১২:৩৫ এএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৭, শনিবার | | ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

‘সংবিধান অনুযায়ী ওয়াহহাব মিঞাই প্রধান বিচারপতি’

১১ নভেম্বর ২০১৭, ০৭:০৬ পিএম | সাদি


এসএনএন২৪.কম :  আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক জানিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আব্দুর ওয়াহহাব মিঞাই এখন প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করবেন। 

অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত প্রধান বিচারপতি পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর শনিবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে গুলশানে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের এ কথা জানান আইনমন্ত্রী। 

এসকে সিনহার পদত্যাগে বিচার বিভাগে কোনও ধরনের শূন্যতা তৈরি হবে না বলেও এসময় সাংবাদিদের জানান তিনি। 

তিনি বলেন, ‘নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ না দেয়া পর্যন্ত দায়িত্বরত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞাই দায়িত্ব পালন করে যাবেন। ’ তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দায়িত্বে আছেন অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা।  প্রধান বিচারপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পরও যতক্ষণ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নতুন একজনকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ না দিচ্ছেন, ৯৭ অনুচ্ছেদ বলে ততক্ষণ পর্যন্ত অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি থাকবেন মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা। ’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘পদ যদি শূন্যও হয়ে থাকে, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা যতক্ষণ না পর্যন্ত প্রয়োগ করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কাজ হবে, কোনো শূন্যতার সৃষ্টি হয়নি। ’

প্রধান বিচারপতির পদত্যাগে গোটা জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। 

তিনি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতিকে ছুটি নিতে সরকার বাধ্য করেছে।  এতে করে বিচারবিভাগের যেটুকু স্বাধীনতা ছিল সেটাও এই সরকার নস্যাৎ করেছে। ’

এরই জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতির পদত্যাগে কোনো শূন্যতা সৃষ্টি হয়নি।  বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘যারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চান, তারা হয়ত এসব কথা বলেন।  আমি তাদেরকে শুধু বলব- পানি অত্যন্ত স্বচ্ছ, সেখানে মাছ শিকার করার কোনো উপায় নেই। ’

এর আগে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বরাবর ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন মর্মে  শুক্রবার মধ্যরাতে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে খবর প্রকাশ হয়।  বিষয়টি নিয়ে আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল সূত্র তাৎক্ষণিক গণমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেননি। 

এর পর শনিবার (১১ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের জানান, পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির হাতে পৌঁছেছে।  কানাডা যাওয়ার পথে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের হাইকমিশনে শুক্রবার প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্রটি জমা দিয়েছেন। 

এর আগে গত ২ অক্টোবর এক মাস ছুটির কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবর চিঠি পাঠান প্রধান বিচারপতি।  এর মেয়াদ ছিল ১ নভেম্বর পর্যন্ত।  ছুটিতে থাকা অবস্থায় প্রধান বিচারপতির ১৩ অক্টোবর বিদেশে যেতে এবং ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বিদেশে থাকার ইচ্ছা পোষণ করে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করণ চিঠি দেন।  ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রণালয় ১২ অক্টোবর এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। 

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বয়স বিচারে অবসরে যাওয়ার দিন ধার্য রয়েছে আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি।  তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি। 

প্রধান বিচারপতির ছুটির মেয়াদের শেষ দিন ছিল ১০ নভেম্বর।  তিনি ১৩ অক্টোবর রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন।  অস্ট্রেলিয়ায় তিনি বড় মেয়ে সূচনা সিনহার বাসায় ওঠেন। 

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা শুক্রবার (১০ নভেম্বর) সিঙ্গাপুর থেকে কানাডা গেছেন।  এর আগে প্রধান বিচারপতি চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে গত সোমবার রাতে সিঙ্গাপুরে পৌঁছান।  কানাডায় প্রধান বিচারপতির ছোট মেয়ে আশা সিনহা রয়েছেন।  ধারণা করা হচ্ছে, সেখানেই তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করতে পারেন। 

Abu-Dhabi


21-February

keya