১১:১৯ এএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭, শনিবার | | ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

দু’দল জেলের সংঘর্ষে সুনামগঞ্জে পুলিশ সহ আহত ৬০

০২ ডিসেম্বর ২০১৭, ০১:৩০ পিএম | মুন্না


হাবিব সরোয়ার আজাদ, সিলেট প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের শনির হাওরে মাছ ধরার বাঁধ দেয়াকে কেন্দ্র করে দু’দল জেলের শুক্রবার দু’দফা সংঘর্ষে পুলিশ সহ কমপক্ষ্যে ৬০ জন আহত হয়েছে। 

উভয় পক্ষের গুরুতর আহত ২৫ জনকে রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল, জামালগঞ্জ ও বিশ্বম্ভপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, উপজেলার সদর সংলগ্ন বীরনগর গ্রামের পুর্বে পার্শ্বে থাকা শনির হাওরে মাছ ধরার জন্য বাঁধ দেয়াকে কেন্দ্র করে বীরনগর গ্রামের ইউপি সদস্য বাবুল মিয়া ও একই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বাধীন গ্রামের জেলেরা দু’দলে বিভক্ত হয়ে  শুক্রবার দুপুরে দিকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। 

প্রায় দু থেকে আড়াইঘন্টা ব্যাপী সংঘর্ষে মোহাম্মদ আলী গ্রæপের আবদুস ছালাম, রসিক, রনি, ফরহাদ, মাহমদ আলী, এমদাদ, বায়েজিদ, খাইরুল, মহিবুর, মুছাব্বির, শাহিন, আজহারুল. তাহের, শামিম, তাসলিমা বেগম, তাজমিন বেগম গুরুতর আহত হন। 

অপরদিকে ইউপি সদস্য বাবুল মিয়ার গ্রæপের ছালিক মিয়া, হাবিবুর রহমান, কালন মিযা, বদিউজ্জামান, অরিক, সাজিদ, নুর হোসেন, জালা, আপতু, হাবিবুর মাসুক, মাজেদা বেগম, রেহেন বেগম, চমক তারা, নাছিমা বেগম, জাহানারা বেগম গুরুতর আহত হন। 

এদিকে সংঘর্ষের পর পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে উভয় দলের গুরুতর আহত নারী সহ কমপক্ষে ২৫ জেলেকে রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল, জামালগঞ্জ ও বিশ্বম্ভপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। 

সংঘর্ষ চলাকালে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষ থামাতে গিলে থানার এসআই আমির, কনষ্টেবল নুরুল ইসলাম ও থানার নৌকার মাঝি হুময়াুন আহত হন।  পুলিশ ওই সময় ৫ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ সংঘর্ষকারীদের ছত্র-ভঙ্গ করে দেয়। 

থানা পুলিশ সংঘর্ষ স্থল থেকে ২০টি লোহার ছুলফি, ০৭টি ঢাল ও বাঁেশর চিকুনির তৈরী শতাধিক টেটা সহ বিভিন্ন ধরণের প্রাণঘাতি দেড় শতাধিক দেশীয় অস্ত্র জব্দ করে সন্ধায়। 

এছাড়াও শনির হাওরের বিবাধমান বাঁধের স্থানগুলো থেকে মাছ ধরার জাল, ছাই উদ্ধারের পর ৫টি বাঁধ ভেঙ্গে দিয়েছে।  এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকায় উভয় দলের খসরুল, কালা মিয়া ও আশিকনুর নামের তিন জেলেকে পুলিশ রাতে গ্রেফতার করেছে। 

উপজেলার বীরনগর গ্রামের মোহাম্মদ আলী সংঘর্ষের কারন জানাতে গিয়ে শুক্রবার রাতে বলেন, শনির হাওরের দুটি নির্ধারিত স্থানে প্রতি বছর বাঁধ দিয়ে বীরনগর-জয়নগর গ্রামের দু’দলের কয়েক শতাধিক জেলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে, আমার দলে থাকা জেলেদের হাওরের যে স্থানে বাঁধ দেয়ার কথা সেই স্থানে বাবুল মেম্বারের লোকজন বৃহস্পতিবার বাঁধ দেয়া শুরু করলে শুক্রবার আমার দলের জেলেরা ফের বাঁধ দিতে গেলে বাবুল মেম্বারের লোকজন হামলা করে এছাড়া তারা জয়নগর গ্রামের ১টি মুদি দোকান, ১টি বসতবাড়ি ও ১টি ধানের মিল ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুপাট চালিয়েছে। 

উপজেলা সদর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বীরনগর গ্রামের বাবুল মিয়া সংঘর্ষের কারন জানাতে গিয়ে শুক্রবার রাতে এ প্রতিবেদকের নিকট, মুদি দোকান, বসতবাড়ি ও ধানের মিলঘর ভাংচুর –লুপাটের অভিযোগ অস্বীকার করে বললেন, আমার দলের জেলা জাঙ্গালের নির্ধারিত স্থানেই বাঁধ দিয়েছে কিন্তু মোহাম্মদ আলীর দলের জেলেরা তাদের নির্ধারিত জাঙ্গােেলর এলাকা ছাড়াও আমার দলের জেলেদের জাঙ্গাল দখল করে বাঁধ দিতে গেলে এ সংঘর্ষেও সুত্রপাত তারাই প্রথমে ঘটায়। 

তিনি আরো বলেন, গ্রামের গরীব জেলেরা পেটের দায়ে, ছাই, গুই, কিরনমালা ছাই, কুনি জাল ফেলে মাছ ধরতে গেলেও মোহাম্মদ আলীর লোকজন মারপিট করে জেলেদের শনির হাওর থেকে তাড়িয়ে দেয়। 

তাহিরপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার রাতে জানান, সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ৫ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে, ঘটনার সাথে জড়িত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুর্ণেন্দ্র দে, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পশ্চিম) মো. হাবিবুল্লাহ ও তাহিরপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার শ্রী কানন কুমার দেবনাথ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।