১০:২৬ এএম, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, শুক্রবার | | ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নে ‘রোডম্যাপ ঘোষনা’ করুন ; উষাতন তালুকদার

০৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৭:৪৯ পিএম | মুন্না


জিয়াউর রহমান জুয়েল, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা উন্নয়ন দিয়ে সমাধান হবেনা, এটা অর্থনৈতিক সমস্যা নয়।  এটা রাজনৈতিক সমস্যা-রাজনৈতিক ভাবেই এর সমাধান করতে হবে।  রাঙামাটির সংসদ সদস্য ও জেএসএস’র সহ-সভাপতি উষাতন তালুকদার এই মন্তব্য করেছেন।  পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২০ বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ভিডিও কনফারেন্সের প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন তিনি। 

সরকারের মধ্যে চুক্তি বিরোধীরা অবস্থান করায় প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা থাকলেও চুক্তি বাস্তবায়নের কাজ এগুচ্ছে না।  তাই চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ‘রোডম্যাপ ঘোষনা’ করতে হবে।  প্রধানমন্ত্রীর প্রতি পাহাড়ের মানুষের পূর্ণ আস্থা আছে বলেও দাবী তাঁর। 

শনিবার (০২ ডিসেম্বর) সকালে রাঙামাটি শহরের জিমনেসিয়াম চত্বরে আয়োজিত গণ সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।  পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দুই দশক পূর্তিতে চুক্তি পূর্নাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবিতে জনসংহতি সমিতি-জেএসএস আয়োজন করে সমাবেশটি। 

উষাতন বলেন, চুক্তি নিয়ে তিন জেলায় বিজয় উৎসব করা হচ্ছে, অথচ আমাদের মনে আনন্দ নেই, মনের দুঃখে প্রতিবাদ সমাবেশ করছি।  কিন্তু আমরাও আনন্দ ফুর্তি নিয়ে এই দিবসটি পালন করতে পারতাম !

প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তিন জেলার মানুষের সাথে প্রধানমন্ত্রীর কথা বলার ইচ্ছা থাকা সত্তেও কনফারেন্সে কারো সাথে কথা বলতে দেয়া হয়নি।  প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী চুক্তির ৪৮ ধারা পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে পাহাড়ের মানুষ অসন্তুষ্ট কেন, কেন নিরাপত্তাহীনতায় বসবাস করতে হবে ?-প্রশ্ন তাঁর। 

উষাতন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উপজাতীয় অধ্যুষিত অঞ্চল, তাই আমাদের শাসন আমরা করবো।  আমাদেরকে শাসন ক্ষমতা দিতে হবে।  স্থানীয় সাধারণ প্রশাসন, পুলিশ, ভূমি, বন ও পরিবেশ হস্তান্তর করতে হবে।  না হলে পার্বত্য সমস্যার সমাধান হবেনা। 
তিনি অভিযোগ করেন- পার্বত্য সমস্যা ছিল, চুক্তির পরও সমাধান হয়নাই।  ভূমি সমস্যা বন্ধ হয়নি।  এখনো পাহাড়িদের জমি দখল করা হচ্ছে।  কিন্তু চুক্তি বাস্তবায়ন যাতে না হয় তার জন্য নানা কৌশল নেয়া হচ্ছে। 

১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের স্থানীয় প্রশাসনের সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন।  এসময় প্রধানমন্ত্রী চুক্তি বাস্তবায়ন ও চুক্তির বাইরেও বিভিন্ন উন্নয়নের তথ্য দিয়ে বক্তব্য রাখেন। 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক হোসাইন কবির বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি বিরোধ সবচেয়ে জটিল, এটার সমাধান করা জুরুরী।  রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের অধিকার বুঝিয়ে দেয়া।  মিয়ানমারের মতো জাতিগত উগ্র সাম্প্রদায়িকতা যেন বাংলাদেশে নাহয়।  পার্বত্য চট্টগ্রামে তাই নানান জাতির বৈচিত্রতা বজায় রাখতে হবে। 

জেএসএস’র কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমা বলেন, অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে সন্ত্রাসির লেবেল লাগিয়ে দমন করা যাবেনা।  অথচ পার্বত্য সমস্যাকে সামরিক উপায়ে দমনের চেষ্টা করা হচ্ছে।  সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকরের কারণেই চুক্তি সম্পাদন হয়েছে।  এখন তাঁর কারণেই উদ্বাস্তু সমাধান স্থবির হয়ে পড়ে আছে। 

জনসংহতি সমিতি’র গণ-সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি শাখার সভাপতি সুবর্ণ চাকমা।  বক্তব্য রাখেন মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুপ্রভা চাকমা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক হোসাইন কবির, আদিবাসি ফোরামের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, চট্টগ্রাম কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড অশোক সাহা, জেএসএস’র কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমা, যুব সমিতির সাধারণ সম্পাদক অরুণ ত্রিপুরা ও পিসিপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন মারমা। 
এদিকে পার্বত্য চুক্তির দু’দশক পূর্তি উপলক্ষে শনিবার সকালে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়।  সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এর উদ্বোধন করেন।  পরে তিনি রাঙ্গামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গনে নির্ধারিত আলোচনা সভায় যোগ দেন। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীপংকর তালুকদার বলেন, বর্তমান সরকার পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে আন্তরিক।  কিন্তু জেএসএস চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারকে সহযোগিতা করছে না।  পার্বত্য চুক্তি নিয়ে কোন ধরনের রাজনীতি না করে নেতিবাচক মনোভাব পরিহার করে সরকারকে সহযোগিতা করারও আহবান জানান তিনি। 

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমার সভাপতিত্বে সমাবেশে সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান তরুন কান্তি ঘোষ, রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম ফারুক সহ প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তা ও আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।