১১:০৯ এএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭, শনিবার | | ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

নানা সমস্যার মুখে মহামিলন এমাদ উদ্দিন কৃষি প্রযুক্তি ইন্সটিটিউট

০৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৮:৩০ পিএম | সাদি


আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাট জেলার সদর উপজেলার একমাত্র কৃষি ডিপ্লোমা কলেজ মহামিলন এমাদ উদ্দিন কৃষি প্রযুক্তি ইন্সটিটিউট।  প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই নদী ভাঙ্গনের শিকার এই কলেজটি।  প্রাকৃতিক বৈরীতার কারনে নানা সমস্যায় জর্জরিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে।  পরপর ৫ বার নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে নানা রকম সমস্যার সৃষ্টিার পাশাপাশি সর্বশেষ গেল ভয়াবহ বন্যায় প্রতিষ্ঠানটির যাতায়তের প্রধান রাস্তাটিও ধসে গেছে।  শিক্ষক-শিক্ষর্থীদের যাতায়াতে ভোগান্তির ফলে প্রায় ৬ মাস ধরে এক প্রকার বন্ধ রয়েছে পাঠদান। 

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়,‘ সদর উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লী খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের কালমাটি ছাকনা পাড়ায় তিস্তার কোলঘেষা স্বতী নদীর তীরে কোনরকমে দাড়িয়ে আছে প্রতিষ্ঠানটির টিন শেডের একাডেমিক ভবন। ’

এ সময় স্থানীয় মো. ইহসাক আলী সরকার, রিয়াজুল ইসলাম, হামিদুল ইসলামসহ অনেকের সাথে কথা হলে তারা জানান, “স্বতী নদীর ভাঙ্গনের ফলে এক-দুইবার নয় ৫ বার এক স্থান থেকে আর এক স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো। ’ এতে করে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২০০ শতাংশ জমি বিলীন হয়েছে নদীগর্ভে।  এমনকি কয়েকবার স্থানান্তরের ফলে টিনের বেড়া ও আসবাবপত্রের বেশ ক্ষতি হয়েছে।  ছাড়া তারা জানান, সব চেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে গেল বন্যায় যোগাযোগের প্রধান কাচাঁ রাস্তাটিও ধসে যাওয়ায়।  ফলে অনেকদিন থেকেই পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। 

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো বলেন,‘ আমরা প্রত্যন্ত এলাকার গরীব লোক।  বাড়ির কাছেই কম খরচে যুগোপযোগী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও সরকারের পৃষ্ঠোপোষকতার অভাবে বঞ্চিত হচ্ছে আমাদের ছেলেমেয়েরা। ’

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে কৃষি ডিপ্লোমা এই প্রতিষ্ঠানটি স্থাপিত হয় ২০০৬ সালে।  এরপরে পাঠদানের অনুমতি পায় ২০০৯ সালে।  এরপর এখন পর্যন্ত মোট ৫ টি ব্যাচ কোর্স সম্পন্ন কওে বের হয়েছে।  যাদের অনেকই এখন চাকুরীতে প্রতিষ্ঠিত।  বর্তমানে ৪ টি ব্যাচের মোট শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে।  গেল কয়েক বছরে ফলাফলের দিকেও বেশ সুনাম অর্জন করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।  বেসরকারী ভাবে পরিচালিত হওয়ায় শুধু মাত্র বোর্ড ফি দিয়েই এখানে পড়া লেখার সুযোগ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। 

প্রতিষ্ঠান সুত্রে জানাযায়, ৪ বছরে মোট ৮ সেমিষ্টারে মাত্র ৬২ হাজার টাকা খরচ হয় একেক জন শিক্ষার্থীর।  কিন্তু বার বার নদী ভাঙ্গন ও প্রাকৃতিক দূর্যোগের কবলে প্রতিষ্ঠানটি দাড়িয়েও দ্বাড়াতে পারছে না যেন। 

এ বিষয়ে কথা হলে প্রতিষ্ঠানটির ৩য় সেমিষ্টারের শিক্ষার্থী মাইনুল ইসলাম, ৫ম সেমিষ্টারের শিক্ষার্থী বিদ্যুৎ মিয়া, ৭ম সেমিষ্টারের শিক্ষার্থী লিপি রানী শর্মা বলেন,‘ নদী ভাঙ্গন তার উপর বন্যার উপদ্রব, ফলে রাস্তার ক্ষতি হওয়ায় এখন আর ক্লাশে যেতে পারেন না। ’ প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক কম খরচে এমন প্রতিষ্ঠান থাকায় তারা উপকৃত হচ্ছে জানিয়ে বলেন,‘ সরকারী ভাবে যেন তাদের কলেজের সকল সমস্যা সমাধান করা হয়। ’ এতে উপকৃত হবে অবহেলিত এলাকার শিক্ষার্থীরা। 

এ বিষয়ে কথা হলে মহামিলন এমাদ উদ্দিন কৃষি প্রযুক্তি ইন্সটিটিউট এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মিলন সরকার বলেন,‘ অবহেলিত জনপদের গরীব পরিবারের শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করেই নিজের ২০০ শতাংশ জমি সরকারের কাছে হস্তান্তর করে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেন তিনি। ’ কিন্তু গেল কয়েক বছরে পরপর ৫ বার নদী ভাঙ্গনের শিকার হওয়ায় বর্তমানে একাডেমিক ভবন অনেকটাই জীর্ণ হয়ে পরেছে।  রাস্তাঘাট বিলীন হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে ঠিকভাবে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না।  এছাড়াও এখানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা দরীদ্র পরিবারের হওয়ায় সেমিষ্টার ফিসহ বোর্ড নির্ধারিত অন্যান্য ফি ঠিকভাবে পরিশোধ না করায় আর্থিক সংকটেও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। 
অধ্যক্ষ আরো বলেন,‘ এ অবস্থায় অবহেলিত নদী বেষ্টিত জনপদের কথা বিবেচনা করে কারিগরি শিক্ষার বিস্তারের স্বার্থে সরকারী পৃষ্ঠোপোষকতা দরকার। ’

এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,‘ বর্তমান সময়ে কারিগড়ি শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। ’ তাই তিনি এই প্রতিষ্ঠানটির সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করবেন।