৭:২৪ এএম, ২৮ মে ২০১৮, সোমবার | | ১৩ রমজান ১৪৩৯

South Asian College

ধুনটে যমুনা চরের বালিয়াড়িতে বাধা বাস্তুহারাদের জীবন

২৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৭:৫৩ পিএম | সাদি


এম. আর আলম, বগুড়া প্রতিনিধি: চারিদিকে অথৈ জলরাশি।  তার বুকে বিশাল চর।  সকাল থেকে সন্ধা বাস্তুহারাদের পদচারনা।  সূর্য্যের আলোতে চিক চিক করে ঢেউ খেলে যায়।  চরের বালিয়াড়িতেই বাস্তুহারাদের বেচে থাকার লড়াই।  এটা চলে আসছে বছরের পর বছর ধরে।  কোন ভাবেই ভাগ্যের পরিবর্তন আসছে না।  তবুও দিন বদলের আশায় বালিয়াড়িতে বাধা পড়ে আছে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা চরের হাজারো মানুষের জীবন।  

উপজেলার পূর্বদিকে যমুনা নদী।  প্রায় ৫০ বছর ধরে অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হয়েছে ১৪টি গ্রামে।  বাস্তুহারা হয়েছে প্রায় ২০ হাজার পরিবার।  এদের মধ্যে কেউ অন্যত্র চলে গেছে।  অনেকে জন্মভ‚মির মায়া ছাড়তে না পেরে বাঁধেই আশ্রয় নিয়েছে।  এদিকে প্রায় ২২ বছর ধরে নদীর পূর্বতীরে চর জেগে উঠছে।  প্রতিবছরই চরের আয়তন বাড়ছে।  চরে বসিত গড়ে তুলেছে প্রায় এক হাজার পরিবার। 

সরেজমিন চরবাসির সাথে কথা বলে নানা তথ্য পাওয়া যায়।  স্বাভাবিক বন্যা হলে চরের অধিকাংশ বাড়িঘর ডুবে যায়।  মানুষের কষ্ট বাড়ে।  সীমাহীন কষ্টের মধ্যেও চরের মানুষ চরেই থাকে।  নানা দুর্যোগে প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে চরের মানুষ।  অতি বন্যা, ভাঙ্গন আর রোদের খরতাপে চরের মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।  তারপরও চরের মানুষ কখনও পিছু পা হয় না।  চর ছেড়ে অন্যত্র যেতে চায় না।  পরিস্থিতি মানিয়ে চরেই জীবিকা নির্বাহ করে। 

ঋতু পরিবর্তনের সাথে চরের মানুষের পেশাও বদল হয়।  বর্ষায় নৌকার মাঝি, শুকনো মৌসুমে কৃষক।  কখনও জেলে আবার কখনও ঘাটের কুলি।  হাজরো সমস্যা বুকে আগলে ধরে চরের মানুষ পড়ে থাকে চরে।  সারাদিনের পরিশ্রান্ত শরীর এলিয়ে বালিয়াড়িতে তৈরী ছনের ঘরেই পরম সুখে ঘুমায়।  স্থায়ী সমতল ভূমি চরের মানুষকে আকর্ষণ করে না। 

নদীর টানেই চরের মানুষ আশায় বুক বেঁধে পড়ে থাকে জরাজীর্ণ ছনের ঘরে।  বুক ভরা আশা, যে নদী দিনের পর দিন তাদের সর্বস্ব গ্রাস করেছে সে নদীই একদিন ফিরিয়ে দেবে বাপ-দাদার জমি জিরাত।  এই আশা নিয়ে মৌসুমে মৌসুমে নদী আর প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেছে চরের মানুষ।  শত দুঃখ ক্ষুধার যন্ত্রনা সইয়ে অভাব অনটন নিয়ে চরের বালিয়াড়ি আঁকড়ে ধরে আছে। 

প্রতিনিয়ত বৈরী প্রকৃতির সাথে লড়াই করছে।  লড়াই করছে নদীর নিষ্ঠুর ভাঙ্গনের সঙ্গে।  বিশাল চরে বসত করা এসব মানুষ নদীর গতি প্রকৃতির সাথে পাল্লা দিয়ে বেঁচে থাকতে চায়।  তাদের মনে বদ্ধমূল ধারণা, ভাঙ্গা গড়াই নদীর খেলা।  তাই একদিন ফিরে পাবে যমুনা নদীতে হারানো পুরানো মাটি।