৮:৩৯ এএম, ২১ নভেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার | | ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

জমির খতিয়ান পেয়ে খুশি লালমনিরহাটের ছিটমহলবাসী

১৩ নভেম্বর ২০১৭, ০৩:০৯ পিএম | রাহুল


আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটের অভ্যন্তরে বিলুপ্ত ছিটমহলের নতুন বাংলাদেশিদের কাছে জমির চূড়ান্ত খতিয়ান বিতরণ কার্যক্রম রোববার (১২ নভেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে। 

বিলুপ্ত ছিটমহলের অধিবাসীদের জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে এখন আর কোনও বাধা রইলো না। জমির নতুন মূল খতিয়ান হাতে পেয়ে খুব খুশি বিলুপ্ত বাঁশপচাই ছিটমহলের বাসিন্দা রাজ কুমার রবি দাস, হারুন অর রশীদ ও মোহাম্মদ আলীর মতো অনেকে।  রাজ কুমার রবি দাস ও হারুন অর রশীদ  বলেছেন, ‘এতদিন আমাদের জমি থাকলেও কাগজ ছিল না।  তাই কেনাবেচা করতে পারিনি।  ছিটমহল বিনিময় হওয়ায় আমরা নাগরিকত্ব পেয়েছি।  এবার পেলাম জমির কাগজ।  উন্নয়ন তো হচ্ছে। 

অবশ্য কারও কারও কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতির অভিযোগ আছে।  সেগুলো সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন লালমনিরহাট সদর উপজেলার সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। একই কথা বললেন হাতীবান্ধার সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা তোফাজ্জাল হোসেন ও পাটগ্রামের লতিফুর রহমান।  লালমনিরহাট সেটেলমেন্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল বাঁশপচাই পরিবর্তন হয়ে ধাইরখাতা মৌজার অধীনে ২৬৯টি খতিয়ান সংযুক্ত হয়েছে। 

এছাড়া বোয়ালমারী বাঁশপচাই পরিবর্তন হয়ে বনগ্রাম মৌজার অধীনে সংযুক্ত করা হয়েছে ৪৭৯টি খতিয়ান।  দীর্ঘ ৬৭ বছর পর ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় হলে বিলুপ্ত ছিটমহলে বসবাসরত লোকজনের ভূমি জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে সরকার।  এতদিন জমির মালিকানা ছিল না এসব অধিবাসীর।  ভারত-বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ১৬২টি ছিটমহলের বসবাসকারী অধিবাসীরা জানতো না তারা কোন দেশের নাগরিক।  তাদের সেই পরিচয়ও ছিল না। 

তবে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ছিটমহল বিনিময় হলে এসব ভূখণ্ডে বসবাসকারী অধিবাসীরা পরিচয় পান।  এরপর বদলে যেতে থাকে তাদের ভাগ্য।  জাতীয় পরিচয়পত্র বুঝে পাওয়ার পর ভোটাধিকারও প্রয়োগের সুযোগ পান তারা।  এবার পেলেন জমির মালিকানা।  গত দুই বছরে প্রায় বিলুপ্ত ছিটমহল গুলোতে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়েছে।  ইতোমধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রও প্রদান করা হয়েছে সেখানে।  এদিকে হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারি ইউনিয়নের অভ্যন্তরে বিলুপ্ত উত্তর গোতামারি ১৩৫ ও ১৩৬ নম্বর ছিটমহল দুটির জমি উত্তর গোতামারি মৌজার অধীনে মোট ২৮৯টি মূল খতিয়ানে সংযুক্ত করা হয়েছে।  হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এসব খতিয়ান বিতরণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে ইতোমধ্যে।  যদি কোনও ব্যক্তির কোনও আপত্তি বা অভিযোগ থাকে তাহলে গেজেট প্রকাশের পর তা নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল আদালতে নালিশ করতে পারবেন। 

তবে এই অধিবাসীদের ক্ষেত্রে সরকার ভীষণ আন্তরিক বলে দাবি তার।  এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আহসান হাবীব বলেন, ‘এসব খতিয়ানে কোনও ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করে সরকারিভাবে চূড়ান্ত ভলিউম বই প্রকাশ হবে গেজেট আকারে।  গেজেট প্রকাশের দিন থেকে দুই বছরের মধ্যে কারও কোনও সমস্যা বা আপত্তি থাকলে তা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে নালিশ করে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি স্বত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। ’পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ও পাটগ্রাম পৌরসভা ছাড়া ৭টি ইউনিয়নের মোট ২১টি মৌজার অধীনে ৪ হাজার ২৭৬টি মূল খতিয়ান সংযুক্ত করা হয়েছে।  পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম বলেছেন, ‘বিলুপ্ত ছিটমহলের এই অধিবাসীরা জমি ভোগদখল করলেও কেনাবেচা করতে পারতেন না। 

কারণ আগে জমির নিজস্ব মালিকানা তাদের না থাকায় ক্রয়-বিক্রয় বা নিবন্ধন হতো না কোথাও।  এসব বাংলাদেশি লোকজনের নামে জমির মালিকানা স্বরূপ দেওয়া হচ্ছে মূল খতিয়ান।  এখন তাদের জায়গা-জমি কেনাবেচনা করতে আর কোনও বাধা নেই।  এমনকি ব্যাংক ঋণ পেতেও কোনও সমস্যা হবে না। ’লালমনিরহাট অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আহসান হাবীব জানান, ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিলুপ্ত ছিটমহলের নতুন বাংলাদেশিদের মধ্যে জমির মূল খতিয়ান ও নকশা বিতরণ অব্যাহত থাকবে।  জেলার সদর উপজেলায় ৭৪৮টি, হাতিবান্ধায় ২৮৯টি ও পাটগ্রামে ৪ হাজার ২৭৬টি খতিয়ান বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।