২:০৮ পিএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার | | ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

ইজারা চুক্তি লংঘনের অভিযোগে তিন জনের প্লট বাতিল

২৮ নভেম্বর ২০১৭, ০৪:১২ পিএম | মুন্না


এসএনএন২৪.কম : ইজারা চুক্তি লংঘনের অভিযোগে চট্টগ্রাম সাংবাদিক কো-অপারিটভ হাউজিং সোসাইটির শেরশাহ সাংবাদিক হাউজিং এলাকায় বরাদ্দ প্রাপ্ত সুখময় চক্রবতী, শতদল বড়ুয়া, বাবুল চৌধুরীর প্লট সাময়িক ভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক কোঅপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লি.। 

মঙ্গলবার সকালে সমিতির রেজিষ্ট্রার্ড কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।  সভায় সমিতির শেরশাহ সাংবাদিক হাউজিং প্রকল্প- এর সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা, সমিতির কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি, অবৈধভাবে সমিতিকে বিভক্তি করনের চেষ্টাসহ সংগঠন বিরোধী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়। 

ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি স্বপন মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সমিতির সম্প্রতিক বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন সম্পাদক হাসান ফেরদৌস।  সভায় জানানো হয়, ১৯৮২ সালে মহামান্য রাষ্টপতির নির্দেশে ভূমি মন্ত্রণালয় পশ্চিম ষোলশহর মৌজার ১৬ একর জমি আবাসন বঞ্চিত সাংবাদিকদের আবসন গড়ে তোলার জন্য চট্টগ্রাম সাংবাদিক কোঅপারেটিভ হাউজিং সোসাইটিকে জেলা প্রশাসন ইজারা দেয়।  ইজারা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ৩০ বছরের জন্য আবারো ইজারা চুক্তি নবায়ন করেন। 

১৯৮২ সালে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউয়িন এবং চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাথে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের চট্টগ্রাম সাংবাদিক কোঅপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির সদস্য করা হয়।   এসব সদস্যদের ৭ হাজার টাকা সেলামীর ভিত্তিত্বে রেজিষ্ট্রার্ড ইজারা চুক্তিমুলে সিডিএ’র অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী সদস্যদের মধ্যে ৫কাঠা করে ১০৮টি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। 

সাংবাদিক হিসাবে বরাদ্দ পাওয়া এসব প্লটের অধিকাংশ ইজারা চুক্তি লংঘন করে বেআইনি ভাবে অসাংবাদিকদের কাছে বিক্রী করে দেন সমিতির কতিপয় সদস্য।  এসব অসাংবাদিক প্লট মালিক এবং সমিতির কিছু সদস্য বেআইনি ভাবে চট্টগ্রামের যুগ্ম শ্রম পরিচালকের দফতর থেকে নিজেদের বিভিন্ন পত্রিকার মালিক দেখিয়ে ব্যবসায়ী সমিতির নাম দিয়ে একটি ভূই ফোড় সংগঠনের নামে নিবন্ধন গ্রহন করে।  যা সম্পূর্ণ বেআইনি। 

পরস্পর যোগসাজশের কতিপয় সমিতির সদস্য ও অসাংবাদিক মিলে সাংবাদিকদের আবসন সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের দেয়া  কয়েক শ’ কোটি টাকার সম্পত্তি অবৈধ ভাবে আত্মসাতের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করা হয়।  সভায় এ ধরনের অপতৎরতার বিরুদ্ধে সমিতি পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান গ্রহণ এবং যারা সমিতির সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। 

সভায় সমিতির সহ সভাপতি সমীর কান্তি বড়ুয়া, কোষাধ্যক্ষ নুর উদ্দিন আহমেদ, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মঞ্জুর আলম মঞ্জু, মহসীন কাজী উপস্থিত ছিলেন। 

সভায় আবাসন বঞ্চিত সাংবাদিকদের জন্য তৃতীয় আবাসন প্রকল্পের কাজে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন, ৩০ নভেম্বরে মধ্যে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। 

সভায় তিন প্লট কেলেংকারীর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্বিতীয় আবাসন প্রকল্প কল্পলোক মিডিয়ার টাওয়ার নির্মাণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।  সভায় আগামী ১১ ডিসেম্বর সোমবার সকাল ১১টায় সমিতির বর্তমান কর্যক্রম নিয়ে সদস্যদের সাথে মতবিনিময় সভা করার  সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।