১০:৫৪ পিএম, ২৩ নভেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | | ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

ব্যবসায়ীদের স্বার্থেই আবারও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন!

০১ নভেম্বর ২০১৭, ০৮:২৩ এএম | নিশি


এসএনএন২৪.কম : ব্যবসায়ীদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতেই সরকার আবারও প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দিয়েছে বলে অভিযোগ জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের। 

কয়লাভিত্তিক বড় কেন্দ্র আনতে ব্যর্থ হওয়ায়,সরকারের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী তেলভিত্তিক কেন্দ্র ধীরে ধীরে না কমিয়ে উল্টো পথে হাঁটছে বলেও মন্তব্য তাদের অনেকের। 

কিন্তু বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর দাবি, জরুরি অবস্থা থেকে এখনো বেরিয়ে আসেনি বিদ্যুৎখাত।  আর উৎপাদনে গ্যাস,কয়লাসহ সব ধরনের জ্বালানির সামঞ্জস্য রাখতে সবসময়ই তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রয়োজন হবে। 

২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পরপরই সংকটময় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর জোর দেয় সরকার।  কিন্তু উৎপাদন খরচ বেশী হওয়ায় বিদ্যুৎখাত নিয়ে করা সে সময়কার মহাপরিকল্পনায় ২০১৪ সালেই তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরে আসার কথা ছিল। 

পরের বছরগুলোতে মহাপরিকল্পনা কয়েক দফা পুনর্মূল্যায়ন করা হলেও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাদ দেওয়া হয়নি।  বরং দিন দিন তা বেড়েছে।  বর্তমানে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ২৮ ভাগের জ্বালানি হিসেবে ফার্নেস ওয়েল ও ডিজেল ব্যবহার করা হয়।  ফার্নেস ওয়েলে খরচ হয় ইউনিট প্রতি প্রায় সাড়ে আট টাকা।  আর ডিজেলে খরচ হয় প্রায় ২০ টাকা।  তা সত্ত্বেও আবার তেলভিত্তিক বিদ্যূৎকেন্দ্র নির্মাণে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রণালয়।  এবার আসছে আরো প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।  ২০১৮ সালের এপ্রিলের মধ্যে প্রায় এক হাজার ৮০০ মেগাওয়াট তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করতে নয়টি প্রতিষ্ঠানকে ১০টি কেন্দ্র নির্মাণে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রণালয়।  আলোচনা চলছে বাকিগুলো নিয়েও। 

ক্যাবের জ্বালানী উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম বলেন, তেল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বা উৎপাদনে ব্যক্তিখাত আগ্রহী।  যেখানে ২০১০ সালে ৬ শতাংশ ছিল বিদ্যুৎ, আর ৩ শতাংশে নেমে আসা ছিল ২০২১ সালের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছিল।  তেল বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর কথা না থাকলেও দেখা যাচ্ছে তেল বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০১৭ সালে ৩০ শতাংশ হয়ে যাচ্ছে। 

২০১৮ সাল নির্বাচনী বছর হওয়ায় লোডশেডিংয়ের মতো সমস্যা কাটিয়ে উঠতেই এমন সিদ্ধান্ত বলে বেশ কয়েকবার জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা।  আবার পরিকল্পনা অনুযায়ী কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র নির্মাণে অগ্রগতি না থাকাও একটি কারণ বলে মানছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। 

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘আমি মনে করি এখনো জরুরি অবস্থা আছে।  কারণ বিদ্যুতের স্থায়ীত্ব আনা, শতভাগ বিদ্যুতায়ন যতক্ষণ পর্যন্ত না হবে, নিরবিচ্ছন্নতা যতদিন যাবত না হবে, ততদিন যাবত কিন্তু একটা জরুরি অবস্থা থাকা উচিত।  কারণ বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে।  আমাদের ভব্যিষত উন্নয়নকে সাপোর্ট দিতে হবে।  আমরা তো রাতারাতি বলতে পারি না কালকে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে আসব, ভূটান থেকে নিয়ে আসব। 

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমাদের বিকল্প জ্বালানিতে যেতে হবে।  যাওয়াটা এবং পরিকল্পনা করে এগুনো এই সময়ের মধ্যে আমাদের বিদ্যুৎও দরকার।  আমরা তো অন্ধকারে বসে থাকতে পারি না।  আমরা লিকুয়িড ফুয়েল থেকে অবশ্যই বেরিয়ে আসব।  কিন্তু আমাদের লিকুয়িড ফুয়েল রাখতে হবে।  কারণ আমাদের পিকিং পাওয়ার হিসেবে লিকুয়িড ফুয়েল রাখতে হবে। 

তবে উৎপাদন ব্যয় বেশী হওয়ায় তেলনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পর দাম সমন্বয় নিয়ে সরকার কিভাবে সিদ্ধান্ত নেবে,তা নিয়েও শঙ্কা আছে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের। 

Abu-Dhabi


21-February

keya