৫:১৭ এএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭, সোমবার | | ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

মানুষকে সেবা করার স্বপ্ন আমাকে তাড়না দেয়- আব্দুল আহাদ

১৬ নভেম্বর ২০১৭, ০৯:৫৮ পিএম | সাদি


এসএনএন২৪.কম ডেস্ক : "স্বপ্ন" মানুষকে বাঁচাতে শেখায়, অনুপ্রেরণা যোগায়।  এ স্বপ্ন আবার মানুষকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়।  প্রতিটি মানুষের জীবনে একটা স্বপ্ন থাকে।  সেই স্বপ্ন পূরণ করতে মানুষের কত আয়োজন! শুধু একটা স্বপ্ন পূরণ করতে নিজের জীবন পর্যন্ত বিলিয়ে দেওয়ার নজিরও পৃথিবীতে আছে।  এ জন্যই হয়তো পরমানুবিজ্ঞানী এপিজে আবদুল কালাম বলেছিলেন, "স্বপ্ন তা যা মানুষকে ঘুমোতে দেয়না" ছোট বেলায় মানুষ নানা স্বপ্নে বিভোর থাকে তার ব্যতিক্রম ছিল না চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের মেধাবী ছাত্রনেতা ও চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের উপ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল আহাদও।  

এমন কিছু করতে হবে, যাতে করে সবার জন্য কাজ করা যায় খুব সহজে।  জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেরও একটি স্বপ্ন ছিল।  সেই স্বপ্ন একটি স্বাধীন দেশের একটি স্বাধীন জাতির।  তিনি বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন বলেই আজ আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক, বিজয়ী জাতি।  আহাদও বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নে স্কুল জীবনে বঙ্গবন্ধুর-হৃদয়ে চেতনায় আদর্শ বুকে ধারণ করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একজন কর্মী হিসেবে ছাত্র রাজনীতিতে পদার্পন করে।  


এইচএসসি শেষ করার পর ইচ্ছে ছিল শহরের নাম করা কোন শিক্ষা প্রতিষ্টানে পড়ার।  কথায় আছে মেধাবীদের স্বপ্ন বিফলে যায় না।  আব্দুল আহাদেরটাও যায়নি।  সুযোগ হয় চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে পড়ার।  ভর্তি হন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০০৭-২০০৮ শিক্ষা বর্ষে।  এই যেন আনন্দের সীমা নেই! নিজের স্বপ্ন যেন কষ্ট আর পরিশ্রমের কাছে ধরা দিল অবলিলায়। 

চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নের চরখাগরিয়া গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম, বেড়ে ওঠার সময় সবুজ মাঠ, গ্রামের মেঠো পথ তার সহজ সরল মনটিকে সব সবসময় সতেজ করে রাখতো।  শিশু, কিশোর পুরো সময়টাই কেটেছে সবুজে।  সবুজের সমারোহ থেকে পুরো যান্ত্রিক শহরে।  প্রথমে মানিয়ে নিতে বেশ কষ্ট হয়েছিল তার।  উচ্চ শিক্ষা ভর্তির পর অচেনা শহর ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে খাপখাইয়ে নিতেই দীর্ঘ সময় লেগেছে।  তাছাড়া পড়াশোনা বুঝে উঠতে অনেকটা সময় চলে গেছে।  তাই প্রথমে একটু খারাপ লাগলেও পরবর্তী সময়ে ভালো করতে পেরেছি, এ জন্য খুব ভালো লাগছে বলে দাবী করেন আহাদ। 

পরবর্তী সময় কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি শুরু করার পর আহাদের স্বপ্ন পুরণের চলার পথে নানা ঘাত-প্রতিঘাত শত বাঁধা বিপত্তি হানা দেয়।  তারপরও হাজার ষড়যন্ত্রের মাঝেও সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে যেতে দেয়নি।  হতাশ হয়নি কখনো। 

আহাদ মনে করতেন, সৃষ্টিকর্তা একদিন না একদিন ঠিকই তার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ করে দিবেন এবং বিশ্বাস করে তার স্বপ্ন যদি সত্যিকারের স্বপ্ন হয়, আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই তার স্বপ্ন পূরণ করবে। 

