৮:২১ এএম, ২১ নভেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার | | ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৩০ হাজার নারী অন্তঃসত্ত্বা

১২ অক্টোবর ২০১৭, ০৮:১০ এএম | ফখরুল


এসএনএন২৪.কম:  ক্যাম্পে ৩০ হাজার গর্ভবতী রয়েছেন বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।  এর মধ্যে এক থেকে দুই মাসের গর্ভবতীর সংখ্যাই বেশি।  দিন দিন গর্ভবতীর এ সংখ্যা বাড়ছে।  এরই মধ্যে সাত হাজার তিনশ ৬০ জন গর্ভবতী নারী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কেন্দ্রগুলোর ডাক্তারদের কাছ থেকে চিকিত্সা নিয়েছেন।  এদরে প্রসবকালীন সময় আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে বলে চিকিত্সকরা চিহ্নত করেছেন।  ইতোমধ্যে ক্যাম্পে ভূমিষ্ঠ হয়েছে ৬০০ শিশু। 

গতকাল বুধবার মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন শেষে ইত্তেফাকের কাছে ওই তথ্য প্রকাশ করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম।  তিনি বলেন, বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক।  এখন পর্যন্ত চি?িহ্নত করা হয়েছে এমন প্রসূতির সংখ্যা কমবেশি ৩০ হাজার।  এরা এক থেকে দুই মাসের গর্ভবতী।  মন্ত্রী বলেন, শিশু খাদ্য ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় কোনো কমতি নেই।  ইতোমধ্যে ২০ হাজার নতুন ল্যান্ট্রিন বসানোর কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। 

সূত্র জানায়, ২৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত ৬০০ শিশু জন্মগ্রহণ করেছে।  রোহিঙ্গাদের এমন জন্ম হার শঙ্কিত হওয়ার মতো বলছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব শাহ কামাল।  জন্ম নিয়ন্ত্রণে কোনো পদক্ষেপ এখনো নেওয়া সম্ভব হয়নি কিন্তু বিষয়টি সরকার ভাবছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাত লাখ নারী, পুরুষ ও শিশুকে স্বাস্থ্য সেবার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।  এর মধ্যে এক লাখ ৩৭ হাজার একশ জনকে সিজেলস রুবেলা বা এমআর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।  ৭৩ হাজার ৩২০ জনকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল দেওয়া হয়েছে।  সব মিলিয়ে এরই মধ্যে এক লাখ ৫৪ হাজার ৭৬৮ জনকে চিকিত্সা সেবা দেওয়া হয়েছে।  স্থানীয় অধিবাসীসহ ১২ লাখ লোককে কলেরা ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে ১০ হাজার ২৯৯ জন এতিম শিশু বাংলাদেশে এসেছে।  এ বিষয়ে সমাজ সেবা অধিদপ্তর এরই মধ্যে জরিপ শুরু করেছে।  সরকারের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে তাদের সেবাযত্ন করা হচ্ছে।  বিভিন্ন ধরনের চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ লাখ ১৯ হাজার আশ্রয়প্রার্থী এদেশে প্রবেশ করেছে।  এর আগে আশ্রয়প্রার্থীদের লক্ষ্যমাত্রা চার লাখে নির্ধারণ করা হয়; কিন্তু আশ্রয় প্রার্থীদের প্রবেশ বেড়ে যাওয়ার কারণে লক্ষ্যমাত্রা সাত লাখ নির্ধারণ করা হয়েছে।  এমন অবস্থার কারণে ক্যাম্প স্থাপনে তিন হাজার একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।  প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার সুবিধার জন্য নতুন ক্যাম্প এলাকাকে ২০টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে।  এসব প্রতিটি ব্লকের দায়িত্ব একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।  এসব ব্লক পরে ক্যাম্পে রূপান্তর করা হবে। 

জানা গেছে, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আশ্রয়প্রার্থী রোহিঙ্গাদের সবাইকে খাদ্য সহায়তার সম্মতি দিয়েছে।  আগামী নভেম্বর মাস থেকে চালের পাশাপাশি অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য সরবরাহের বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ডব্লিউএফপি।  এদিকে ২০১৬ সালে বাংলাদেশে আসা অনিবন্ধিত মিয়ানমার নাগরিকের সংখ্যা ৮৭ হাজার।  ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা নাগরিকের সংখ্যা পাঁচ লাখ ৩৭ হাজার। 

সব মিলিয়ে ছয় লাখ ২৪ হাজার জন মিয়ানমার নাগরিক বাংলাদেশে বসবাস করছে।  দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় অনুমান করছে, ২০১৬ সালের আগে ৩-৫ লাখ মিয়ানমার নাগরিক বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। 

তাই জেলা প্রশাসনের আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে নয় লাখ ২৬ হাজার ৪৩১ জন বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক বাংলাদেশে অবস্থান করছে।  এসব অধিক সংখ্যায় মিয়ানমার নাগরিক বাংলাদেশে আসার পর তাদের জন্ম হার দেখে ভীত সরকার।