২:৪৭ পিএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, রোববার | | ৭ রবিউস সানি ১৪৪০




ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলা

পিতার হত্যার প্রতিশোধের ঘোষণা সালেহর পুত্রের

০৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ১০:১৫ এএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : ইয়েমেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট আলি আব্দুল্লাহ সালেহকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তার ছেলে আহমেদ আলি সালেহ।  সোমবার হুথিদের হামলায় নিহত হন সালেহ।  প্রায় তিন বছর ধরে হুথিদের সঙ্গে জোট গড়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন সালেহ ও তার সমর্থকরা। 

তবে ২ ডিসেম্বর সালেহ এক টেলিভিশন ভাষণে ইয়েমেনের উপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য সৌদি জোটের প্রতি আহ্বান জানান।  আনুষ্ঠানিকভাবে হুথিদের সঙ্গে জোটও ভেঙে দেন তিনি।  সৌদি জোটের সঙ্গে সংলাপে বসার ব্যাপারেও আগ্রহ প্রকাশ করেন সালেহ।  একে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে উল্লেখ করে হুথিরা।  সানায় শুরু হয় হুথি ও সালেহ সমর্থকদের সংঘর্ষ।  কয়েকদিন ধরে সংঘর্ষ চলার পর সোমবার নিহত হন সালেহ। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আহমেদ আলী সালেহ বলেছেন ‘ইয়েমেন থেকে সর্বশেষ হুথিকে তাড়ানো পর্যন্ত আমি যুদ্ধে নেতৃত্ব দেব।  আমার বাবার রক্ত ইরানের কানে নরকের শব্দ পৌঁছে দেবে। ’ এসময় হুথি মিলিশিয়াদের কাছ থেকে ইয়েমেনকে বাঁচাতে তার বাবার অনুসারীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।  আহমেদ আলী সংযুক্ত আরব আমিরাতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত ছিলেন।  এখন তাকে আবুধাবির একটি বাড়িতে বন্দি রাখা হয়েছে।  তবে বন্দি হওয়ার পর তার প্রথম বক্তব্য প্রকাশের খবরে ধারণা করা হচ্ছে, হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তার সাবেক শত্রু আরব আমিরাত তাকে ছেড়ে দেবে। 

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে তুমুল বিক্ষোভের মুখে তিন দশকের ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন সালেহ।  আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের সমর্থন নিয়ে গণভোটের ধাঁচে আয়োজিত এক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় বসেন উপ-প্রেসিডেন্ট আব্দ-রাব্বু মানসুর হাদি।  আর তার বিরুদ্ধে জোট গঠন করে সালেহ সমর্থক ও হুথিরা।  ২০১৪ সালে রাজধানী সানার দখল নেয় হুথিরা। 

সৌদি জোটের বিমান হামলা

এদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী ইয়েমেনের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত রাজধানীতে মঙ্গলবার ভোরে দিকে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করেছে।  স্থানীয় বাসিন্দারা একথা জানিয়েছে।  বিদ্রোহীদের হামলায় দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আলি আব্দুল্লাহ্ সালেহ্ নিহত হওয়ার পর এ হামলা চালানো হল।  প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সানার প্রাণকেন্দ্রের একটি ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে অন্তত সাত দফা হামলা চালানো হয়।  তাত্ক্ষণিকভাবে এতে ক্ষয়ক্ষতির কোন খবর পাওয়া যায়নি।