৮:০৩ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার | | ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

বাংলা সাহিত্যের জননন্দিত হুমায়ুন আহম্মেদ‘র জন্মদিন আজ

১৩ নভেম্বর ২০১৭, ০২:৩২ এএম | সাদি


এসএনএন২৪.কম : আজ (১৩ নভেম্বর) দেশের তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয় লেখক-চলচ্চিত্রকার হ‌ুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন।  ১৯৪৮ সালের এই দিনে নেত্রকোনার কুতুবপুরে জন্মেছিলেন তিনি।  বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা।  তিনি মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে শহীদ হন।  মায়ের নাম আয়েশা ফয়েজ। 

আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুনের প্রদর্শনীতে মেহের আফরোজ শাওন ও নিষাদ শিল্প-সাহিত্যের বেশিরভাগ শাখায় কীর্তি রেখে গেছেন হ‌ুমায়ূন আহমেদ।  সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী সব চরিত্র।  হিমু, রূপা, মিসির আলি, শুভ্র’র মতো চরিত্রগুলো আজও মানুষকে ভাবায়।  তিনি তরুণ-তরুণীদের শুছিয়েছেন জোছনা, বৃষ্টির গল্প। 

১৯৭২ সালে প্রকাশিত তার প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ তাকে এনে দেয় পরিচিতি।  এরপর লিখেছেন তিন শতাধিক গ্রন্থ।  যার প্রায় সবই সাড়া ফেলেছে দেশ-বিদেশের পাঠকমহলে। 


হ‌ুমায়ূন আহমেদ একদিকে সাহিত্য দিয়ে মন্ত্রমুগ্ধ করেছেন পাঠককে, অন্যদিকে নির্মাণ করেছেন অনন্য সব নাটক, চলচ্চিত্র ও গান।  তার হাত ধরেই তারকার সম্মান পেয়েছেন এ দেশের অনেক শিল্পী।  তার সৃষ্টিতে উঠে এসেছে নৈসর্গিক দৃশ্য, জোছনা, বৃষ্টিসহ বাংলার চিরচেনা প্রকৃতির ব্যঞ্জনা। 

টেলিভিশনের জন্য একের পর এক দর্শকনন্দিত নাটক রচনার পর হ‌ুমায়ূন আহমেদ ১৯৯০-এর গোড়ার দিকে চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন।  তার পরিচালনায় প্রথম চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমণি’ মুক্তি পায় ১৯৯৪ সালে।  ২০০০ সালে ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ও ২০০১ সালে ‘দুই দুয়ারী’ দর্শকদের দারুণ গ্রহণযোগ্যতা পায়।  ২০০৩-এ নির্মাণ করেন ‘চন্দ্রকথা’। 


আগুনের পরশমনি ছবির দৃশ্যে আসাদুজ্জামান নূর ও শীলা১৯৭১-এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ২০০৪ সালে হ‌ুমায়ূন আহমেদ নির্মাণ করেন ‘শ্যামল ছায়া’।  এটি ২০০৬ সালে অস্কারের সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে বাংলাদেশ থেকে অংশ নিয়েছিল।  এছাড়া এটি প্রদর্শিত হয় কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে।  ২০০৮-এ ‘আমার আছে জল’ পরিচালনা করেন তিনি।  তার সব চলচ্চিত্রের বেশিরভাগ গান রচনা করেছেন তিনি নিজেই।  ২০১২ সালে মুক্তি পায় তার পরিচালিত সবশেষ ছবি ‘ঘেটুপুত্র কমলা’।  সে বছরের ১৯ জুলাই তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। 


নুহাশ পল্লীতে অবসরে হুমায়ূনকাজের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন হ‌ুমায়ূন আহমেদ।