১:২০ পিএম, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭, সোমবার | | ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

মহান মুুক্তিযুুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত আধুুনিক বিজ্ঞান মনস্ক মানব সম্পদ

১৮ নভেম্বর ২০১৭, ০৫:২৫ পিএম | মুন্না


এসএনএন২৪.কম : দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সুপ্রতিষ্ঠিত বীর চট্টলার অহংকার উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে ১৮ নভেম্বর ২০১৭ তারিখ বিভিন্ন কর্মসূচি উদযাপিত হয়। 

সকাল ১০ টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে মাননীয় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার সহ বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু চত্বরে মহাকালের মহানায়ক হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যবৃন্দ পুস্পমাল্য অর্পণ করেন।  অতঃপর মাননীয় উপাচার্যের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট সকলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় আনন্দ র‌্যালি। 

র‌্যালি শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ মিলনায়তনে মাননীয় উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শুভ জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটেন।  এরপর মাননীয় উপাচার্যের সভাপতিত্বে উক্ত মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।  আলোচনা সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সংগীতানুষ্ঠান। 

আলোচনা সভায় মাননীয় উপাচার্য তাঁর ভাষণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সকলকে স্বাগত, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।  তিনি বিনম্র চিত্তে গভীর শ্রদ্ধাভরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চারনেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশলক্ষ শহীদ এবং ‘৭৫ এর ১৫ আগস্ট বর্বর হায়েনাদের হাতে নির্মমভাবে শহীদ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের স্মরণ করেন। 

তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে সম্ভ্রম হারানের দু’লক্ষ জায়া-জননী-কন্যার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।  তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে জ্ঞান আহরণ-বিতরণ এবং জ্ঞান সৃজনের সর্বোচ্চ পবিত্র পাদপীঠ।  বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্র্ভর এ বিশ্ব আজ নব নব আবিস্কারের মহিমায় মহিমান্বিত।  তাই উচ্চ শিক্ষা স্তরে জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ ও আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক মানব সম্পদ উৎপাদনে সাফল্য অর্জিত না হলে আমাদের সার্বিক মুক্তি অর্জন সম্ভব নয়। 

প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু একটি মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ব্রত নিয়ে এ দেশ স্বাধীন করেছেন।  জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য তনয়া আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত থেকে  শিক্ষার সংগে ক্রীড়া ও সংস্কৃতিকে যুক্ত করে যে শিক্ষা দর্শন ঘোষণা করেছেন, এর সফল রূপায়নে আমাদের তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের মহৎ মানবিক গুণাবলী অর্জন করতে হবে এবং নিজেদের গড়ে তুলতে হবে মানবিক বিশ্ব রচনার স্থপতি হিসেবে। 

উপাচার্য লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক, প্রাণপ্রিয় শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্ব স্ব দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ নিষ্ঠাবান হওয়ার উদাত্ত আহবান জানান।  

উপ-উপাচার্য তাঁর ভাষণে উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্যের সুযোগ্য নেতৃত্বে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশানিক কর্মকান্ডে যে গতি সঞ্চারিত হয়েছে এর ধারাবাহিকতা সুরক্ষা করে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা বিশ্ব মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে  রূপান্তর করতে চাই।  তিনি প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির লক্ষ্য অর্জনে সকলকে আলোর পথে অগ্রসর হওয়ার আহবান জানান। 

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী, শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মিহির কুমার রায়, সিনেট সদস্য প্রফেসর ড. শংকর লাল সাহা, সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. সুলতান আহমেদ, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুল হুদা, সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মোহাম্মদ বশির আহম্মদ, প্রক্টর জনাব মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী, আইন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর এ বি এম আবু নোমান, অফিসার সমিতির সভাপতি জনাব এ কে এম মাহফুজুল হক, কর্মচারী সমিতির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মো. ওমর ফারুক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি জনাব জোস মোহাম্মদ। 

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার (তথ্য) জনাব মো. ফরহাদ হোসেন খান।  অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের সম্মানিত শিক্ষক, শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।