৩:১৭ এএম, ২১ নভেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার | | ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

পুলিশের কারনে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে

০৯ নভেম্বর ২০১৭, ০২:৫৭ পিএম | রাহুল


এসএনএন২৪.কম : বাংলাদেশ ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার উদ্যোগে সুদীপ্ত, দিয়াজ ও সোহেলের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার (৮নভেম্বর) বিকেলে ডবলমুরিং থানা ছাত্রলীগের এক বিক্ষোভ সমাবেশ ডবলমুরিং থানা মোড়ে অনুষ্ঠিত হয়। 

উক্ত সমাবেশ মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু’র সভাপতিত্বে এবং মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি’র পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়।  এসময় বক্তারা বলেন, রক্তের হুলি খেলা এখনো শেষ হয়নি। খুনিরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রক্তের হুলি খেলা খেলতে কাজ করে যাচ্ছে।  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকের মাথায় গুলি ধরে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে।  কারা এই হুমকি দিয়েছে তা পানির মতো পরিস্কার হয়ে গেছে।  যারা হুমকি দিয়েছে তাঁরাই পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।  জাতির বিবেককে তালাবদ্ধ করে কারা চট্টগ্রামে অপরাজনীতি শুরু করেছে তা চট্টগ্রামের মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।  এই অপশক্তির নেপথ্যে জড়িত রয়েছে মাফিয়া চক্রের গডফাদাররা। 

যাদের স্বার্থের রক্ষাকবচের জন্য খুন হয়ে ছিল কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক দিয়াজ ইরাফান চৌধুরী।  দিয়াজের হত্যাকারীদের যারা রক্ষা করার কৌশল নিয়ে কাজ করেছে একই ব্যাক্তিগুলোর সরাসরি নির্দেশে নগর ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক সুদিপ্ত বিশ্বাস খুন হয়েছে।  নগর ছাত্রলীগের সদস্য নাছিম আহমেদ সোহেলের খুনীদের রক্ষা করতে একই চক্রটি নগর জুড়ে হাঙ্গামা ভাংচুর চালিয়ে ঘটনা ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে এবং খুনীদের পালিয়ে যাওযয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল। 

ছাত্রলীগের পদধারী নেতাদের হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকে মেধা মননের শক্তির ক্ষয় করতে কাজ করছে দুষ্কৃতিকারীরা।  ভাবতে অবাক লাগে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে জেলা পুলিশ দিয়াজের খুনিদের গ্রেফতার করেনি।  সুতরাং খুনিদের পেছনের শক্তি কারা এখানে পরিস্কার হয়ে যায়।  অবাক করে দিচ্ছে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশও।  সুদিপ্ত বিশ্বাসের হত্যাকারীদের বিগত ৩রা নভেম্বর নগরীর লালখান বাজার মোড়ে মিটিং সমাবেশ করতে দেখা গেছে।  খুনিরা এখন হুংকার দিয়ে প্রতিবাদকারীদের খুন করার হুমকি দিচ্ছে আর সদরঘাট থানার ওসি মর্জিনা বেগম সহ মেট্টোপলিটন পুলিশ খুনি চক্রের সাথে হাত মিলিয়েছে। 

গনমাধ্যমে বারবার খুনিদের কথা উঠে এসেছে কিন্তু খুনি গ্রেফতার হয়নি।  ছাত্রলীগ নেতা নাছিম আহমেদ সোহেলের হত্যা কারীদের বাঁচাতে একটি সুষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন আজো তৈরী করতে পারেনি পুলিশ।  বিচারহীনতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে চট্টগ্রাম জেলা ও মেট্টোপলিটন পুলিশ।  আমরা ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা তাই চট্টগ্রামে শপথ নিয়েছি খুনির বিচার নিশ্চিত না করে ঘরে ফিরে যাবো না। 

আমরা আগেও দাবী করেছিলাম চট্টগ্রামের পুলিশ প্রশাসনের কোমর ভেঙ্গে দিয়েছে মাফিয়া চক্র।  আর আজ দাবী করছি, চট্টগ্রাম পুলিশ প্রশাসনকে মাফিয়া গ্রাস থেকে রক্ষা করতে হবে।  নয়ত সরকারের ভাবমূর্তি নস্যাৎ করতে চট্টগ্রামের জেলা পুলিশ ও চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ যতেষ্ট।  সমাবেশ শেষে হাজার ছাত্রের সমন্বয়ে এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল নগরীর দেওয়ান হাঁট থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিন করে। 

খুনিদের গ্রেফতারে ছাত্রলীগের এ বিশাল মিছিলকে সড়কের দুপাশের সাধারণ জনগণ হাত উচিয়ে সমর্থন করতে দেখা গেছে এসময়।  উক্ত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তারেক, আশিকুন নবী চৌধুরী, মেজবাহ উদ্দিন মোরশেদ, পাভেল ইসলাম, সাবেক নগর ছাত্রলীগ নেতা মোছলেম উদ্দিন আহমেদ শিবলী, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বর্তমান সদস্য ইয়াছিন আরাফাত কচি, রুমেল বড়ুয়া রাহুল, সহ সভাপতি নাজমুল হাসান রুমি, একরামুল হক রাসেল, জয়নাল উদ্দিন জাহেদ, নাঈম রনি, নোমান চৌধুরী, সৌমেন বড়–য়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর, রনি মির্জা, সুজন বমর্ণ, গোলাম সামদানি জনি, সাংগঠনিক সম্পাদক খোরশেদ আলম মানিক, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য মিয়া মোহাম্মদ জুলফিকার, মো: ওমর ফারুক, তুষার ধর, হালিম সিকদার মিঠু, কবির আহমেদ, আবদুল আল মামুন, মিজানুর রহমান মিজান, মনির আহমেদ, মো: বিন ফয়সাল, মাহমুদুল হাসান, সদস্য জাকারিয়া হাবিব জাবির, আরাফাত রুবেল, শেখর দাশ, মিজানুর রহমান, ইকবাল হোসেন নয়ন, ইসমাইল হোসেন বাতেন, হুমায়ন কবির হিমু, ফখরুল ইসলাম, ফরহদা সাঈম, ফয়সাল অভি, মোশারফুল হক পাভেল, মো: সাজ্জাদ চৌধুরী, মহানগর ছাত্রলীগ নেতা বিকাশ দাশ প্রমুখ।