১০:৫২ পিএম, ২১ জানুয়ারী ২০১৮, রোববার | | ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

২৮ বছর ধরে নির্জন 'গোলাপি দ্বীপে' একাকী এই বৃদ্ধ!

২১ ডিসেম্বর ২০১৭, ১১:৪২ এএম | মুন্না


এসএনএন২৪.কম : মওরো মোরান্ডি।  ৭৮ বছর বয়সী এ বৃদ্ধের নির্জন দ্বীপে একাকী থাকার গল্পটা বেশ চমকপ্রদ।  ২৮ বছর ধরে তিনি জনশূন্য বুদেল্লি আইল্যান্ডে একাকী বাস করছেন।  বুদেল্লি আইল্যান্ডের নির্জনতা ও নিঃশব্দ পরিবেশের প্রেমে পড়ে গেছেন।  এ দ্বীপের সৌন্দর্যের কাছে হেরে যায় শহরের কোলাহল।  তাই কখনোই চলে যেতে চাননি এ দ্বীপ ছেড়ে। 

১৯৮৯ সালে একটি ভগ্নপ্রায় কাঠের নৌকায় ভাসতে ভাসতে বুদেল্লি দ্বীপে পৌঁছান মোরান্ডি।  দ্বীপে পৌঁছানোর পর তিনি জানতে পারেন সেখানকার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত কেয়ারটেকার দু’দিনের মধ্যে অবসরে যাচ্ছেন। 

তার বদলে কে এই দ্বীপের কেয়ারটেকারের দায়িত্ব নেবে তা তখনও নির্ধারণ করা হয়নি।  সুযোগটি লুফে নেন মোরান্ডি।  নিজের নৌকাটি বিক্রি করে লেগে পড়েন জনশূন্য দ্বীপ দেখভালের কাজে।  শুরু হয় তার একাকী জীবন। 

ভূমধ্যসাগরীয় মাদ্দালিনা দ্বীপপুঞ্জের সাতটি দ্বীপের মধ্যে একটি বুদেল্লি আইল্যান্ড।  অনন্য সুন্দর এ দ্বীপকে বলা হয় গোলাপি দ্বীপ।  গোলাপি রঙের বালুর কারণে দ্বীপটি অনন্যরূপে ধরা দেয় মানুষের চোখে।  নীল জলরাশি দিয়ে ঘেরা এ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের কোনো তুলনা নেই। 

কিন্তু নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ইতালি সরকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য দ্বীপে মানুষ চলাচল বন্ধ করে দেয়।  দ্বীপের সুনসান নীরবতায় কাটতে থাকে মোরান্ডির একাকী জীবন।  পাতার ছাউনির ঘরে রাত কাটে তার।  দ্বীপের পাথুরে অঞ্চলে ঘুরে বেড়ান এবং গাছপালার দেখাশোনা করেন।  কখনো কখনো ধ্যানে মগ্ন থাকেন।  কখনো নীল জলরাশির দিকে তাকিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য আহরণ করেন। 

ন্যাশনাল জিওগ্রাফির প্রতিবেদনে মোরান্ডি বলেন, মানুষ মনে করে তারা পৃথিবীকে শাসন করা দৈত্য।  কিন্তু আসলে প্রকৃতির কাছে আমরা ক্ষুদ্র একটা মাছির সমান।  বই পড়তে খুবই ভালোবাসেন বৃদ্ধ মোরান্ডি।  দুই সপ্তাহ পরপর একজন ব্যক্তি তাকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও বইপত্র দ্বীপে পৌঁছে দেয়।  এভাবেই নির্জন দ্বীপে কেটে যায় মোরান্ডির একাকী ২৮টি বছর। 

২০১৬ সালে শুরু হয় এক ঝামেলা।  দ্বীপের মালিকানা নিয়ে নিউজিল্যান্ডের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে আইনি লড়াই বেঁধে যায় ইতালি সরকারের।  লড়াইয়ের এক পর্যায়ে সবার নজর যায় বৃদ্ধ মোরান্ডির দিকে।  আইনি লড়াইয়ের পর দ্বীপে বসবাসকারী এ বৃদ্ধের কি হবে? সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধের পক্ষে দাঁড়িয়ে যায় ১৮ হাজার মানুষ।  পিটিশনে স্বাক্ষর করে তারা জানায়, দ্বীপটি আর কারো নয়, এ বৃদ্ধের।  তাকে সেখান থেকে সরানো যাবে না। 

প্রকৃতিপ্রেমী মোরান্ডিও এ দ্বীপ ছেড়ে কোথাও যেতে চান না।  তিনি চান, মৃত্যুর পর যেন তার ভস্ম বুদেল্লি দ্বীপের বাতাসে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।  তিনি বিশ্বাস করেন, পৃথিবীর সব শক্তিই এক।  সবাইকেই এক সময় প্রকৃতির কাছে ফিরে যেতে হবে যেখান থেকে সে এসেছে। 

Abu-Dhabi


21-February

keya