৮:৪১ এএম, ২১ নভেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার | | ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

বরগুনা গৃহবধুকে পিটিয়ে হত্যাঃ ২৩ দিন পরে মামলা

১০ নভেম্বর ২০১৭, ১১:১৯ পিএম | সাদি


কে.এম.রিয়াজুল ইসলাম, বরগুনা প্রতিনিধি : বরগুনার আমতলী উপজেলা উত্তর গাজীপুর বন্দরের শাহজাহান মুসুল্লী (৬৫) তার  স্ত্রী আকলিমা বেগমকে (২৭) পিটিয়ে হত্যার ২৩ দিন পরে আমতলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।  নিহত আকলিমার বাবা তাজেম আলী খান বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে জামাতা শাহজাহান মুসুল্লিকে প্রধান করে পাঁচজনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। 

জানা গেছে, উপজেলা পশ্চিম সোনাখালী গ্রামের তাজেম আলী খানের কন্যা আকলিমাকে উত্তর গাজীপুর বন্দরের শাহজাহান মুসুল্লী ২০১০ সালে জোরপূর্বক বিয়ে করে।  বিয়ের পর থেকে আকলিমাকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে আসছে।  ওই সময় থেকে আকলিমাকে বাবার বাড়ী যেতে দেয়নি।  এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে বহুবার সালিশ বৈঠক হয়েছে। 

গত ১৭ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুরে আকলিমাকে বোন শেফালী বাবার বাড়ী বেড়াতে নিয়ে যেত এলেও তাকে যেতে দেয়নি।  উল্টো বাবার বাড়ী থেকে নিতে আসায় ক্ষিপ্ত হয় স্বামী শাহজাহান মুসুল্লী।  এক পর্যায় রেইন্টি গাছের লাঠি দিয়ে আকলিমাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।  এতে আকলিমা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।  পরে স্থানীয় চিকিৎসক মোঃ জসিম উদ্দিনকে ডেকে আনলেও ততক্ষণে আকলিমা মারা যায়।  পরে ঘরের মধ্যে লাশ ফেলে রেখে শাহজাহান পালিয়ে যায়। 

খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে প্রেরণ করে।  এরপর এ হত্যাকান্ডকে শাহজাহান মুসুল্লী ও তার আত্মীয়স্বজন আত্মহত্যা বলে প্রচার চালায়।  তখন পুলিশ হত্যার অভিযোগে মামলা না নিয়ে অপমৃত্যু মামলা নেয়।  গত ৮ নভেম্বর বুধবার ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পুলিশের হাতে পৌছে।  পুলিশ নিহত আকলিমার বাবাকে ডেকে হত্যা মামলা করার পরামর্শ দেয়।  ঘটনার ২৩ দিন পরে বৃহস্পতিবার রাতে বাবা তাজেম আলী খান বাদী হয়ে জামাতা শাহজাহান মুসুল্লীকে প্রধান আসামী করে ইউনুস মুসুল্লী, হাসান মুসুল্লি, তানিয়া ও খলিল মুসুল্লীর নামে আমতলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। 

নিহত আকলিমার বাবা হতদরিদ্র তাজেম আলী খান  বলেন, ৭ বছর পূর্বে শাহজাহান মুসুল্লী আমার মেয়েকে জোরপূর্বক বিয়ে করে।  বিয়ের পর থেকে আমার মেয়েকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে আসছে।  ৭ বছরে একদিনও মেয়েকে আমার বাড়ীতে আসতে দেয়নি।  তিনি আরো বলেন, আমার মেয়েকে জামাতা শাহজাহান মুসুল্লী ও তার সহযোগীরা পিটিয়ে হত্যা করেছে।  এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অপপ্রচার চালায়।  পরে তার আত্মীয় স্বজন আমাকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মামলা না করার জন্য চাপ দেয়। 

আমতলী থানার ওসি মোঃ শহিদ উল্যাহ বলেন, নিহত আকলিমা’র ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে পিটিয়ে হত্যার আলামত রয়েছে।  এ প্রতিবেদন পাওয়ার পরে নিহত আকলিমার বাবা তাজেম আলী খান থানায় হত্যা মামলা করেছেন।  আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।