১১:১৭ এএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭, শনিবার | | ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

হবিগঞ্জে পূজার স্থান দখল নিয়ে হামলা ভাংচুর আটক ৭

০১ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৫:১০ পিএম | রাহুল


আখলাছ আহমেদ প্রিয়, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় পূজার স্থান দখলের চেষ্টার অভিযোগে ৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। 

এ ঘটনায় ৭ জন আহতও হয়েছেন।  আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।  শুক্রবার সকালে এই ঘটনা ঘটে।  আটককৃতরা হল, উপজেলার বানিয়াগাঁও গ্রামের মোতাব্বির হোসেন, আবুল হোসেন, কাছুম আলী, বেলায়েত মিয়া, ইসহান মিয়া, উত্থান মিয়া ও আব্দুস সাত্তার। 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের বানিয়াগাঁও গ্রামের কয়েকটি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবার তাদের দেবোত্তর সম্পত্তির উপর পূজার স্থান তৈরি করে বহুদিন যাবত সেখানে পূজা করে আসছিলেন।  ওই পূজার স্থানটি নিয়ে কয়েকটি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের সাথে কয়েকটি ইসলাম ধর্মাবলম্বী পরিবারের বিরোধ চলে আসছিল।  শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পূজার স্থানে মোতাব্বিরসহ তার লোকজনরা ঘর তৈরি করে কয়েকটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পরিবারের উপর হামলা চালায়।  এ সময় ৭ জন আহত হন। 

খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জসিম উদ্দিন, বাহুবল মডেল থানার ওসি মাসুক আলী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য শামীম মিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন।  এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জমিস উদ্দিন বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দোবোত্তর সম্পত্তি দখল করতে যায় মোতাব্বিরসহ তার লোকজন।  সেখানে একটি ঘর তৈরি করার সময় কয়েকটি হিন্দু পরিবারের উপর হামলা করে তাদের আহত করে।  আমি ভোর ৫টায় খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে যাই।  ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনকে আটক করা হয়।  মামলা প্রস্তুতি চলছে।  এদিকে সকাল ১০টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক মনীষ চাকমা ও পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা। 

বাহুবল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল হাই বলেন, দেবোত্তর সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ের বিধান নেই।  তারপরও যদি কোনো ধরণের লেনদেন হয়ে থাকে তা সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি না করে এ ধরণের আক্রমণ করায় প্রশাসনসহ সকলেই কঠোর হস্তে বিষয়টি দমন করেছে। 

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মনীষ চাকমা বলেন, এটি সাম্প্রদায়িক হামলা নয়।  এটি জমি সংক্রান্ত ঘটনায় সন্ত্রাসী হামলা।  প্রশাসন ও পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। 

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে।  ৭ জনকে গ্রেফতারের পাশাপাশি পুলিশও মামলাও নিয়েছে।  বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।