৫:১৬ এএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭, সোমবার | | ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষককে পেটালেন যুবলীগ নেতা

০৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৫:৫৬ পিএম | মুন্না


কে.এম.রিয়াজুল ইসলাম, বরগুনা প্রতিনিধি : বরগুনার আমতলী খেকুয়ানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও যুবলীগ নেতা আব্দুস সোবাহান লিটন প্রধান শিক্ষক এসএম মহিউদ্দিন স্বপনকে পিটিয়ে আহত করেছে। 

এ ঘটনার বিচারের দাবীতে আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি উদ্যোগে রবিবার আমতলী পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।  এদিকে, এঘটনায় শনিবার রাতে আমতলী থানায় মামলা হয়েছে।  পুলিশ এক আসামীকে গ্রেফতার করেছে। 

জানা গেছে, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে মুঠোফোনে খেকুয়ানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম মহিউদ্দিন স্বপনকে বিদ্যালয়ে আসতে বলেন পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও আমতলী উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সোবাহান লিটন।  সম্প্রতি এ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারীর শূন্য পদে নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করাকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। 

সূত্র জানায়, প্রধান শিক্ষক বিধি মোতাবেক উক্ত পদে বিজ্ঞপ্তি দেয়ার কথা বলেন।  কিন্তু সভাপতি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে গোপনে তার পছন্দের প্রার্থী নিয়োগ দেয়ার জন্য প্রধান শিক্ষককে চাপ প্রয়োগ করেন।  এনিয়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে বসে পরিচালনা কমিটির সভাপতির সাথে প্রধান শিক্ষকের কথা কাটাকাটি হয়। 

এ সময় সভাপতি মোবাইল ফোনে তার ভাই সোহাগ, সান্টু, সোহরাব হোসেন ও স্ত্রীর বড় ভাই শিমন শরীফকে সেখানে ডেকে আনেন।  তারা সেখানে উপস্থিত হয়ে চাকু নিয়ে প্রধান শিক্ষককে ভয়ভীতি দেখায়।  এক পর্যায়ে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক চাবি ছিনিয়ে নিয়ে বিদ্যালয়ের ডেক্সটেবিল ড্রয়ার খুলতে গেলে প্রধান শিক্ষক এতে বাঁধা দেয়। 

এ সময় তারা প্রধান শিক্ষককে কিল, ঘুষি, লাথি মেরে তার পরনের জামা-গেঞ্জি ছিড়ে ফেলে।  প্রধান শিক্ষককে আহত করে পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুস সোবাহান লিটন বিদ্যালয়ের ডেক্সটেবিল ড্রয়ারে সংরক্ষিত থাকা নগদ ৮৬ হাজার টাকা ও তার ভাই সান্টু প্রধান শিক্ষকের পকেটে থাকা ৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় যায়। 

প্রধান শিক্ষকের ডাক চিৎকারে স্কুলের দপ্তরী জামাল ও বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (অবঃ) আঃ মান্নান ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।  এ সময় তারা বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎসাহী সদস্য ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানকে জানান।  ভাইস চেয়ারম্যান ও আমতলী থানার পুলিশ গিয়ে প্রধান শিক্ষককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে আমতলী থানায় নিয়ে আসেন। 

বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎসাহী সদস্য ও আমতলী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মজিবুর রহমান  বলেন, আমি ঘটনা শুনে পুলিশ নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে আহত প্রধান শিক্ষক এসএম মহিউদ্দিন স্বপনকে আমতলী থানায় নিয়ে আসি। 

বিদ্যালয়ের দপ্তরী জামাল হোসেন বলেন, পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুস সোবাহান লিটন ও তার ২ ভাই হেডস্যারকে তার কক্ষে আটকিয়ে মেরে জামা গেঞ্জি ছিড়ে ফেলেছে। 

প্রধান শিক্ষক এসএম মহিউদ্দিন স্বপন বলেন, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুস সোবাহান লিটন বিদ্যালয়ে তার পছন্দের প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে আমাকে নিয়োগ দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে।  এতে আমি রাজি না হওয়ায় সভাপতি ও তার ২ ভাই আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্জিত করে আমার পরনের জামা-গেঞ্জি ছিড়ে ফেলে।  তিনি আরও বলেন, পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুস সোবাহান লিটন বিদ্যালয়ের ডেক্সটেবিল ড্রয়ারে সংরক্ষিত থাকা নগদ ৮৬ হাজার টাকা ও তার ভাই সান্টু আমার পকেটে থাকা ৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় যায়। 

অপরদিকে এ ঘটনার সুষ্টু বিচার দাবীতে রবিবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি আমতলী পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল, উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন, নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে স্বারকলিপি পেশ ও আমতলী উপজেলার সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চলমান বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। 

আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব আবদুর রশীদের সভাপতিত্বে ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আমতলী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মজিবুর রহমান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাকসুদা আক্তার জোসনা, যুবলীগ সভাপতি জিএম ওসমানী হাসান, শিক্ষক রেজাউল করিম, নিয়াজ মোর্শেদ, দেলোয়ার হোসেন, শাহানাজ পারভীন পলি, সফিউল বাশার প্রমুখ। 

মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সরোয়ার হোসেনের মাধ্যমে বরগুনা জেলা প্রশাসক, চেয়ারম্যান, বরিশাল শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। 

এসব ব্যাপারে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি অভিযুক্ত আব্দুস সোবাহান লিটনের কাছে মুঠোফোনে  জানতে বার-বার কল দিলেও তিনি ফোন কল রিসিভ করেন নি। 

এদিকে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম মহিউদ্দিন স্বপন বাদী হয়ে পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুস সোবাহান লিটনসহ ৪ জনকে আসামী করে আমতলী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। 

আমতলী থানার ওসি মোঃ শহিদ উল্যাহ্ মামলার সত্যতা স্বীকার করে  বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত আসামী সোহরাব হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।  বাকী আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।