৬:৩৪ পিএম, ২৪ এপ্রিল ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৮ শা'বান ১৪৩৯

South Asian College

ফেইসবুকে নগ্ন ছবি প্রকাশে ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

০৩ জানুয়ারী ২০১৮, ০৫:৪৭ পিএম | মুন্না


মোঃ শাহজাহান ফকির, নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভা এলাকার জনৈক ছাত্রীর ছবি কে বা কাহারা কারসাজি করে নগ্ন ছবি একটি ফেসবুক আইডিতে প্রচার করে।  তা দেখে হতভম্ব হয়ে যায় কয়েক ছাত্র ও যুবক।  পরে তারা ঘটনাটি ছাত্রী এবং তার পরিবারকে জানায়। 

ঘটনাটি জানতে পেরে ছাত্রীটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়।  তাকে পাহারায় রাখছে পরিবারের লোকজন। 

এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা শুক্রবার রাতে নান্দাইল মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।  অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি এই কারসাজি করে ওই ছাত্রীর ছবির মাথা কেটে নগ্ন এক মহিলার ছবির সঙ্গে যুক্ত করেছে। 

জানা যায়, ছাত্রীটি আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে।  তাই লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত।  হঠাৎ এলাকার কয়েক ছাত্র যুবকের কাছ থেকে সে জানতে পারে, তার চেহারার মতো একজনের নগ্ন ছবি রয়েছে ফেসবুকে।  পরে সে অন্য একজনের মোবাইল ফোন দেখে নিশ্চিত হয়, এর পর থেকে সে লজ্জায় ঘর থেকে বের হয় না।  ছাত্রীটি বলে, এখন আর এ জীবন রেখে লাভ কী। 

ছাত্রীটি জানায়, সে যখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে তখন তার চাচাতো ভাই তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়।  কিন্তু সে তাঁকে (চাচাতো ভাই) বড় ভাইয়ের মতো শ্রদ্ধা করে বলে জানায়।  এর পরও তিনি ছাত্রীটির পিছু লেগে থাকেন।  এমনকি বাড়ির মুঠোফোনে অশালীন ও আপত্তিকর এসএমএস  পাঠিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন।  কিন্তু ছাত্রীটির পরিবারের সদস্যরা তার (ছাত্রী) মান-সম্মানের কথা চিন্তা করে বিষয়টি কাউকে জানায়নি।  পরে চাচাতো ভাই অন্যত্র বিয়ে করলে ওই তৎপরতা থেমে যায়। 

ওই ফেসবুক আইডির পাতায় দেখা যায়, ছাত্রীটির ওই ছবির সঙ্গে এক পুরুষের নগ্ন ছবি যুক্ত রয়েছে।  ছবিটির ওপর তার বাড়ির মুঠোফোন নম্বরও দেওয়া হয়েছে। 

ছাত্রীটি জানায়, এখন মানুষ তার বাড়ির মুঠোফোনে ফোন করে অশালীন কথাবার্তা বলছে।  এই ভয়ে বাড়িতে ফোন বাজলেও পরিবারের কেউ ফোন ধরছে না।  ছাত্রীটি বলে, আমার বাবা খেটে খাওয়া মানুষ।  বাবার কাছেও ফোন করে তাঁর সম্পর্কে অশালীন কথা বলছে।  লজ্জায় নিজেকে ঘরে আটকে রেখেছি। 

ছাত্রীটির বাবা বলেন, আমি তো ফেসবুক বুঝি না।  কিন্তু এইভাবে আমার মেয়ের ইজ্জত নষ্ট করায় এখন আমি কী করব বুঝতে পারছি না।  কে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত তা-ও বোঝা যাচ্ছে না।  থানার পুলিশ এর সঠিক তদন্ত করে বিচার করতে পারলেই আমি সহ মেয়েটি বেঁচে যাই। 

নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সরদার মো. ইউনুস আলী জানান, জিডির বিষয়বস্তু ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তথ্য-প্রযুক্তি শাখার সহায়তায় তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীকে খোজেঁ বের করার জোর চেষ্টা অব্যাহত আছে। 

Abu-Dhabi


21-February

keya