৯:৩৭ এএম, ২৩ নভেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | | ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

১৫ নভেম্বর

সিডরের অষ্টম বর্ষপূর্তি বাগেরহাটে মারা যান ৯৩জন

১৪ নভেম্বর ২০১৭, ০৬:১১ পিএম | মুন্না


এম.পলাশ শরীফ, বাগেরহাট প্রতিনিধি : দুঃসহ স্মৃতি বিজড়িত ভয়াল ১৫ নভেম্বর।  ২০০৭ সালের এই দিবাগত রাত সাড়ে ৯টায় সুপার সাইক্লোন সিডর আঘাত হানে উপকূলীয় এলাকায়।  লন্ডভন্ড করে দেয় সুন্দরবনসহ বিশাল আয়তনের প্রকৃতি ও মানবাতাকে। 

ধ্বংসস্তুুপে পরিনত হয় উপকূলীয় উপজেলা মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলার ৬৩৮বর্গ কিলোমিটার জনপদ।  দুঃসহ স্মৃতি আর বেদনায় প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে জড়িয়ে আছে এই দিনটি।  সিডরের ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এর স্মৃতিচিহ্ন আজও রয়ে গেছে প্রতিটি জনপদে।  ভয়াল সিড়রের আঘাতে মোরেলগঞ্জে ৯৩জন লোকের প্রানহানি ঘটে। 

সিডরের ৮ বছর পার হলেও পানগুছি ও বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ-শরনখোলায় উপজেলার প্রায় ৫লাখ লোকের চাহিদা থাকলেও টেকসই বেড়িবাঁধ হয়নি।  ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসির আজও আতংকে দিন কাটাচ্ছেন।  বাঁধ নির্মান করার প্রতিশ্রæতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।  এখানকার মানুষের মুখে এখন একটাই দাবী ত্রান চাইনা টেকশই বেড়ি বাধ চাই।  

উল্লেখ্য, সরকারী হিসেব অনুযায়ী সিডরে মোরেলগঞ্জে ৯৩জন লোকের প্রানহানি ঘটে।   ২০০৭ সালের  ১৫ নভেম্বর রাতে ২৪০/২৫০ কি.মি বেগে উপকুলীয় এলাকা দিয়ে বয়ে যায় প্রলয়ংকরি  ঘুর্নিঝড় সিডর।  মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে উপকুলীয় জনপদ পরিনত হয় ধ্বংশ স্তুপে।  তবে সবচেয়ে বেশী ক্ষতি গ্রস্থ হয় বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বলেশ্বর নদ তীরবর্তি হাজার হাজার মানুষ।  বিশেষ করে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়ন পরিনত হয় বিরান ভুমিতে। 

সেখানের ৭ টি গ্রাম থেকে ৬ শতাধিক মানুষ মারা যায় ।  শুধু দক্ষিন ও উত্তর সাউথখালী  গ্রাম থেকেই মারা যায় প্রায় ৪ শতাধিক মানুষ।  এ ছাড়া উপজেলার চালরায়েন্দা, কদমতলা সহ অন্যান্য গ্রাম থেকে মারা যায় দেড় শতাধিক  মানুষ।  জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলাসহ অন্যান্য এলাকায় নিহত হয় দেড় শতাধিক মানুষ।  মৃতের অধিকাংশই ছিল মহিলা, শিশু ও বৃদ্ধ। 

নিখোজ  লোকের সংখ্যা ৬৩ জন।  সিডর আঘাতে বাগেরহাটে ১১ হাজার ৪’শ ২৮ জন আহত হন ।  এর মধ্যে শরণখোলায় আহত হন প্রায় ৯ হাজার মানুষ।  জেলায় সম্পূর্ন বিধ্বস্ত ঘরের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৬’শ।  এর মধ্যে শরণখোলায় বিধ্বস্তের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। 

এছাড়া জেলায় আংশিক বিধ্বস্ত ঘরের সংখ্যা ১ লাখ ৬ হাজার।  সম্পূর্ন বিধ্বস্ত পাকা রাস্তা ৫ কি.মি।  কাচাঁ রাস্তা ৫০ কি.মি।  বেড়ি বাঁধ বিধ্বস্ত হয় ১৬.৫ কি.মি।  ক্ষতি গ্রস্থ হয় ২০৬ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।  চার হাজার ৭’শ ৬৯ টি নৌকা ও ট্রলার নিখোঁজ হয়।  মৃত্যু হয় ১৭ হাজার ২৩ টি গবাদি পশুর।  নষ্ট হয় ১২ হাজার হেক্টর জমির ফসল।  ক্ষতি গ্রস্থ হয় ৮ হাজার আট শত ৮৯ হেক্টর চিংড়ি ঘেড় ।