৫:০৬ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০১৭, শুক্রবার | | ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

শৈলকুপার আশুর হাট গ্রামে বসেছে যেন পাখির মেলা

১৫ নভেম্বর ২০১৭, ১১:১০ এএম | মুন্না


আরাফাতুজ্জামান, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : শৈলকুপার আশুর হাট গ্রামে বসেছে যেন পাখির মেলা।  নিত্যানন্দুপুর ইউনিয়নের খাল বিল আর সবুজের সমারোহে আচ্ছন্ন একটি গ্রাম আশুর হাট, যাকে বর্তমানে পাখি গ্রাম বলতেই ভালবাসে পাখি প্রেমি মানুষেরা। 

এই সবুজ গ্রামে ১০ বছর আগে অতিথি হয়ে বেড়াতে এসে আশ্রয় খুঁজে নিয়েছিল এক ঝাঁক এশিয়ান শামুকখোলা পাখি।  স্থানীয়ভাবে শামুকভাঙ্গা এবং শামখোলা নামেই এরা পরিচিত। 

খাল বিল, মাটির কাছাকাছি সবুজ প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকা এ গ্রামের মানুষও প্রকৃতি প্রেমে মজনু হয়ে এক নতুন দৃষ্টান্ত  স্থাপন করেছেন।  প্রায় ১০ বছর পূর্বে এমন শীতের আবহে  শামখোল পাখির আনা-গোনা শুরু হয় এই গ্রামে।  সে সময়ে দিনের সফরে মেহমান হয়ে  ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি এসে দিনের আলো নিভে সন্ধ্যা নামতেই  ফিরে যেতো ওরা। 

তবে গত পাঁচ বছর  ধরে শামখোলা পাখি যেন এ গ্রামের স্থানিয় বাসিন্দা হয়ে এখানেই নিজেরদের ঠিকানা করে নিয়েছে।  গ্রামের  মধ্যপাড়ার আব্দুর রাজ্জাক ও গোপাল চন্দ্র বিশ্বাসের পুকুর পাড়ে শিমুল-জাম-মেহগনী গাছের মগ ডালে বাসা বেঁধেছে এখন হাজার হাজার পাখি। 

স্থানিয়রা জানান, জুলাই-আগস্ট মাসে বাসায় ডিম দিতে শুরু করে শামখোলা পাখি।  গাছ গুলোর প্রতিটি ডালে পাখির বাসায় ছানা দেখা যাচ্ছে।  কথা হয় দিলিপ কুমারের সঙ্গে।  তিনি বলেন, গ্রামের মানুষ পাখিদের  ভালবেসেছে এতটা আপন করে নিয়েছে যে,  ধান ক্ষেত নষ্ট করলেও কষ্ট পান না। 

আমাদের কাছে এরা এখন আর অতিথি নয়, পরিবারের সদস্যদের মতো।  এ কারণে শিকারিরাও ভয়ে গ্রামে আসে না, কেউ শিকার করতে আসলে গ্রাম বাসি প্রশাসনের নিকট তাদেও ধরিয়ে দেন। 

স্থানিয়রা মনে করেন,  ১০ থেকে ১২ হাজার বা তারও বেশি পাখি বসবাস করছে গ্রামটিতে।  কিন্তু পাখিদের আবাসন সংকটের কারণে ব্যাপক হারে শামখোলের ডিম ও বাচ্চা নষ্ট হচ্ছে।  আশুরহাট গ্রামে শামখোল বাসা বেধে বাচ্চা তৈরী পাখি প্রেমি ও জীব বৈচিত্রবিদদের জন্য সুখবরই বটে। 

পাখি ভাল বাসেন না এমন মানুষ সমাজে খুব কম আছেন।  তাই বিকাল হতেই পাখি দর্শনার্থিদের ভিড় জমে এখানে।  প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর শিকারির কালো থাবা সহ নানা কারণে দেশে দিন দিন বিশেষ প্রজাতির কিছু পাখির সংখ্যা কমে আসলেও পাখি গ্রামে শামখোলা পাখির অভয়ারন্য দেখতে ঠিক তার সম্পূর্ন বিপরিত। 

জানা যায় ভারতীয় উপমহাদেশ আর দক্ষিনপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে এসব পাখি পাওয়া যায়।  শামুক এদের প্রধান খাদ্য।  এছাড়া ধান ক্ষেতের পোকামাকড়ও এরা খেয়ে থাকে।  বাসযোগ্য আবহাওয়া আর খাদ্য প্রাপ্যতার জন্যে এরা বহুদুর উড়ে যেতে পারে।  ঝাঁক ধরে গাছের মগডালে ছোট ছোট বাসা বেঁধে শামখোলা। 

স্থানীয় ভাষায় এরা শামুকভাঙ্গা নামে পরিচিত থাকলেও এ পাখির বৈজ্ঞানিক নাম এশিয়ান শামুকখোল এশীয় শামুকখোল এক প্রজাতির, অর্থাৎ এর কোন উপ-প্রজাতি নেই।  উপযুক্ত আবহাওয়া, পরিমিত খাবারের যোগান আর নিরাপত্তা থাকলে এরা সাধারণত কোন এক জায়গা থেকে নড়েনা। 

এশীয় শামুকখোল দহ্মিনএবং দহ্মিন-পূর্ব এশিয়ার ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্থান,  শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, প্রভৃতি দেশে দেখা যায়।  তাদের উৎস অনিশ্চিত। 

এশীয় শামুকখোল আকারে বেশ বড়সড় জলচর পাখি।  এর দৈর্ঘ্য কমবেশি ৮১ সেন্টিমিটার, ডানা ৪০ সেন্টিমিটার, ঠোঁট ১৫.৫ সেন্টিমিটার, লেজ ২০ সেন্টিমিটার ও পা ১৪.৫ সেন্টিমিটার।  প্রজননকালে প্রাপ্তবয়স্ক পাখির দেহ একদম সাদা দেখায়। 

স্থানিয়রা জানান, শিমুল গাছে থাকা পাখিগুলোর বৈচিত্র হলো তারা সব সময় গাছে অবস্থান করে।  মা ও বাবা পাখি পাল্লাক্রমে ডিমে তা দেওয়ার জন্য তারা ঠিকমতো আহারও করে না।