৭:৫৭ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, শুক্রবার | | ৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৯

South Asian College

প্রবাসে থেকেও গৃহবধূকে ‘ভাগিয়ে নেওয়ার’ চেষ্টা!

০৪ নভেম্বর ২০১৭, ০৪:২৫ এএম | নিশি


এসএনএন২৪.কমঃ সিরাজগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কুমার কানুর ছেলে প্রতীক কুমার পাপন মালয়েশিয়া প্রবাসী।  তিনি বিদেশে থেকেই সদ্য অন্যত্র বিয়ে হওয়া সাবেক মুসলিম প্রেমিকাকে ভাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

নিখোঁজের ছয় দিন পর ওই গৃহবধূকে কুষ্টিয়া থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।  তিনি এখন তার বাবার হেফাজতে রয়েছেন।  বর্তমানে বিষয়টি সিরাজগঞ্জ শহরে ‘টক অব দ্যা টাউনে’ পরিণত হয়েছে। 

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন ও উপ-পরিদর্শক আবু জাফর জানান, গত ২৮ অক্টোবর সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের এক ছাত্রী অর্নাস পরীক্ষা দেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন।  তিনি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক কর্মচারীর সদ্য বিবাহিত মেয়ে।  এ ঘটনায় তার ভাই বাদী হয়ে সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। 

তিনি বলেন, মোবাইল ফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে জানতে পারি, মেয়েটি রাজশাহীর সাহেববাজার এলাকায় অবস্থান করছেন।  মালয়েশিয়ার দুটি ও সিরাজগঞ্জের কয়েকটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। 

গত ৩০ অক্টোবরের পর ওই শিক্ষার্থী রাজশাহী ত্যাগ করে কুষ্টিয়ায় অবস্থান নেয়।  এ তথ্যের ভিত্তিতে স্বজনরা ঘটনার ছয় দিন পর কুষ্টিয়ায় অবস্থানরত সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক সাবেক শিক্ষকের বাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার তাকে উদ্ধার করে গভীর রাতে সিরাজগঞ্জ থানায় নিয়ে আসে।  এরপর মেয়েটিকে তার বাবার হেফাজতে দেওয়া হয়। 

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল এলাকার বাসিন্দা ও ঢাকার অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান আকাশ জানান, মালয়েশিয়া প্রবাসী বন্ধু প্রতীক কুমার পাপনের কথামতো মেয়েটিকে নিয়ে রাজশাহী গিয়েছিলাম।  সেখান থেকে যশোর বেনাপোল সীমান্ত পার হয়ে ভারতে থেকে প্রেমিক প্রতীকের কাছে মেয়েটির মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা ছিল। 

তিনি বলেন, ‘উভয়ই বন্ধু হওয়ার কারণে প্রতীককে এ কাজে সহযোগিতা করেছি।  তবে যখন নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি, তখন মেয়েটিকে উদ্ধারে সার্বিক সহযোগিতা করেছি। ’

মেয়েটির বাবা অভিযোগ করে বলেন, ‘সন্তোষ কুমার কানু আমার বন্ধু হওয়ায় তার সঙ্গে আমার পারিবারিক সর্ম্পক ছিল।  এই সুযোগে তার বখাটে ছেলে আমার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে তোলে। ’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর দুই মাস আগে মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দিয়েছি।  এখনও আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়নি।  এ অবস্থায় আবারও আমার বিবাহিত মেয়েকে সে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ভাগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছিল। ’

মেয়েটির বাবা বলেন, ‘প্রতীক বখাটে ছেলে।  সে ২০১৫ সালে ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিল।  কিছুদিন আগেও সে পতিতাসহ শহরের একটি হোটেল থেকে আটক হয়। ’

তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিষয়টি অবগত রয়েছেন।  তাদের পরামর্শে ঘটনার বিষয়ে পরবর্তি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কুমার কানু বলেন, ‘উভয়ের প্রেমের সর্ম্পকের বিষয়টি জানার পর সেপ্টেম্বর মাসে ছেলেকে মালয়েশিয়া পাঠিয়ে দেই।  এরপর অন্যত্র মেয়েটির বিয়ে হলেও তার স্বামী মেয়েটিকে নির্যাতন করা শুরু করেছিল। ’

তিনি বলেন, ‘এ কারণে বন্ধুত্বের খাতিরে আমার ছেলে ওই মেয়েটিকে সহযোগিতা করার জন্য যোগাযোগ করতে থাকে।  পাশাপাশি বিষয়টির সমাধাকল্পে পরামর্শ নেওয়ার জন্য কুষ্টিয়ায় অবস্থানরত তাদের সাবেক শিক্ষকের কাছে যেতে বলেছিল।  এখানে তাকে বিয়ে বা বিদেশে নিয়ে যাওয়ার কোনো বিষয় ছিল না। ’

বেসরকারি ফার্মে কর্মরত মেয়েটির স্বামীর সঙ্গে শুক্রবার মোবাইলে কথা হয় পরিবর্তন ডটকমের।  তিনি বলেন, ‘নিখোঁজ হওয়ার পর স্ত্রীকে খুজে পেয়েছি।  সে এখন তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছে।  এ বিষয়ে আমার অভিভাবকরা যে সিদ্বান্ত নেবে, আমি তাই মেনে নেব। ’

Abu-Dhabi


21-February

keya