১:২৯ পিএম, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭, সোমবার | | ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

দুই খুনের ৪৮ ঘন্টার মাথায় এবার মহিলালীগের নেত্রীকে কুপিয়ে জখম

০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৭:০৫ পিএম | নিশি


জিয়াউর রহমান জুয়েল, রাঙামাটি প্রতিনিধি : একই দিনে দুই খুনের ৪৮ ঘন্টার মাথায় এবার রাঙামাটি জেলা মহিলালীগের সহ-সভাপতি ঝর্ণা খীসা(৫৫)কে এলোপাথারি কুপিয়ে জখম করেছে একদল সন্ত্রাসি। 

বুধবার রাত ১টার দিকে শহরের বিজয় নগরের ভালেদী আদাম তাঁর বাসায় ১৫ থেকে ২০ জনের একদল মুখোশপড়া যুবক হামলা চালায়।  এতে ঝর্ণা খীসার স্বামী জীতেন্দ্র লাল চাকমা(৬৫) ও তার ছেলে রমন কৃষ্ণ চাকমা(২৩)ও আহত হন।  এসময় ভাংচুর করা হয়েছে ঘরের আসবাবপত্র।  তবে ঝর্ণা খীসার উপর হামলার ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে মন্তব্য করেছেন রাঙামাটি পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান। 

মাথা ও হাতে মারাত্মক জখম ও গুরুতর আহত অবস্থায় ঝর্ণা খীসাকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।  অবস্থার অবনতি হওয়ায় দুপুরেই তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।  বুধবার (৬ ডিসেম্বর) হরতাল উত্তর সমাবেশে স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ার কারণে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে। 

ঝর্ণা খীসার স্বামী জীতেন্দ্র লাল চাকমা জানান, রাতে মুখোশধারীরা তার ছেলের নাম ধরে দরজা খুলতে বলে।  দরজা খুলতেই জোড় করেই ঘরে প্রবেশ করে বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে দেয়।  এসময় ঝর্ণা খীসাকে এলোপাথারি কোপানো শুরু করে।  বাধা দেয়ায় তাদের উপরও হামলা চালায় তারা।  চাকমা ভাষায় কথা বলা যুবকেরা বলতে থাকে ‘কিত্তে আওয়ামীলীগ গরর, আওয়ামীলীগ শেজ গরিবং’ অর্থাৎ কেন আওয়ামীলীগ কর, আওয়ামীলীগ শেষ করবো।  ঝর্ণাকে মৃত ভেবে দুর্বত্তরা চলে গেলে প্রতিবেশিরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। 

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে রাঙামাটির নানিয়ারচরে ইউপিডিএফ নেতা অনাদি রঞ্জন চাকমাকে গুলি করে হত্যা করে।  এঘটনার জন্য “গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ”কে দায়ী করেছে ইউপিডিএফ।  একই দিন মাত্র ১১ ঘন্টার ব্যবধানে সন্ধ্যায় জুরাছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অরবিন্দু চাকমাকে গুলি করে হত্যা করে দুবৃত্তরা।  একই দিন বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি রাসেল মার্মাকেও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে সন্ত্রাসীরা।  এই দুই ঘটনার জন্য পাহাড়িদের আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএস কে দায়ি করেছে জেলা আওয়ামীলীগ।  এ হত্যাকন্ডের প্রতিবাদে বুধবার জুরাছড়ি উপজেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করে ও বৃহস্পতিবার রাঙামাটি সদর ও ১০ উপজেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করে আওয়ামীলীগের নেতারা।  একইদিন এছাড়া রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক ও নৌপথে আধা বেলা অবরোধ কর্মসূচি পালন করে ইউপিডিএফ। 

এদিকে অরবিন্দু চাকমা হত্যার প্রতিবাদে ও পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবিতে রাঙামাটিতে জেলা আওয়ামীলীগের হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে।  হরতালের সমর্থনে শহরের কয়েকটি স্থানে পিকেটিং এর পাশাপাশি মিছিল করেছে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।  হরতালের কারণে বৃহষ্পতিবার সকাল থেকে জেলার দশ উপজেলায় দূরপাল্লার ও আভ্যন্তরীন সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ ছিল।  খোলেনি দোকান পাটও।  সন্ধ্যায় রাঙামাটি জেলা যুবলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আকবর হোসেনের নেতৃত্বে বনরূপা বিএম মার্কেটের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। 

আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন ছিলো অতিরিক্ত পুলিশ।  শহর জুড়েই টহলে ছিলো সেনাবাহিনী।  তবে সন্ধ্যা ৭টায় এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জেলার কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। 

রাঙামাটি পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান বেলা সোয়া ২টায় জানান, সার্বিক আইনশৃঙখলা পরিস্থিতি ভালো আছে।  ঝর্ণা খীসার উপর হামলার ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।  এছাড়া দুজন খুন ও একজনের উপর হামলার ঘটনায় দোষীদের  ধরতে অপারেশন চালাচ্ছে আইনশৃঙখলা বাহিনী। 

তবে জনমনে আতংক তৈরীর বিষয়ে তিনি বলেন, জনমনে আতংক তৈরী হওয়াটা স্বাভাবিক, কিন্তু  আইনশৃঙখলা পরিস্থিতির অবনতির কোন আশংকা নেই