প্রথমে বলেছিলাম আহাদ দেশের সেবা করতে চায়, সেই প্রায় নানা রাজনৈতিক রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তার সরব উপস্থিতি নজর কাড়ে।  ক্যাম্পাসে সবার পরিচিত মুখ আহাদ।  সবার বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়া নিজের কাজের একটি অংশ মনে করেন।  রক্তদান কর্মসূচি থেকে শুরু করে কোন জায়গায় নেই তার সরব উপস্থিতি— তা বলা মুশকিল। 

পড়াশোনায় যেমন ভালো, মানুষ হিসেবে রাজনীতির মাঠে ভালো পরিচয় বহন করে নানান গুণের অধিকারী গ্রামের ছেলেটি।  ক্যাম্পাস জুড়ে ভালো মানুষ আর ভালো ছাত্র হিসেবে তাকে চিনে সবাই।  আহাদ শুধু একটি নাম নয়; ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসের এক জীবন্ত কিংবদন্তির নাম।  অসাধারণ, দৃষ্টিনন্দন আচরণের শৈলীর জন্য তিনি ছাত্র সমাজের মাঝে বিখ্যাত।  সেইসঙ্গে মধুর ব্যবহার, নম্রতা মিলিয়ে ‘ভদ্রলোকের জন্য রাজনীতি’ ছাত্ররাজনীতির এক অনুপম দৃষ্টান্ত তিনি।  আহাদ মুজিব আর্দশে লালিত এক জলন্ত অগ্নিশিখার নাম। 

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের মেধাবী ছাত্রনেতা চট্টলা ছাত্রলীগের অলংকার, দলের দুঃসময়ের একজন পরীক্ষিত ছাত্রনেতা, মেধা মনন, সৎ, পরিছন্ন রাজনীতির আইডল।  সিটি কলেজ সবুজ চত্ত্বর থেকে বেড়ে ওঠে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারন করে নিজের প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে ধীরে ধীরে পরিণত হয় চট্টলা ছাত্র সমাজের নয়নমনিতে।  রাজনীতি জগতের অনিন্দ রূপকথার রাজ কুমার আহাদ।  তাইতো সে স্থান করে নিলো হাজারো ছাত্রজনতার অভিভাবক হিসেবে।  বিজয়, সাফল্য, প্রাপ্তি তো তার জন্যই সংরক্ষিত। 

পড়াশোনায় স্নাতক পর্বের শুরুটা তেমন ভালো না হলেও স্নাতকোত্তর বিভাগে ৩য় স্থান লাভ করেছে সে।  স্বপ্ন ছিল ভালো ফলের।  ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ছাত্র রাজনীতিতে ব্যস্ত রাখতেন নিজেকে।  আর অবসরে চলত সেবামূলক নানা কাজ।  দেশ সেবায় নিজেকে নিবেদিত করতে চান আহাদ।  চট্টগ্রামের শুধু সিটি কলেজ নয়, যে কোন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী বিপদে পড়লে এগিয়ে এসে সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেন যতক্ষন না পর্যন্ত কাজটির সমাধান হয়নি।  তাই চট্টগ্রামের সকল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা আহাদ ভাই বললে তাদের মধ্যে একটি উৎসাহ উদ্দীপনা চলে আসে। 

তার আগামী নিয়ে বলতে গিয়ে রাজপথের অতন্দ্র প্রহরী, হাজারো ছাত্র-জনতার অভিভাবক আব্দুল আহাদ বলেন, আমি একজন ভালো রাজনীতিবিদ হতে চাই।  দেশের জন্য কাজ করতে চাই।  প্রমাণ করতে চাই, ভালো মানুষরা রাজনীতি করলে সবাই তাকে ভালোবাসে।  দেশ এগিয়ে যায়।  সেবা করা যায় মানুষের। 

তবে এটাও ঠিক একজন ভালো রাজনীতিবিদ ছাড়া দেশের সামগ্রিক বা সবার সেবা করা কখনোই সম্ভব না।  তাই নিজেকে সেই জায়গায় পৌঁছাতে চাই।  আমি মনে করি সু-সংগঠিত ছাত্র রাজনীতিই রাজনীতির মূল স্রোতধারা।  কেননা সঠিক ছাত্র রাজনীতিই রাজনৈতিক অঙ্গনকে সুসংগঠিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রত্যেকটি নেতা কর্মীকে দেশের মঙ্গলার্থে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারলে, তবেই ডিজিটাল বাংলা রূপকার, বিদ্যানন্দিনী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতিকে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধশালী এবং উন্নত দেশ উপহার দেয়া সম্ভব হবে।