৮:০৩ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার | | ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

জেল হত্যা দিবস: মুক্তিযুদ্ধের চার নাবিকের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা

০৮ নভেম্বর ২০১৭, ১০:২৭ এএম | এন এ খোকন


টনি, নিউইর্য়ক প্রতিনিধি : দেখতে দেখতে আরও একটা বছর শেষ হয়ে গেল।  নভেম্বর মাস।  এ মাসে একটা বিশেষ ঘটনা বাংলাদেশীদের জন্যে কষ্টের ও কলঙ্কের চিহ্ন হয়ে আছে, তা হচ্ছে ৩রা নভেম্বর  জেল হত্যা দিবস। 

বাংলাদেশের রূপকারদের মধ্যে প্রধান ৫ জনকে ১৯৭৫ সালে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয় - তাদের মধ্যে চারজনকে সভ্যতার নিয়মনীতি ও আইনের শাসনের চরম লংঘন করে জেলের ভিতর হত্যা করা হয়।  নির্মম হত্যাকান্ডে নিহত চারজন হলেন: সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহম্মেদ, কামরুজ্জামান, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী।  কেন তাদের এই ধরনের একটা নির্মম মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হলো। 

২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করার পর একটা সরকার গঠিত হয় ৩রা এপ্রিল মুজিবনগর নামক স্থানে (মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলা)।  সেই সরকারের চার গুরুত্বপূর্ন পদে ছিলেন এই চার বীর নেতা। 

এই চারজন বীর নাবিক পুরো নয় মাস মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে থেকে পুরো যুদ্ধটা চালিয়ে বিজয়ের বন্দরে পৌছেছিলেন সফলতার সাথে।  তাদের এই নীতির প্রতি আপোষহীতাই তাদের কঠিন পরিনতির দিকে নিয়ে যায়। 

জাতীয় ৪ নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং জেলহত্যাকাণ্ডের বর্বরতায় মদদদাতাদেরও চিহ্নিত করার দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রে যথাযথ মর্যাদায় ৩ নভেম্বর ‘জেলহত্যা দিবস’ পালিত হলো।  এ সময় ১৫ জেলহত্যাকাণ্ড এবং জাতির জনকের খুনি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের মধ্যে যারা এখনও যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে রয়েছে, তাদেরকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে আদালতের রায় কার্যকর করার দাবিও উঠে। 

একইসাথে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় ৪ নেতার নীতি ও আদর্শ বাস্তবায়িত করতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার সংকল্পও ব্যক্ত করা হয়।  এ উপলক্ষে ৩ নভেম্বর শুক্রবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দোয়া-মাহফিল এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে মেজবান পার্টি হলে। 

ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদের সঞ্চালনায় শুরুতেই দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় আতাউল হক গণির নেতৃত্বে।  বিশেষ মোনাজাতে সকলে বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় ৪ নেতার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।  যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান তার শ্রদ্ধাঞ্জলি বক্তব্যে বলেন, পৃথিবীর যে কোন আইনে জেলের ভিতর হত্যা করা একটা জঘন্য অপরাধ।  সেই অপরাধের বিচার বন্ধ করা আরো বড় অপরাধ।  কিন্তু লজ্জাজনক হলেও সত্য এই বিচার নিষিদ্ধ করে আরেক জেনারেল গনতন্ত্রের লেবাসে একটা সংশোধনী সংবিধানে সংযোজন করে।  শুধু তাই নয় - হত্যাকারী সেনাসদস্যের নিরাপদে দেশ ত্যাগ করার সুযোগ করা হয়, পরে তাদের পররাষ্ট্র বিভাগের অধীনে চাকুরী দিয়ে পুরষ্কৃত করা হয়। 

আরও বলেন যারা এ জঘন্য কাজ করেছে তাদের অনেকেই আজ ইতিহাস।  আর যারা বেঁচে আছি - নিজেদের সভ্য বলে ভাবার চেষ্টা করছি তাদের জন্য এটা একটা অতীব জরুরী কাজ- সকল হত্যার বিচার নিশ্চিত করা।  আসুন আমরা সবাই মিলে চিৎকার করে বলি "আইন সবার জন্যে সমান"।  সবার বিচার পাওয়ার অধিকার আছে সে ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেরই হোক আর ২০০২ সালের অপারেশন কিন হার্ট -ই হোক। কিংবা র‌্যাব, কোবরা বা চিতার হাতে বিনাবিচারে নিহত,  সবার জন্যে বিচারের দ্বার উন্বুক্ত হোক। 

আরও বলেন ‘জেলখানায় যারা হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে এবং এমন বর্বরতায় যারা মদদ জুগিয়েছে, তাদের সকলেই একই দোষে দোষী।  ঘাতকদের বিচার হলেও মদদদাতারা এখনও চিহ্নিত হয়নি কিংবা বিচারও শুরু হয়নি।  ভবিষ্যতে এমন বর্বরোচিত আচরণে আর কেউ যাতে সাহস না পায়, সেজন্যেই সকলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। 

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আদালতে দোষী সাব্যস্তদের কেউ কেউ কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে আত্মগোপন করে রয়েছে।  এদেরকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিতে প্রত্যেক প্রবাসীকে সহায়তা করতে হবে। 

ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ বলেন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর বিশ্বাস ঘাতক খন্দকার মুশতাক আহমদকে প্রেসিডেন্ট করে একটা ড্যামি সরকার তৈরী করা হয়।  সেই সাথে শুরু হয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীর উপর নির্যাতন। 

