৮:০৩ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার | | ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আসিয়ান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে: যুক্তরাষ্ট্র

১৩ নভেম্বর ২০১৭, ০৭:২৪ এএম | রাহুল


এসএনএন২৪.কম : প্রত্যাবাসনসহ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। 

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের আগামী সপ্তাহে মিয়ানমার সফরের আগে এই মন্তব্য করলো যুক্তরাষ্ট্র। 
যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি সাইমন হ্যানশ এই সপ্তাহে এক টেলিকনফারেন্সে জানান, ১৫ নভেম্বর টিলারসন মিয়ানমার পৌঁছানোর কথা রয়েছে।  নেপিদো পৌঁছে তিনি দেশটির শীর্ষ নেতা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাখাইনের মানবিক সংকট নিয়ে আলোচনা করবেন। 

কিছুদিন আগে হ্যানশ উচ্চ পর্যায়ের এক প্রতিনিধি দল নিয়ে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফর করেন।  প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে।  টেলি কনফারেন্সে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ভয়াবহ ও সংকটের ব্যপ্তি ব্যাপক আখ্যায়িত করে উচ্চ পর্যায়ের কূটনীতিক জানান, আঞ্চলিক দেশগুলো বিশেষ করে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। 

হ্যানশ বলেন, আমি মনেকরি আঞ্চলিক দেশগুলো সমাধান প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে পারে।  উভয় দেশের সঙ্গে কথা বলতে পারে এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার জন্য সহযোগিতা করতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন এ কূটনীতিক জানান, এ অঞ্চলের জন্য সবচেয়ে ভালো বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর। 

মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি বলেন, আসিয়ানের বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের বাংলাদেশ ও বার্মার (মিয়ানমার) সঙ্গে সম্পর্কের কথা বিবেচনায় নিয়ে বলতে পারি প্রত্যাবাসনে উভয় দেশকে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।  আমি আরও মনেকরি তারা শরণার্থীদের ও বাংলাদেশে অবস্থানরত শরণার্থীদের সহযোগিতার উদ্যোগ চলমান রাখতে পারে। 

শরণার্থীদের সহযোগিতা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।  এ প্রসঙ্গে হ্যানশ বলেন, বাংলাদেশ সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে আমরা তাদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করছি।  দেশে আসা বিপুল সংখ্যক মানুষকে সহযোগিতায় তাদের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।  বাংলাদেশে আমি একাধিক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি।  বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার সহযোগিতায় তাদের উদ্যোগের প্রশংসা জানিয়েছে প্রতিনিধি দল। 

মিয়ানমারে মার্কিন প্রতিনিধি দলটি সরকারি কর্মকর্তা, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় রাখাইন সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে।  রাখাইনে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষদের সঙ্গেও কথা বলা হয়।  এ বিষয়ে মার্কিন কূটনীতিক বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, স্থানীয় জনগণকে রক্ষা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্ত ও জড়িতদের বিচার ও শাস্তির মুখোমুখি করার আমরা বার্মার সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই। 

হ্যানশ জানান, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানায় যুক্তরাষ্ট্র।  যতদ্রুত সম্ভব শরণার্থীদের স্বেচ্ছায় নিজেদের গ্রামে ফিরে আসার মতো উপযুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টিতে শান্তি পরিকল্পনার সরকারকে উৎসাহ জানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও এবং কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে।  সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হ্যানশ বলেন, এটি ছিল ভয়াবহ।  শরণার্থী সংকটের মাত্রা ব্যাপক।  মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে।  অনেক শরণার্থী আমাদের কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানিয়েছেন তাদের চোখের সামনেই স্বজনদের হত্যা করা হয়েছে ও ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।  অনেকে জানিয়েছেন পালিয়ে আসার সময় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা।  এমন নিপীড়নের পরও অনেকে জানিয়েছে নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা পেলে তারা রাখাইনে ফিরতে চান। 

তিনি আরও জানান, এই পরিস্থিতিতে আরও অনেক কাজ করতে হবে।  চলমান সংকটে যুক্তরাষ্ট্রই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে সহযোগিতা তহবিলের জন্য আহ্বান জানিয়েছে।  দাতারা তহবিলে বিরাট অংকের অর্থ দিয়েছেন।  তিনি বলেন, আরও তহবিল প্রয়োজন।  সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের চাহিদা মেটানোতে যুক্তরাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এই উদ্যোগে অন্যদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছে। 

এক প্রশ্নের জবাবে হ্যানশ বলেন, রাখাইনের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা অভিযান ও সুরক্ষার জন্য নিশ্চিতভাবেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দায়ী।  আমরা তাদের আহ্বান জানাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।  একই সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে যে সুনির্দিষ্ট নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে তা তদন্ত করার জন্য।  নিপীড়নের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানাচ্ছি। 

তিনি আরও বলেন, আমরা বেসামরিক সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছি এবং তাদেরকে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।  পরিস্থিতি জটিল এবং মিয়ানমার গণতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।  এই রূপান্তর প্রক্রিয়াকে আমরা সমর্থন জানাই এবং সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের কথা বলেছি। প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সম্পর্কের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান হ্যানশ।  তিনি বলেন, উভয় দেশের সম্পর্কের বিষয়ে আমি কোনও মন্তব্য করতে চাই না।  আমরা তাদের আলোচনাকে সমর্থন করি এবং রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে আলোচনা করেছে, আগামীতে আরও আলোচনা করবে। 

মার্কিন এই কূটনীতিক বলেন, আমার বিশ্বাস করি এই আলোচনার মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় রাখাইন রাজ্যে ফিরতে পারবেন।  রাখাইনের পরিস্থিতি অবশ্যই সুরক্ষিত ও স্থিতিশীল করতে হবে যাতে মানুষ নিজেদের বাড়ি ও জমি ফিরতে আগ্রহী হয়।