৪:৪৯ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০১৭, শুক্রবার | | ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

স্ত্রীকে আত্বহত্যার প্ররোচনায় এনজিও সংস্থা সানক্রেডের কর্মকর্তা গ্রেফতার

১২ নভেম্বর ২০১৭, ০৯:৫০ এএম | মুন্না


হাবিব সরোয়ার আজাদ, সিলেট প্রতিনিধি : স্ত্রীকে আত্বহত্যার প্ররোচনায় সুনামগঞ্জে পরকীয়া প্রেমে আসক্ত সানক্রেড ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশনে কর্মরত এক স্বামীকে শনিবার রাতে থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে।  গ্রেফতারকৃতর নাম, বিল্লাল মিয়া (৩৯)।  সে জেলার তাহিরপুর উপজেলার বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের বৃন্দারবন (বিন্নারবন) গ্রামের মৃত নুরুজ্জামানের ছেলে ও সানক্রেড ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশন নামক একটি বেসরকারি এনজিও সংস্থার কর্মকর্তা। 

জানা গেছে, তাহিরপুরের বিন্নারবনের মৃত নুরুজ্জামানের ছেলে বিল্লালেল সাথে পার্শ্ববর্তী বিশ্বম্ভরপুরের হালাবাদি ছাক্তারকোনা গ্রামের আলী আকবরের মেয়ে আয়েশা আক্তার রত্না (৩০)’র প্রায় এক যুগ পুুর্বে বিয়ে হয়।  বিয়ের পর ওই দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় তিন সন্তান।  এদিকে মাস তিনেক পুর্বে সানক্রেড নামক এনজিও সংস্থায় কর্মরত থাকার সুবাধে একই সংস্থায় কর্মরত অপর এক নবাগত নারী কর্মীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বিল্লাল। 

নবাগত নারী কর্মীকে বিল্লাল বেশ কিছুদিন তার মল্লিকপুরের বাসায় নিয়েও রাখেন।  এ নিয়ে পারিবারীক অশান্তির এক পর্যায়ে স্ত্রী আয়েশাকে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন বিল্লাল। 

একদিকে স্বামীর পরকীয়া অন্যদিকে স্বামীর দেয়া শারীরিক মানসিক নির্যাতসের ধকল সইতে না পেরে শনিবার পৌর শহরের মল্লিকপুরের ভাড়া বাসার সিলিং ফ্যানের সাথে দুপুরের দিকে গলায় ওরনা পেছিয়ে আত্বহত্যা করেন আয়েশা।  আয়েশা তাহিরপুরের লাউড়েরগড় কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার হিসাবে দায়িত্বপাল করে আসছিলেন। 

বিল্লাল ও আয়েশা দম্পতির ৮ বছর বয়সী শিশু কন্যা ওয়াহিদা আনজুম বর্ণ পুলিকে জানায়, আমার বাবা প্রায়ই আমার মাকে মারধর করতেন, যে কারনে আমার মা মরে গেছেন, আমার মায়ের মৃত্যুর জন্য আমার বাবাই দায়ি। 

নিহত আয়েশার পিতা আলী আকবর রবিবার বললেন, বিল্লাল তার অফিসে একটি মেয়ের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে এ বিষয়টি আমার মেয়ে জানতে পেরে তাকে পরকীয়া থেকে ফেরাতে গেলে বাসায় প্রায়ই এ নিয়ে ঝগড়াঝাটি হতো এমনকি বিল্লাল আমার মেয়েকে প্রায়ই এ নিয়ে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো যে কারনে আমার মেয়ে তার অত্যাচারে তিনটি সন্তান রেখেই আত্বহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। 

এদিকে শনিবার রাতে পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে বিল্লাল তার ওপর আনা পরকীয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কিছুদিন ওই নারী কর্মী পেয়িং গেষ্ট হিসাবে বাসায় থাকার পর অন্য ভাড়াবাসায় চলে গেছেন, এ নিয়ে মুলত সমস্যা নয় সমস্যা হল তার বাসায় স্ত্রীর একাধিক ভাই বোন থেকে শহরে লেখাপড়া এ কারনে সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হতো উল্টো স্ত্রী আয়েশাই আমার সাথে অসদাচারন এমনকি আমার ওপর শারীরিক নির্যাতনও চালাতো। 

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. শহীদুল্লাহ ও তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই একেএম জালাল উদ্দিন রবিবার ওই তথ্য নিশ্চিত করে  জানান, মৃত্যুর পুর্বে আয়েশা স্বামী বিল্লালকে অভিযুক্ত করে চিরকুট লিখে গেছে। 

এ ব্যাপারে নিহতের পিতা আলী আকবর বাদী হয়ে শরিবার রাতে বিল্লালের বিরুদ্ধে আত্বহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। 

সুনামগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন ঘোষ রবিবার বলেন,‘আয়েশার লিখে যাওয়া চিরকুট ও তার  বাবা আলী আকবর মেয়ে জামাই বিল্লালের বিরুদ্ধে যে অভিযোগে মামলা করেছেন তা তদন্ত করে প্রয়োজনে বিল্লালের সাথে তার অফিসের যে নারী কর্মীর পরকীয়া সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে তদন্তের স্বার্থে তাকেও আইনরের আওতায় নিয়ে আসা হবে।