৫:০২ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০১৭, শুক্রবার | | ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

০২ বছর পূর্বের ক্লু-বিহীন হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, হত্যাকারী গ্রেফতার

১১ নভেম্বর ২০১৭, ০৫:২৩ পিএম | মুন্না


এসএনএন২৪.কম : গ্রেফতারকৃত হত্যাকারী ০১) মোঃ আলী খোরশেদ (৩৩), পিতা-মোঃ ফারুক আহাম্মদ মিয়া, মাতা-ছেনোয়ারা বেগম, সাং-বিবিরহাট, দৌলতপুর, থানা-ফটিকছড়ি, জেলা-চট্টগ্রাম। 

১০ নভেম্বর ২০১৭ তারিখ ০২ বছর আগের ক্লু-বিহীন হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন সহ হত্যাকারীকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুর্লিশ।  ঘটনার বিবরণে জানা যায় ১৪/১০/২০১৫খ্রিঃ তারিখ গার্মেন্টস কর্মী রুমা আক্তার তাহার প্রায় ১০ বছর বয়সী শিশু কন্যাকে নগরীর উত্তর কাট্টলী শান্ত নীল চৌধুরী বাড়ি মাজেদার কলোনীস্থ তাহার ভাড়া ঘরে রাখিয়া প্রতিদিনের মত সকাল ০৮.০০ঘটিকার সময় ডিউটির জন্য গার্মেন্টস এ গমন করলে দুপুর ১৩.০০ তাহার প্রতিবেশী তাহাকে ফোনে জানায় তাহার মেয়ে ঘরের টিনের চালের বাঁশের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। 

রুমা আক্তার ঘরে আসিয়া মেয়ের লাশ নামাইয়া ঘটনাটি থানা পুলিশকে অবহিত করিলে পুলিশ ভিকটিমের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত সহ লাশের ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করে এবং থানার অফিসার ইনচার্জ আকবর শাহ্ থানার অপমৃত্যু মামলা তাং-১৪/১০/২০১৭খ্রিঃ রুজু করেন।  পরবর্তীতে ২৬/১১/২০১৫খ্রিঃ তারিখ লাশের ময়না তদন্ত রিপোর্ট প্রাপ্তির পর পর্যালোচনায় দেখা যায় লাশের ময়না তদন্তকারী ডাক্তার মতামত দেন যে মৃত্যুর ঘটনাটি Homicidal in nature.

উক্ত রিপোর্টপ্রাপ্তির পর অপমৃত্যু মামলাটির তদন্তকারী অফিসার এসআই/জসীম উদ্দীন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা রুজু করেন।  চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মাননীয় কমিশনার মহোদয় মামলাটিকে গুরুত্ব প্রদান করিয়া মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও মামলার ঘটনার সহিত জড়িত প্রকৃত আসামীদের গ্রেফতারে দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহনের নিমিত্তে মামলার তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের উপর ন্যাস্ত করেন। 

বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তদন্তকারী অফিসার তদন্ত করিলেও বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ আবু ছালেক ভিকটিমের পিতার দ্বিতীয় বিয়ের সূত্র ধরিয়া তদন্তে অগ্রসর হন এবং ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার জনাব মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, অতিঃ উপ-পুলিশ কমিশানর জনাব এএএম হুমায়ুন কবির এর সহিত ডকেট সহ আলোচনা করেন। 

তাহাদের দিক নির্দেশনায় এরই ধারাবহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভিকটিমের পিতা তথা হত্যাকারী মোঃ আলী খোরশেদ অবস্থান নির্ণয় করিয়া  ১০/১১/২০১৭খ্রিঃ তারিখে অতিঃ উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-বন্দর) জনাব এএএম হুমায়ুন কবীর, পুলিশ পরিদর্শক জনাব প্রিটন সরকার সহকারে অভিযান পরিচালনা করিয়া চট্টগ্রাম জেলার স›দ্বীপ থানা এলাকা হইতে বর্ণিত আসামী মোঃ আলী@খোরশেদ’কে গ্রেফতার করেন।  গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার কথা স্বীকার করিয়া বিস্তারিত বর্ননা করে। 

ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে, ধৃত আসামী মোঃ আলী খোরশেদ রাজ মিস্ত্রির কাজ করতো এবং উত্তর কাট্টলী এলাকায় বসবাস করতো।  ভিকটিমের মাতা রুমা আক্তার গার্মেন্টসে চাকুরী করিত এবং একই এলাকায় বসবাস করিত।  দুজন ভালোবেসে ২০০৫ সালে পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। 

তাহাদের ঘরে ভিকটিম কন্যা সন্তান উম্মে সালমা রুমা জন্মগ্রহন করে।  ২০১১ সালে ভিকটিমের পিতা মোঃ আলী খোরশেদ দ্বিতীয় বিবাহ করিলে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হয় এবং এ নিয়ে ১ম স্ত্রী রুমা আক্তারের সহিত প্রায়ই ঝগড়া-ঝাটি লাগিয়া থাকিত।  ঘটনার কিছুদিন পূর্ব হইতে আসামী মোঃ আলী খোরশেদ এর হাতে কোন কাজ কর্ম না থাকায় সে বেকার হইয়া পড়ে। 

হাতে কোন টাকা পয়সা না থাকায় ঘটনার পূর্বের দিন  ১৩/১০/২০১৫খ্রিঃ তারিখে সে তাহার প্রথম স্ত্রী রুমা আক্তার এর বাসায় গিয়ে টাকা পয়সা দাবী করিলে রাতে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়।  ঘটনার দিন সকাল ০৮.০০ ঘটিকায় রুমা আক্তার কোন রান্না-বান্না না করিয়া গার্মেন্টসে ডিউটি করার জন্য গমন করে।  আসামী মোঃ আলী খোরশেদ রাতে রুমার বাসায় থাকিয়া সকালে খাওয়ার জন্য কিছু না পাইয়া ক্ষুদায় কাতর হইয়া ঘরে বসিয়া থাকে। 

তাহার কাছে কোন টাকা না থাকায় সে কিছু ক্রয় করিয়া খাইতেও পারে নাই।  তাহার মেয়ে ভিকটিম উম্মে সালমা রীমা(১০) নাস্তার জন্য টাকা চাইলে সে উত্তেজিত হইয়া তাহাকে সজোরে আঘাত করিলে উম্মে সালমা রীমা অজ্ঞান হইয়া পড়ে।  কিছুক্ষণ চেষ্টার পরও ভিকটিমের জ্ঞান না ফেরায় সে কিংকর্তব্যবিমুঢ় হইয়া নিজেকে রক্ষার নিমিতে ঘরে রাখা তাহার প্রথম স্ত্রীর ওড়না প্যাঁচাইয়া রুমার ভাঁড়া ঘরের টিনের চালের নিচের বাঁশের সাথে ঝুলাইয়া চলিয়া যায়। 

পরবর্তীতে রুমার প্রতিবেশীগণ হত্যাকারী মোঃ আলী খোরশেদ এর মোবাইল ফোনে তাহার মেয়ে আত্মহত্যা করিয়াছে মর্মে জানাইলেও সে আর বাসায় ফিরে না আসিয়া প্রথমে কুমিল্লা ও পরে সন্ধীপ চলিয়া যায়।