৯:৪৩ এএম, ২৩ নভেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | | ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

নিহত মনিরুলের স্ত্রীর শিবগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন

১৫ নভেম্বর ২০১৭, ০৪:০৯ এএম | সাদি


মোঃ আশরাফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি  : সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের তৎকালিন কোষাধ্যক্ষ ও শাহবাজপুুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড স্থলবন্দর শাখা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম হত্যাকান্ডে জড়িত আসামীদের দ্রুত শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহত মনিরুল ইসলামের পরিবার। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিহত মনিরুল ইসলামের স্ত্রী রহিমা বেগম বেবি বলেন, আমার স্বামীর হত্যাকারীরা বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানী ছায়াতলে অবস্থান করে আমাদের বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি ও আমার মামলার স্বাক্ষীদের হুমকি দিয়ে আসছে।  যা গত ১২ নভেম্বর স্থলবন্দরে এক নাটকীয় মানববন্ধন করে প্রকাশ্যে আমাদের বিভিন্ন ভাবে গালাগালিজ ও মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। 

আমি মনে করি এই নাটকীয় মানববন্ধন এমপি রাব্বানীর মদদেই হয়েছে বলেও তিনি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন।  তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, এমপি রাব্বানী আমাকে হত্যাকান্ডের বিচারের সহযোগিতা করতে চাইলেও তিনি আমার স্বামীর হত্যাকারিদের নিয়ে বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ করছেন।  আপনারা লক্ষ্য করেছেন, গত ৩ নভেম্বর জাতীয় জেলহত্যা দিবসে স্থলবন্দের একটি দোয়া মাহফিল ও সমাবেশে একই মঞ্চে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুনিরা ও সাংসদ।  যা আমার কাছে অত্যান্ত কষ্টদায়ক। 

সংবাদ সম্মেলনের রহিমা বেগম আরো বলেন, গত ২০১৪ সালের ২৪ অক্টোবার  বিকেলে শিবগঞ্জ স্টেডিয়াম মাঠের সামনে আম বাগানে সিএন্ডএফ’র সাবেক সভাপতি প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা আখিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক তোহরুল ইসলাম টুটুল, সহ-সভাপতি সেরাজুল ইসলাম (মুন্সি) সহ একদল সন্ত্রাসী আমার স্বামীকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে।  সেইদিন রাতেই শিবগঞ্জ থানা পুলিশ পুখুরিয়া এলাকা থেকে তাদের ব্যবহৃত রক্তমাখা প্রাইভেট কার, পিস্তলের গুলির খোসা ও এক রাউন্ড তাজা গুলিসহ তাদেরকে হাতেনাতে আটক করে।  এই ঘটনায় আমি বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং ৩২ তাং ২৫/১০/২০১৪) দায়ের করি।  এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে সোনামসজিদ সিএন্ডএফ, আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগ হত্যাকারিদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবীতে একাধিকবার মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ সমাবেশও করেছেন।  কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আসামীরা জামিনে মুক্ত হয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। 

তারা বিভিন্ন সময় আমাকে ও আমার পরিবারকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। 

তিনি আরও বলেন, চলতি বছর ৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে আসামী আখিরুলের ভাই খাইরুল ও সোনাপুর মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মালেক আমার বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়ে বলে আসে, আর মামলা নিয়ে না খেলে প্রত্যাহার করে নাও।  গত এক সপ্তাহ আগেও সিএন্ডএফ’র  সভাপতি হারুন-অর-রশিদ, ডা. সাদিকুল ইসলামসহ কয়েকজন আপোষ মিমাংশার জন্য প্রস্তাব দেন। 

আবেক জড়িত কন্ঠে রহিমা বেগম আরও বলেন, আমার স্বামীর হত্যাকারীদের নিয়ে নিয়ে গত ১২ নভেম্বর শ্রমিক সমন্বয়ের সভাপতি সাদেকুর রহমান মাস্টারের নেতৃত্বে নাটকীয় ভাবে মামলা প্রত্যাহরের দাবীতে মানববন্ধন করেছে সোনামসজিদ সিএন্ডএফ, আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগ।  এমনকি এই সাদেকুর রহমান মাস্টার আসামীদেরকে মামলা চালানোর জন্য ৮ লক্ষ টাকা দিয়ে সহযোগিতাও করেছেন বলে রহিমা বেগম অভিযোগ করেন। 

এব্যাপারে শ্রমিক সমন্বয়ের সভাপতি সাদেকুর রহমান মাস্টার ও সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেনের সাথে যোগযোগের চেষ্টা করলে তাদের মুঠো ফোন ০১৭১২-২৭৮৪১১ ও ০১৭৪০-৬৩৯৫৩৮ বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। 

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, নিহত মনিরুলের বাবা আফজাল হোসেন, মা খাতিজা বেগম, ছোট ভাই মেজর আলী, শ্যালক আলাউদ্দিন ও ছোট ছেলে তাওহীদুল ইসলাম।