২:৩৫ এএম, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, শুক্রবার | | ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

বিশ্ব মানবাধিকার দিবসের নামে চাঁদা আদায় ; অবশেষে ফেরত

০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৫:৩৮ পিএম | নিশি


আব্দুল মান্নান, নওগাঁ প্রতিনিধি: বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালন উপলক্ষে নওগাঁয় বিভিন্ন অফিস ও সমিতি থেকে জেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারন সম্পাদক পরিচয় দিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।  উত্তোলিত চাঁদার টাকা আবার ফেরত দেয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। 

বুধবার বিকেলে নওগাঁ সদর দলিল লেখক সমিতি থেকে জেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারন সম্পাদক পরিচয় দিয়ে চাঁদা আদায় করেছেন আতিক রহমান নামে এক যুবক।  তিনি একুশে উদযাপন পরিষদ নওগাঁর সাধারন সম্পাদক বলেও জানা গেছে। 

জানা যায়, আগামী ১০ ডিসেম্বর জেলায় বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালন করা হবে।  এ লক্ষে আতিক রহমান বুধবার বিকেলে সদর দলিল লেখক সমিতি থেকে চাঁদা দাবী করেন।  এতে সমিতির আহবায়ক কমিটির মজিবর রহমান তাকে ২ হাজার টাকা দেন।  পরে বিষয়টি জেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটিকে অবগত করলে ওই যুবক কমিটির কেউ নয় বলে জানানো হয়। 

সমিতির আহবায়ক কমিটির সদস্য দেওয়ান মোস্তাক মাহমুদ বাবু ওই যুবককে চাপ সৃষ্টি করলে টাকা ফেরত দিতে চায়।  পরে দেওয়ান মোস্তাক মাহমুদ বাবু ওই ২ হাজার টাকা বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক রোটারিয়ান চন্দন দেবের কাছ থেকে টাকা ফেরত নিয়ে আসেন। 

এছাড়া আতিক রহমান একুশে উদযাপন পরিষদের নাম করে বিভিন্ন অফিস ও সমিতি থেকে চাঁদা আদায় করতেন বলেও অভিযোগ আছে।  চাঁদা না দিলে দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে তাদের অনিয়মের বিষয় জানানো হবে বলে বিভিন্ন ভাবে চাপ সৃষ্টি করা হতো।  চাঁদা আদায় করতে গিয়ে ইতোপূর্বে তিনি বেশ কয়েকবার লাঞ্ছিতের স্বিকার হয়েছেন।  আতিক রহমান সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন গন্যমাণ্য ব্যক্তিদের নিয়ে সমালোচনা ও কটুত্তি করেন।  এতে সমাজের কাছে ওই সব গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্মানের হানি ঘটছে ও হেয় প্রতিপন্ন হতে হচ্ছে। 

আতিক রহমান বলেন, ঘটনাটি সত্য নয়।  তবে মানবাধিকার দিবসের জন্য শুভাকাঙ্খিদের কাছ থেকে সহযোগীতা চাওয়া হয়েছিল।  সে লক্ষে দলিল লেখক সমিতি থেকে টাকা নিয়ে এসেছিলাম।  তবে কতিপয় কিছু ব্যক্তি ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করছে। 

জেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক কায়েস উদ্দিন বলেন, চাঁদা আদায়ের অভিযোগের বিষয়টি ওই সমিতি থেকে আমাকে অবগত করা হয়েছে।  তাৎক্ষনিক ভাবে বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমানকে জানিয়েছি।  তিনি পদক্ষেপ গ্রহন করবেন বলে জানান। 

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক রোটারিয়ান চন্দন দেব বলেন, কিছু ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিল।  দলিল লেখক সমিতিকে পুনরায় টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।