৮:৫১ এএম, ২৪ এপ্রিল ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৮ শা'বান ১৪৩৯

South Asian College

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হার্টের ভালভ ও পেসমেকারের দাম নজরদারির

২৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৯:৪৬ এএম | রাহুল


এসএনএন২৪.কম : দরোগের (হার্টের) চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত ভালভ ও পেসমেকারের খুচরা দাম নজরদারির পরামর্শ দিয়েছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা। 

তাদের দাবি, সম্প্রতি জীবন রক্ষাকারী এ পণ্য দুটির দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর।  ফলে এর সুফল নিশ্চিত করতে অবশ্যই সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নজরদারি বাড়াতে হবে। 

১৯ ডিসেম্বর হার্টের ভালভ ও পেসমেকারের সর্বোচ্চ খুচরা দাম (এমআরপি) নির্ধারণ করা হয়।  ওইদিন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছিলেন, ‘দেশে প্রথমবারের মতো পণ্য দুটির খুচরা দাম নির্ধারণ করা হলো।  এখন থেকে দেশের সব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত এই দামেই এসব ডিভাইস বিক্রি করতে হবে।  মডেল ও কোম্পানিভেদে হার্টের ভালভের দাম চার হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২৬ হাজার টাকা পর্যন্ত এবং পেসমেকারের দাম ৫ হাজার টাকা থেকে ৪ লাখ ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত কমেছে। 

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. আবদুল মালিক বলেন, ‘আগে বিভিন্ন হাসপাতালে পণ্য দুটির দাম বিভিন্ন রকম ছিল।  এখন সবখানে একই দাম থাকবে।  ফলে রোগীরা উপকৃত হবেন। 

এ প্রসঙ্গে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক আফজালুর রহমান বলেন, হার্টের ভালভ ও পেসমেকারের দাম নির্ধারণ করায় রোগীরা উপকৃত হবেন।  তবে এর জন্য স্বচ্ছতা থাকা জরুরি।  এতদিন রোগীর আত্মীয়-স্বজনের কাছে মূল দামের কয়েকগুণ বেশি দাম চাওয়া হতো।  কারণ, বিষয়টি নিয়ে ফেক মার্কেটিং চলছিল।  এখন এটা বন্ধ হবে, স্বচ্ছতা আসবে।  রোগীরা এখন থেকে সব হাসপাতাল থেকে একই দামে পণ্য দুটি কিনতে পারবেন।  তবে ইমপ্ল্যান্ট খরচ হাসপাতাল ভেদে ভিন্ন হবে। 

তিনি আরও বলেন, পণ্য দুটির দাম কমানোর বিষয়টি একটি অবিস্মরণীয় বিজয়।  এখন যেহেতু পেসমেকারের দাম ১০ হাজার-১০ লাখ টাকা পর্যন্ত কমেছে।  তাই বিষয়টি নিয়ে মনিটরিং দরকার।  ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর এবং গণমাধ্যম উভয়েই মনিটরিং করতে পারে। 

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মীর্জা নজরুল ইসলাম বলেন, প্রত্যেক হাসপাতালে যদি পণ্য দুটির দামের তালিকা টাঙানো থাকে তাহলে রোগীরা উপকৃত হবে।  তা না হলে রোগীরা আগের মতোই প্রতারণার শিকার হবে।  আর এ জন্যই কঠোর মনিটরিং করা প্রয়োজন। 

তিনি আরও বলেন, প্রকার ভেদে পেসমেকারের দাম ৫৯ হাজার-১০/২০ লাখ টাকা পর্যন্ত।  ভালবও বিভিন্ন ধরনের আছে।  যে দামের ভালভ রোগীকে দেওয়া হবে তার দামের ডুপ্লিকেট কাগজপত্র রোগীকে দিতে হবে।  রোগীর কাছে এগুলো সবসময় থাকবে এবং তিনি এগুলো সবখানে দেখাতে পারবে। 

অধ্যাপক ডা. মীর্জা নজরুল ইসলাম বলেন, সব পেশায় সৎ-অসৎ মানুষ আছেন।  কেউ নিজে সৎ বলে ডাক্তারকেও সৎ ভাবলে ভুল হবে।  কারণ তারাও কম দামের ভালভ বা পেসমেকার লাগিয়ে বেশি দাম নিতে পারেন।  জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, চায়নার পেসমেকার আছে।  ডাক্তার রোগীকে চায়নাটা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রেরটার সমান দাম রাখতে পারেন।  তাই মান অনুযায়ী পণ্য দুটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।  এখন সাধারণ মানুষ দাম কমানোর বিষয়টি সেভাবে বুঝবেন না।  তাই সবাইকে অসৎ ভেবে পণ্যে দাম যাচাই করতে হবে।  কোন কোম্পানির ভালব বা পেসমেকার কেনা হলো সেটা  রোগীর অবশ্যই জানতে হবে। 

Abu-Dhabi


21-February

keya