২:৪০ এএম, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, শুক্রবার | | ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

ময়মনসিংহের চরকালিবাড়ীতে প্রধান সড়কের পাশেই হাজার কোটি টন ময়লার জায়গা

০৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৮:১১ পিএম | সাদি


মিজানুর রহমান, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের চরকালিবাড়ীতে  প্রধান সড়কের পাশেই হাজার কোটি টন  ময়লার জায়গা  উৎকট গন্ধে আশেপাশের বাতাস ভারী, দুর্গন্ধ আর মশা-মাছি একাকার। পথ চলতে হয় নাক-মুখ চেপে। 

ময়মনসিংহ পৌরসভা থেকে ব্রীজ পার হলেই  শুরু চরকালিবাড়ী।  ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট মহাসড়কের উক্ত কালিবাড়ী নামক স্থানের রাস্তার পাশেই বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে হাজার কোটি টন ময়লার ভাগাড়।  লোকে বলে উন্মুক্ত ডাস্টবিন।  বছরের পর বছর এখানে জমছে ময়লার স্তুপ।  ফলে দুর্গন্ধে ঐ সড়ক ধরে চলাচল মুশকিল।  উৎকট গন্ধে আশেপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।  নাকে হাত দিয়ে নিশ্বাস বন্ধ করে ওই পথ পাড়ি দিতে হয় পথচারিদের।  জানা যায়-ময়মনসিংহ পৌরসভার ভিতর থেকে জমিয়ে রাখা ময়লা দীর্ঘদিন যাবত সেখানে ফেলা হয়।  পরিকল্পিত ব্যাবস্থাপনার অভাবে ওই এলাকার বাসিন্দারা অস্বস্তি প্রকাশ করেন।  বছরের পর বছর এ সমস্যা নিয়েই চলাচল করছেন এলাকাবাসী ও পথচারিরা। 

সেখানকার লোকদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, এই সমস্যা অনেক দিনের পুরনো, কিন্তু কোনভাবেই এর সমাধান হচ্ছেনা।  আসেপাশের দোকানিরা বলেন, এই জায়গায় কোন কাস্টমার কেনাকাটা করার জন্যে দাড়াতে চাননা, কোন কিছু খেতে চাননা।  ব্যাবসা পুরাটাই লসে থাকে।  প্রত্যেকের একই অভিযোগ, মেইন সড়কের পাশে এই সমস্যা দেখার কেউ নেই।  সেখানে শুধু ময়লা ঢেলেই ক্ষান্ত হয়না।  ময়লা ফেলার পর ভাঙ্গারি ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদের জন্যে কাঁচামাল সংগ্রহের কাজটিও করে থাকে ছোট ছোট শিশু ও নারীরা।  ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় সেখানে শিশুদের ময়লা ঘাটার কারনে আরো উৎকট গন্ধে চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠে।  আশপাশের দোকানি, পথচারি ও এলাকাবাসীর স্বাস্থ্য সমস্যাসহ মশা-মাছি জমেছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।  কর্তৃপক্ষের কোন নজরদারি নেই। 

এলাকাবাসীরা জানান, এই হাজার কোটি টন ময়লার ভাগাড়হ নিয়ে শুনেছি তা সঠিকভাবে ব্যাবস্থাপনা করা হবে, বায়োগ্যাস প্লান নির্মাণ করা হবে কিন্তু কিছুই করা  হচ্ছেনা।  তারা বলেন এই সড়ক ধরেই আমাদের ছোট বাচ্চা কিংবা অসুস্থ রোগিদের নিয়েও প্রতিনিয়ত চলাচল করতে হয়, ভালো লাগার কথা না কিন্তু এলাকাবাসীও এখন সহ্য করে নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।  যার কারনে হয়তো কেউ কিছু বলেনা।  কিন্তু এই সমস্যাটি সকলের জন্যে বিষফোঁড়া। 

সকাল, দুপুর, বিকাল কিংবা সন্ধার যে কোন সময় সেখানে ময়লা নামানো হয়।  এই পথ ধরেই হালুয়াঘাট, ফুলপুর, ধোবাউড়া, শেরপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ সহ ভিবিন্ন উপজেলার লাখো মানুষ যাওয়া আসা করে।  এই পথ দিয়েই চিকিৎসার জন্যে যাওয়া আসা করে শত শত রোগী।  এই পথে দিনের বেলায় জানজটে আটকা পড়ে থাকা রোগীসহ পথচারিদের দম বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা।