১:২৯ পিএম, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭, সোমবার | | ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

চট্টগ্রাম-৯ আসনে আ’লীগের মনোনয়ন চাইবেন জসিম উদ্দিন

১৮ নভেম্বর ২০১৭, ০৬:১২ পিএম | মুন্না


এসএনএন২৪.কম : বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের অন্যতম সহযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধে দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের চেয়ারম্যান শ্রমমন্ত্রী জহুর আহমদ চৌধুরীর ছেলে কানাডা ফেরত আওয়ামী লীগ নেতা জসিম উদ্দিন চৌধুরী রাজনীতির মাঠে স্বরব হয়েছেন। 

একাত্তরে সম্মুখযুদ্ধে বড় ভাই সাইফুদ্দিন শহীদ হন।  মুক্তিযোদ্ধে নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।  রাজনীতি করতে গিয়ে ১৯৮৮ সালে জেল খেটেছেন।  বাবার উত্তরসূরি হিসেবে রাজনীতির মাঠে দীর্ঘদিন ধরে চসে বেড়িয়েছেন তিনি। 

পিতার রাজনৈতিক ইমেজকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন চাইবেন জসিম উদ্দিন।  ১৭ নভেম্বর শুক্রবার সকালে নিজ বাসভবনে দলীয় কর্মীদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি একথা জানান। 

বঙ্গবন্ধু সরকারের মন্ত্রী জহুর আহমদ চৌধুরীর ছেলে জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বঙ্গবন্ধু সরকারের সব মন্ত্রী পরিবারকে মূল্যায়ন করেছেন- সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ আশরাফ, তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে সোহেল তাজ, কামরুজ্জামানের ছেলে খাইরুজ্জামান লিটন পরবর্তী সময়ে মন্ত্রী-মেয়র হয়েছেন। 

আমার বাবা বঙ্গবন্ধু সরকারের স্বাস্থ্য, পরিবার কল্যাণ ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন।  রাজনীতি করতে গিয়ে ১৯৮৮ সালে জেল খেটেছি।  একাত্তরে সম্মুখযুদ্ধে আমার ভাই সাইফুদ্দিন মৃত্যুবরণ করেন। 

তিনি বলেন, আমি ১৯৮৩ সাল থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে স্বৈরাচার এরশাদ বিরুধী আন্দোলন থেকে শুরু করে খালেদা সরকারের পতন পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছি।  দায়িত্ব পালন করেছি কোতোয়ালী থানা ছাত্রলীগের সভাপতির (১৯৮৮-১৯৯১),পরে চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের আহবায়ক কমিটির ১নং সদস্যও ছিলাম (১৯৯৫-১৯৯৭)। 

আর্থিক স্বচ্ছলতার কারণে ১৯৯৭ সালে আওয়মীলীগ ক্ষমতা গ্রহনের পর দেশ ত্যাগ করি।  সেখানে গিয়েও দলের জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছি কানাডাতে প্রতিষ্ঠা করেছি কানাডা যুবলীগ।  প্রতিষ্ঠাতা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি ২০১৬ পর্যন্ত। 

২০১৭ থেকে আবার দেশে ফিরে এসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি জনগনের সেবায় নিজেকে নিযুক্ত করেছি।  ১৯৮৩ থেকে ১৬ সাল পর্যন্ত সকল আন্দোলনে আমার সক্রিয় ভূমিকা ছিল।  আমার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে আমি মনোনয়ন চাইতেই পারি। 

মরহুম জহুর আহমদ চৌধুরীর দল ও দেশের জন্য ত্যাগের কথা উলে­খ করে জসিম উদ্দিন বলেন, পাক হানাদার বাহিনীরা মুক্তিযোদ্ধে আমাদের বাড়িটিতে আক্রমন চালায়,গুলি এবং আগুনে পুড়িয়ে দেয়।  শুধু তাই নয় স্বাধীনতা পরবর্তীতেও চট্টগ্রামের আওয়ামীলীগের যাবতীয় কার্যক্রম আমাদের বাড়ী থেকেই পরিচালিত হত। 

আমার বাবা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আমৃত্যু আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।  বঙ্গবন্ধুর আস্থাভাজন হিসাবে ১৯৫৪ এর যুক্ত ফ্রন্ট নির্বাচন থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সনের সংসদ নির্বাচনসহ সকল জাতীয় নির্বাচনে আমার বাবা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন এবং জনগনের গভীর ভালবাসার কারণে বারবার বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। 

আমার বাবা মরহুম জহুর আহমদ চৌধুরী এই এলাকার মানুষের জন্য যে ভালবাসার বীজ বপন করে গিয়েছেন তার ফলশ্র“তিতে এই এলাকার মানুষের পাশে থাকাটা এখন আমার নৈতিক দায়িত্ব হয়ে দাড়িয়েছে।  নিজের জন্য না হলেও  এলাকার মানুষ তথা দেশের স্বার্থে আমাকে নির্বাচন করতে হবে। 

মতবিনিময় সভায় এসএম চৌধুরী পিন্টু বলেন, ভিআইপিদের আসন খ্যাত চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসন থেকে বিভিন্ন সময়ে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা ওই এলাকার না হওয়ায় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।  জসিম উদ্দিন ওই এলাকার হওয়ায় জনগণের সুখে-দু:খে পাশে থাকবেন।