১১:২১ এএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭, শনিবার | | ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

লাখো মুসল্লির টার্গেট নিয়ে

মুন্সীগঞ্জে তিন দিন ব্যাপি জেলা ইজতেমার শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন

০৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৫:০৮ পিএম | সাদি


শুভ ঘোষ, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : লাখো মুসল্লির আগমনের টার্গেট নিয়ে মুন্সীগঞ্জে তিন দিন ব্যাপি জেলা ইজতেমার আয়োজনের শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতির কাজ চলছে পুরোদমে।   জেলার সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভায় আগামী ৭ই ডিসেম্বর শুরু হতে যাচ্ছে তাবলিগ জামাতের তিনদিনের জেলা ইজতেমা।  এরই মধ্যে সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার ও ইজতেমার আয়োজন কমিটি। 

আগামী ৭ই ডিসেম্বর জোহর থেকে আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মিরকাদিম পৌরসভার ৬টি বিশাল আকারের মাঠে এই ইজতেমার আয়োজন।  যা ৯ই ডিসেম্বর দুপুর ১২টার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। 

ইজতেমায় জেলার ৬টি উপজেলা ও ২টি পৌরসভার মুসল্লিরা ছাড়া ও অংশ নিবেন ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, দুবাই সহ বিভিন্ন দেশের প্রায় শত শত মেহমান।  বিদেশী মেহমান সহ ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে থেকে ইজতেমায় প্রায় ৫ শতাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন সহ বিশেষ নিরাপত্তায় থাকবে অসংখ্য সিসি টিভি  ক্যামেরা বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। 

এরই মধ্যে ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের জন্য নৌ-পথে নৌপুলিশের সার্বক্ষনিক টহল ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।  রাস্তা ঘাট মেরামত, অসমতল ভূমি সমতল করণ, শৌচাগার, গোসলখানা, অজুখানা ও বিদেশী মেহমানদের জন্য থাকার ব্যবস্থার প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। 

ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের জন্য পানিয়, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার দিতে ইতি মধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। 

এই ইজতেমায় বিদেশী মেহমানসহ মুসল্লিদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা কাজ করে যাবে এবং বিশেষ নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা থাকছে বলে জানালেন মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, পিপিএম। 
তিনদিনব্যাপী এই ইজতেমাটি স্বার্থক ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্ঠা অব্যাহত থাকবে বলে জানালেন ধর্ম প্রাণ সকল মুসল্লিরা। 

এছাড়া, মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম শাহীনও সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।  এই ইজতেমাকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ইজতেমার মুরুব্বিদের দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে।  আজ দুপুরে মিরকাদিম পৌরসভা প্রাঙ্গণে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার তাবলিগ জামাতের মুরুব্বি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মিরকাদিম পৌরসভার মেয়রসহ কাউন্সিলরদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছেন।  মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম শাহীনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম।  সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শওকত আলম মজুমদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারি কমিশনার লিটন ঢালী প্রমুখ। 

এরআগে পুলিশ সুপার ও মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র ইজতেমার মাঠ পরিদর্শণ করেন।  এ সময় আকষ্মিকভাবে ইজতেমা ময়দানে এসে উপস্থিত হন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস।  তিনি বলেন, পবিত্র হজ্জের পর মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় বৃহত্তম তাবলিগ জামাতের ইজতেমা আমাদের দেশে অনুষ্ঠিত হয়।  বিদেশী মেহমান ও মুসল্লিদের মেহমানদারি করে আমাদের জেলাবাসী কৃতজ্ঞ ও ধন্য হবে।  পুলিশ ও মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র এই মেহমানদের গ্রহণ করতে প্রস্তুত আছে।  পানিয়, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যগত কোন সমস্যা হবে না।  এ সময় এই তিনদিন চমৎকার পরিবেশে মুসল্লিরা তাদের ইবাদত-বন্দেগি করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

তাবলিগ জামাতের উদ্দেশ্যে নিয়ে তাবলিগের সাথিরা জানালেন, টঙ্গীর তুরাগ তীরে মুসল্লিদের সংকুলান না হওয়ায় এখন ইজতেমা জেলায় জেলায় ভাগ করে দেয়া হয়েছে।  ইজতেমায় সাড়ে ৫ লাখ স্কয়ার ফিটের বিশাল প্যান্ডেল হচ্ছে।  ৬টি মাঠকে ৪টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।  এসব খিত্তায় মুসল্লিরা থাকবেন।  মাদ্রাসায় থাকবেন বিদেশি মেহমানরা।  ৬শ’ টয়লেট, ৩শ’ প্রসাবখানা সহ গোলস করার জন্য ১৬টি হাউজ প্রস্তুত করা হয়েছে। 

তিনদিনব্যাপী এই ইজতেমাটি স্বার্থক ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্ঠা অব্যাহত থাকবে বলে জানালেন, মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম শাহীন।  তিনি বলেন, ইজতেমা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে নিরলসভাবে কাজ করছেন।  ইজতেমাটি সুন্দর ও স্বার্থক হবে। 

তিনি বলেন, ৬টি মাঠে ৬টি উপজেলার মুসল্লিরা থাকবেন।  সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে মেডিকেল টিম ও জেলা পুলিশের মাধ্যমে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হবে।