৯:৪০ এএম, ২৩ নভেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | | ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

নানা সমস্যায় জর্জরিত স্কুলটিতে ক্যারিয়ার গঠনে ব্যস্ত বৃ-কাশো প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থীরা

১৫ নভেম্বর ২০১৭, ১১:৫৭ এএম | মুন্না


মো. আখলাকুজ্জামান, গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি : প্রতিবন্ধিরা কোন সমাজের বাইরে নয়।  নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠা লাভ করে বৃ-কাশো প্রতিবন্ধি বিদ্যালয়।  বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে চললেও বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। 

চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে মাত্র ৭জন শিক্ষার্থী নিয়ে উপজেলার দূর্গম পল্লী এলাকায় ওই প্রতিবন্ধি বিদ্যালয়টি গড়ে উঠে।  বর্তমানে প্রায় দেড়’শ জন প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থী নিজের ক্যারিয়ার গঠনে ওই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত।  দূর দুরান্ত থেকে আগত শারিরিক, শ্রবন, দৃষ্টি, বুদ্ধি, মানসিক ও বহুমুখী সমস্যাজনিত প্রতিবন্ধীরা এই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছেন। 

জানা গেছে, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন এলাকার সমাজসেবক মো. শাজাহান আলী।  এরজন্য ১৬ শতক জমি দান করেন প্রতিষ্ঠাতা ও ইব্রাহিম আলী।  এলাকার কিছু সমাজসেবক ও বৃ-কাশো প্রতিবন্ধি সংস্থা ছাড়াও নাজিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত রানা লাবু বিদ্যালয়ের আর্থিক সহযোগিতায় হাত বাড়িয়েছেন। 

স্থানীয়রা জানান, বৃ-কাশো প্রতিবন্ধি স্কুলটির শিক্ষকরা অত্যন্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন শিক্ষার আলো ছড়াতে।  দেখাদেখি উপজেলার সকল প্রতিবন্ধি ছেলে-মেয়েদের মাঝে লেখাপড়ায় আগ্রহ জাগছে এবং জেলাব্যাপি স্কুলটি ব্যাপক সারা ফেলেছে। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টি ৬ কক্ষ বিশিষ্ট আধাপাকা একটি ঘর।  চার কক্ষে চলছে ক্লাস।  একটি হলরুম কক্ষ ও অন্যটি শিক্ষকদের অফিস।  স্কুলটি পরিচালনার জন্য কমিটিও রয়েছে।  সপ্তাহে ৬দিন ক্লাশ নেওয়া হয় প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থীদের।  নিরাপদে যাতায়াত নিশ্চিত করতে স্কুলের ভ্যান ও অটো রিক্সা রয়েছে। 

স্কুলটিতে শিশু শ্রেণী থেকে ৩য় শ্রেণী পর্যন্ত পৃথক ক্লাশ রয়েছে।  শিক্ষকরা প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের খেলাধূলা ও বিনোদনের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।  মাসে একবার অভিভাবকদের নিয়ে স্কুল পরিচলনা কমিটির মিটিং করে থাকেন শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্ধ। 

শিক্ষার্থীরা জানান- ভাগ্যের জোরে এই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার সুযোগ পেয়েছেন তারা।  প্রতিবন্ধি হলেও খারাপ লাগেনা তাদের।  আগে মন খারাপ থাকতো আর সবসময় স্কুলে যেতে মন চাইতো।  বর্তমানে তারা পড়তে, খেলতে, নৃত্য করতে পেড়ে খুব ভাল লাগে বলে নিজেদের ক্যারিয়ার গঠনের স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে চান।  এসব শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করে দেশ ও জাতির কল্যানে কাজ করতে চান বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।  সমাজের অন্য দশজনের মত তারাও মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায়। 

অভিভাবকরা বলেন, প্রতিবন্ধি এসব ছেলে-মেয়েরা স্কুলে আসার আগে এক প্রকার ঘরবন্দি অবস্থায় থাকতো।  তাদের সাথে স্বাভাবিক ছেলেমেয়েরা মিশতো চাইতো না।  তবে প্রতিবন্ধি ছেলেমেয়েরা স্কুলে আসার পর তাদের জীবনযাত্রার মান পাল্টে যেতে শুরু করেছে।  প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছে প্রতিবন্ধী কোন মাসসিক রোগ নয়।  এটা এক ধরনের অক্ষমতা, যা চিকিৎসা দ্বারা ভাল করা যায় না।  সমাজের কাজেও তারা ভূমিকা রাখতে পারবে।  যদি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলার মাধ্যমে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। 

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শাজাহান আলী জানান, আশপাশের কোথাও প্রতিবন্ধি বিদ্যালয় ছিলনা।  এলাকার প্রতিবন্ধীরা দিনের পর দিন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল।  চলতি বছরে আমরা স্বেচ্ছা শ্রমের মাধ্যমে প্রতিবন্ধি বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছি।  বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে রয়েছে নানা সমস্যা। 

সরকার একটু নেক দৃষ্টি দিলেই বিদ্যালয়টি ভবিষ্যতে আরো গতিশীল হবে এবং সরকারি প্রদক্ষেপে শিক্ষার্থীদের আবাসিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে প্রতিবন্ধিদের বেড়ে ওঠা অনেক সহজ হবে বলে মনে করেন তিনি। 

এ ব্যাপারে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, নাজিরপুর বৃ-কাশো প্রতিবন্ধি বিদ্যালয়টি একবার পরিদর্শনে গিয়ে কিছু সমস্যায় জর্জরিত অবস্থায় দেখেছি।  তাই স্কুলটি পরিদর্শনপূর্বক তদন্ত করে দেখা হবে।  সরকারি উদ্যোগে বিদ্যালয়টির উন্নয়নের জন্য গণমাধ্যম কর্মিদের পাশে থাকার আহবান জানান তিনি।