মিয়া। 

অন্যদিকে জঙ্গলবাড়ি গ্রামের চোরাচালানী আইনাল মিয়া চাঁরাগাঁও বিজিবি ক্যাম্প ও থানা-পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে ভারত থেকে কয়লা পাচাঁরের পর ১ বস্তা কয়লা থেকে চাঁরাগাঁও বিজিবি ক্যাম্পের নামে  ৮০টাকা,থানার নামে ৭০টাকা,কাস্টমসের নামে ৬০টাকা,সাংবাদিকদের নামে ৫০টাকা,সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নের টু আইসির নামে ১০০টাকাসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের নাম ভাংগিয়ে মোট ৬০০টাকাসহ প্রতিটন হিসেবে আরো ৫০০টাকা চাঁদা নিচ্ছে। 

একই ভাবে বিজিবি ক্যাম্পের নামে চাঁদা নিয়ে বিজিবির সোর্স পরিচয়ধারী চাঁনপুর গ্রামের একাধিক চোরাচালান মামলার আসামী আবু বক্কর ও রফিক মিয়া গং লাউড়গড় সীমান্তের যাদুকাটা নদী দিয়ে অবাধে কয়লা,পাথর ও মদ,গাজাসহ চাঁনপুর সীমান্তের বারেকটিলা,রাজাই,নয়াছড়া ও চাঁনপুর এলাকা দিয়ে গরু,মদ,গাঁজা,চুনাপাথর ও কয়লা পাচাঁর করছে। 

বাগলী ও সুন্দরবন এলাকা দিয়ে ভারত থেকে চুনাপাথর ও কয়লা পাচাঁরের ব্যাপারে বীরেন্দ্র নগর বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার সাঈদ বলেন,চুনাপাথর ও কয়লা পাচাঁরের বিষয়টি আমার জানা নেই,এই বিষয়গুলো আমার দেখার বিষয় হলে আমি দেখব। 

সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়ক নাসির উদ্দিন বলেন,সীমান্ত চোরাচালান প্রতিরোধের ব্যাপারে আমার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে,এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।