২:০৮ পিএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার | | ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

রাঙামাটির নানিয়ারচরে সাবেক ইউপি সদস্যকে গুলি করে হত্যা

০৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৬:৫৫ পিএম | সাদি


জিয়াউর রহমান জুয়েল, রাঙামাটি প্রতিনিধি : রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে এক প্রাক্তন ইউপি সদস্য অনাদি রঞ্জন চাকমাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।  মঙ্গলবার (০৫ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার তৈচাকমা চিরঞ্জীব দজরপাড়া এলাকায় (১৮ মাইল এলাকা) এ ঘটনা ঘটে।  নানিয়ারচর থানার ওসি আব্দুল লতিফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।  তবে সাড়ে ৬টায় এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি। 

এ ঘটনার জন্য পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ থেকে বিভক্ত হওয়া নয়া সংগঠন ‘গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ’কে দায়ী করেছে ইউপিডিএফ।  নিজেদের নেতাকে হত্যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটি জেলায় সড়ক ও নৌপথে আধাবেলা অবরোধ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ইউপিডিএফ। 

এদিকে স্থানীয় সেনাবাহিনীর সহায়তায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।  নিহতের শরীরে সয়ংক্রিয় ভারি অস্ত্রের ৩টি গুলির ক্ষত রয়েছে বলে পুলিশ সুত্রে জানা গেছে। 

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে নিজ বাড়িতে অনাদি রঞ্জন চাকমা সকালের খাবার খাচ্ছিলেন।  তখন অতর্কিত ৬-৭ জনের একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে ব্রাশফায়ার করে চলে যায়।  এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।  তবে এ হামলায় আরও এক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 

নিহত অনাদিরঞ্জন পাহাড়িদের আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ এর সদস্য ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে সংগঠনটি। 

ইউপিডিএফ সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি অনিল চাকমা অভিযোগ করেন, মুখোশ বাহিনীর সন্ত্রাসী ‘গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ’ এর নেতা তপন জ্যোতির নেতৃত্বে এ হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে।  হত্যার প্রতিবাদে মঙ্গলবার নানিয়াচরে প্রতিবাদ সমাবেশ এবং রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক অবরোধ পালন করেছে নব্য মুখোশ বাহিনী প্রতিরোধ কমিটি। 

এঘটনায় ইউপিডিএফ সমর্থনপুষ্ট সংগঠন ‘নব্য মুখোশবাহিনী প্রতিরোধ কমিটি’র আহব্বায়ক ও ২ নম্বর নানিয়াচর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জ্যোতি লাল চাকমা মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। 

তিনি অবিলম্বে খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, ‘নব্য মুখোশ বাহিনীর সন্ত্রাসীরা নানিয়াচরে অবস্থান নেয়ার পর থেকে দিন দুপুরে বিভিন্ন গ্রামে ও থানা সদরে সশস্ত্র মহড়া, অপহরণ, লোকজনকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক চাঁদা দাবি করছে।  অথচ প্রশাসন নীরব রয়েছে।  প্রশাসনের এমন ভ‚মিকায় দুর্বৃত্তরা নিরীহ লোকজন খুন করার সাহস পাচ্ছে।