বিশেষ করে কেন্দ্রিয় নেতাদের সামনে দুইটা পথ রাখা হয়, মোশতাকের শিখন্ডী সরকারকে সমর্থন দান নতুবা জেলে যাওয়া।  বেশীর ভাগ নেতারা জেলে চলে যায়।  এর মধ্যে এই চার নেতাও ছিলেন।  বিভিন্নভাবে তাদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করা হয়। 

অবশেষে ৮১ দিনের নকল রাজার মুশতাকের ব্যবহার শেষ হলে যখন তাকে আস্তাকুড়ে পাঠানো হবে বুঝেই গোপনে এই চারনেতাকে হত্যার নির্দেশ দেয় এবং তার অনুগত সেনাসদস্যদের দিয়ে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার মধ্যে তাদের খুন করা হয়। 

জাতীয় চারনেতার মৃত্যু দিবসে আসুন এক মুহূর্তের জন্য কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরন করি তাদের মুক্তিযুদ্ধে অবদানকে।  ঘৃনা করি তাদের হত্যাকারী এবং সেই হত্যার পিছনে থাকা এবং হত্যাকান্ডের সুবিধাভোগী সকল কুচক্রীদের।  আসুন বিচারের জন্যে সোচ্চার হই - তাদের বিদেহী আত্বার প্রতি যথাযথ সন্মান জানাই। 

যুক্তরাষ্ট্র সফরত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসার ড. মোহাম্মাদ সেলিম তোহা বোলেন ৭৫’ এর ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর বাংলাদেশকে পুরোপুরি নেতৃত্ব শূন্য করার পরিকল্পনা নেয় ঘাতকরা৷ আর তাই ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর কারাগারের অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় জাতীয় ৪ নেতাকে৷

আরও বলেন আগষ্টেই জাতীয় ৪ নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে আটক করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়৷ ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর কারাগারের অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় জাতীয় ৪ নেতাকে৷

তখন কারগারের জেলার ছিলেন আমিনুর রহমান৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে জানান, সেই নির্মম হত্যাকান্ডের কথা৷ তিনি বলেন, তখনকার আইজি প্রিজন নুরুজ্জামান ৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে সেই রাতে কারাগারে প্রবেশ করেন৷ এরপর টেলিফোনে খন্দকার মোশতাক ৪ নেতার নাম জানিয়ে দেন৷ তাদের নিউ সেলে জড়ো করে ঘাতকরা ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে৷

আরও বলেন হত্যাকান্ডের ২ দিন পর পরিবারের সদস্যদের কাছে জাতীয় নেতাদের লাশ হস্তান্তর করা হয়৷ কিন্তু তা ছিল সেনা পাহারায়৷ তার আগে কারাগারের ভেতরে লাশের ময়না তদন্ত হয়৷

তবে তখনকার ডিআইজি প্রিজন কাজী আবদুল আউয়াল ৩রা নভেম্বরেই লালবাগ থানায় অনেকটা গোপনে হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন৷

আমিনুর রহমান জানান, তখনকার আইজি প্রিজন নুরুজ্জামান জানতেন যে ৪ নেতাকে কারাগারের অভ্যন্তরে হত্যা করা হবে৷ কিন্তু কারাগারের আর কোন কর্মকর্তা ভাবতেই পারেননি যে ওই রাতে এমন পৈশাচিক হত্যাকান্ড ঘটবে৷

অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আকতার হোসেন, মাহবুবুর রহমান, সৈয়দ বসারত আলী, আবুল কাশেম, শামসুদ্দিন আজাদ, লুৎফুল করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মোজাাহিদুল ইসলাম, এান ও পূর্নবাসন বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গির হোসেন, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক মিসবাহ আহমেদ, শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক ফরিদ আলম, কোষাধ্যক্ষ আবুল মনসুর খান, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, উপ-দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মালেক, উপ-প্রচার সম্পাদক তৈয়বুর রহমান টনি, প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক সোলায়মান আলী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শিরিন আকতার দীবা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য জহিরুল ইসলাম, শামসুল আবদিন, মুজিবুল মাওলা, রফিকুল ইসলাম পাটয়ারী, আমিনুল ইসলাম কলিন্স, নুরুল আফসার সেন্টু, আজাহার হোসেন লিটন, খোরশেদ খন্দকার। 

মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক শিবলী ছাদেক, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মোর্শেদা জামান, আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. আব্দুল কাদের মিয়া, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নুরুজ্জামান সর্দার , স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাখাওয়াত বিশ্বাস, আনিসজ্জামান সবুজ, কবির আলি, কিবরিয়া, মুক্তিযোদ্ধা নুরে আলম বাবু, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল বারি, ষ্টেট আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি রফিকুল ইসলাম, শেখ আতিকুল ইসলাম, যুবলীগের শেখ জামাল হুসেইন, সেবুল মিয়া, হুমায়ন চৌধুরী, ইফজাল চৌধুরী, নুরুল ইসলাম, নান্টু মিয়া, কৃষক লীগের আলি আক্কাস, প্রমুখ। 

নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও ছিলেন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ শাহনাজ, নার্গিস আহমেদ বিউটি,নুরুনাহার গিনি, ফরিদা আরভি, আ’লীগ নেতা খসরুজ্জামান খসরু, শাহদাত হোসেন, মোঃ জসীম উদ্দিন, মোঃ মাঈনুদ্দিন, হুমায়ন কবির, পারভেজ জাহাঙ্গীর, কফিল চৌধুরী, বি,এম,হীরু ভূইয়া, বক্সার সৈয়দ এনায়েত আলী, আবুল কাসেম ভূইয়া, শ্রমিক লীগের সভাপতি আজিজুল হক খোকন, টি মোল্লা, প্রমুখ। 

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগ, বিভিন্ন বরো আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীর সমাগম ঘটে।